The DU Speech https://www.duspeech.com/2023/01/khiyang-main-program%20.html

খিয়াংদের প্রধান উৎসবের নাম কি ? | খিয়াংদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

খিয়াংদের প্রধান উৎসবের নাম কি? এ সম্পর্কে অনেকে জানতে চেয়েছেন। আজকে আমরা আপনাদের সাথে আলোচনা করবো খিয়াংদের প্রধান উৎসবের নাম কি? এ বিষয় সম্পর্কে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর্টিকেল রাইটিং সংগঠনের আজকের আর্টিকেলের মূল বিষয় খিয়াংদের প্রধান উৎসবের নাম কি? খিয়াংদের প্রধান উৎসব এবং খিয়াং সম্প্রদায় সম্পর্কে সকল কিছু জানতে আজকের আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়ুন।

আর্টিকেল সূচিপত্র (যে অংশ পড়তে চান তার ওপর ক্লিক করুন)

  1. খিয়াং সম্প্রদায়
  2. খিয়াংদের ইতিহাস
  3. খিয়াংদের ধর্ম
  4. খিয়াংদের পেশা
  5. খিয়াংদের প্রধান উৎসব
  6. সামাজিক রীতিনীতি
  7. বিবাহের নীতি
  8. খিয়াং নারীদের উত্তরাধিকার
  9. লেখকের মন্তব্য

১.খিয়াং সম্প্রদায় | খিয়াংদের প্রধান উৎসবের নাম কি ?

বাংলাদেশে বসবাসরত ৪৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে একটি হলো খিয়াং সম্প্রদায়। রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় তাদের বসবাস। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী খিয়াংদের বড় অংশ খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছে। তাদের বড় সামাজিক উৎসবের নাম ‘হেনেই’। পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকলেও তাদের সমাজে ঘরজামাই যাওয়ার প্রচলন রয়েছে। নিজস্ব ভাষা থাকলেও বর্ণমালা নেই। তারা অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় জাতি।

খিয়াংদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি আছে। কিন্তু তা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। দারিদ্র্য আর পরিবারের হাল ধরতে গিয়ে শিক্ষাকে বিসর্জন দিতে হয় খিয়াং ছেলেদের। মেয়েরা পারিবারিক ও সরকারিভাবে শিক্ষার সুযোগ পেলেও তাদের অনেকে অন্য সম্প্রদায়ে বিয়ের বন্ধনে জড়িয়েছেন। এতে কমেছে খিয়াংদের সংখ্যা, তেমনি হারিয়ে যাচ্ছে ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য। এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে কোথাও নেই খিয়াংদের জনপ্রতিনিধি।

বাংলাদেশে রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলায় খিয়াং জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। রাজস্থলী উপজেলার কুক্যাছড়ি, জিম্রম, ধনুছড়া, আরাছড়ি মৌজায় এবং চন্দ্রঘোনা মিশন পাড়ায় তাদের সংখ্যা বেশি। এছাড়া বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি, নাইক্ষ্যংছড়ি এবং থানচি উপজেলায়ও কিছুসংখ্যক খিয়াং বসবাস করে। ১৯৮১ এবং ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুসারে খিয়াং জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা যথাক্রমে ৫,৪৫৩ এবং ১,৯৫০। তবে তাদের মোট জনসংখ্যা প্রায় চার হাজার হবে বলে খিয়াং সম্প্রদায়ের নিজস্ব জরিপ দাবি করে আসছে।

২.খিয়াংদের ইতিহাস | খিয়াংদের প্রধান উৎসবের নাম কি ?

খিয়াং ইতিহাস বা ঘটনাপঞ্জি অনুসারে জানা যায়, যখন তাদের রাজ্য বার্মায় (বর্তমান মায়ানমারে) বার্মিজ দ্বারা তাড়িত হয়েছেন, তখন তারা রাজাসহ চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে প্রবেশ করে। কিন্তু পরে রাজা পুনরায় বার্মায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু তার ছোট রাণী গর্ভবতী হওয়ার কারণে তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি। রাণী কিছু অনুসারি ও আত্মীয়স্বজন সহ পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে গেলেন। বর্তমান খিয়াং এ-রাণীরই প্রজন্ম ও অনুসারি নিয়ে গড়ে ওঠা জনসম্প্রদায়। খিয়াংরা বৌদ্ধধর্মাবলম্বী। তাদের কেউ-কেউ ব্রিটিশ আমলে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে।

৩.খিয়াংদের ধর্ম | খিয়াংদের প্রধান উৎসবের নাম কি ?

অতীতে প্রকৃতি পূজারী খিয়াং সম্প্রদায় পরবর্তীতে বৌদ্ধ গ্রহণ করে। বর্তমানে ওই জাতিগোষ্ঠীর বড় অংশ খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছে। ফলে তাদের জীবনযাত্রায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়াও তাদের একটা অংশ এখনও সনাতন ধর্ম পালন করেন। বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণকারী খিয়াংরাও আদিবাসী সংস্কৃতি ও প্রথা এবং প্রকৃতি পূজাসহ রীতিনীতি থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসতে পারেনি। আর খ্রিস্টান ধর্মের খিয়াংরা সবচেয়ে ধর্মীয় উৎসব হিসেবে খ্রিস্টমাস বা বড়দিন পালন করেন। সনাতন খিয়াংরা দুজন সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী- পেটিয়ান ও খোজিং।

৪.খিয়াংদের পেশা | খিয়াংদের প্রধান উৎসবের নাম কি ?

খিয়াংদের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ। যেখানে জুমের জন্য ভালো জায়গা পাওয়া যায় এবং ফসল ফলানোর সম্ভাবনা থাকে সেখানে তারা গিয়ে বসতি স্থাপন করে থাকার উপযোগী ঘরবাড়ি তৈরি করে নেয়। তাদের কারো কারো জমিও আছে। এছাড়া তারা গাছ, বাঁশ, লাকড়ি প্রভৃতি কেটে বিক্রি করেও জীবনধারণ করে। জুম চাষ ব্যতীত খিয়াংরা ফলের বাগানও করে। শিক্ষিতের হার কম থাকায় সরকারি-বেসরকারি অফিসে খিয়াং কর্মজীবীর সংখ্যা তেমন নেই। ‍তবে আগের তুলনায় শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে।

৫.খিয়াংদের প্রধান উৎসব | খিয়াংদের প্রধান উৎসবের নাম কি ?

খিয়াং জাতিগোষ্ঠী বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত। তাদের প্রধান উৎসবের নাম ‘হেনেই’ বা নবান্ন উৎসব। এ উৎসবের জন্য নির্দিষ্ট তারিখ নেই। ফসল ঘরে এলে তারা এই উৎসব উদযাপন করে। গ্রামের তরুণ-তরুণীরা সবাই মিলে সারারাত ধরে মাংস রান্না করে। পরদিন ভোজের ব্যবস্থা করা হয়। পাশের গ্রামের লোকদেরও এই উৎসবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। খিয়াং সম্প্রদায়ের ভাষা কুকি ও চীন দলভুক্ত। এ ভাষায় লোকগাথা গান ও প্রবাদ কাব্য চালু থাকলেও লিখিত সাহিত্যকর্ম পাওয়া যায় না। তাদের মধ্যে নৃত্যগীতের যথেষ্ট প্রচলন রয়েছে। পূজা-পার্বণের অথবা উৎসবাদিতে নৃত্যগীত পরিবেশিত হয়। 

৬.সামাজিক রীতিনীতি | খিয়াংদের প্রধান উৎসবের নাম কি ?

খিয়াং সমাজের নেতাকে বলা হয় কার্বারী। অপরাধ ও অন্যায় কাজে অভিযুক্ত সদস্য/সদস্যাকে সমাজের বিদ্যামান রীতিনীতি অনুযায়ী বিচার ও শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করেন কার্বারী। তাদের সমাজে কোনো লোক মারা গেলে দাহ করা হয়ে থাকে। গ্রামবাসী মৃত লোকটির বাসায় একত্রিত হয়। মৃত লোকটিকে দাহ করার পর মহিলা হলে ৫ দিন এবং পুরুষ হলে ৬ দিন ধরে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদগতি কামনা করে গ্রামমবাসীদের নিয়ে ছেলে বা মেয়েরা শ্রদ্ধা ক্রিয়ার জন্য ভোজের আয়োজন করে।

খিয়াংরা মূলত পিতৃসূত্রীয় এবং যৌথ পরিবার গঠন করে থাকে। তবে বর্তমানে খিয়াংরা আধুনিক জীবনধারায় যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার গঠন করার সংখ্যা বেড়েছে। এই সমাজে শিশু জন্ম নিয়ে অনেক আচারঅনুষ্ঠান করা হয়। গর্ভবর্তী মেয়েদের গর্ভাবস্থায় চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ দেখা নিষিদ্ধ।

৭.বিবাহের নীতি | খিয়াংদের প্রধান উৎসবের নাম কি ?

বিবাহে তেমন কোনো বাঁধাধরা নেই। তাদের কোনো প্রথাও নেই। বরপক্ষ বা কনেপক্ষ কাউকে পণ দিতে হয় না। ছেলেরা সাধারণত অল্প বয়সে বিয়ে করে। স্বামী মারা গেলে স্ত্রী এবং স্ত্রী মারা গেলে স্বামী আবার বিয়ে করতে পারে। পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকলেও তাদের সমাজে ঘরজামাই যাওয়ার প্রচলন রয়েছে।

খিয়াং সমাজে সচরাচর দুই প্রকার বিবাহ দেখা যায়। যেমন- সামাজিক/নিয়মিত বিবাহ ও পলায়ন/অনিয়মিত বিবাহ। বিধবা বিবাহ ও বহু বিবাহের ক্ষেত্রে সমাজে দাবি পূরণ করতে হয়। নিষিদ্ধ বা অননুমোদিত বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীকে কঠোর দন্ড দেওয়া হয়।

৮.খিয়াং নারীদের উত্তরাধিকার | খিয়াংদের প্রধান উৎসবের নাম কি ?

পার্বত্য জেলাসমূহে বসবাসকারী খিয়াং পরিবারের কারো মৃত্যুর পর তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য ব্যয়িত অর্থ, তার জীবদ্দশায় অনাদায়ী ঋণ (যদি থাকে) এবং জীবদ্দশায় কোনো সম্পত্তি দান বা বিক্রি কিংবা মৃত্যুর পূর্বে সম্পাদিত উইল ইত্যাদির দাবি পরিশোধ বা নিস্পন্ন করার পর খিয়াং সমাজে উত্তরাধিকারযোগ্য স্থাবর সম্পত্তি ভাগবণ্টন হয়ে থাকে। খিয়াং জনগোষ্ঠীর লাইতু উপদলের/শাখার প্রচলিত রীতি অনুসারে মৃত ব্যক্তির পুত্র ও কন্যারা সম্পত্তির আইনগত উত্তরাধিকারী হয়। মৃত পিতার নামীয় সম্পত্তি থেকে পুত্ররা ৩ ভাগের ২ ভাগ এবং কন্যারা ৩ ভাগের ১ ভাগের উত্তরাধিকারী হয়। পুত্রের অবর্তমানে কন্যা সন্তানরা মৃত পিতার সম্পূর্ণ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়। মৃত ব্যক্তি নিঃসন্তান হলে তার স্ত্রীর সহোদর ভাই, ভাইয়ের অবর্তমানে ভ্রাতুস্পুত্ররা মৃতের সম্পত্তির আইনগত উত্তরাধিকারী হয়।

মৃত ব্যক্তির একাধিক স্ত্রীর গর্ভজাত পুত্র সন্তানরা মৃতের সম্পত্তিতে সমান উত্তরাধিকার লাভ করে। দত্তক পুত্র পালক পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়। দত্তক পুত্র গ্রহণের পর যদি পালক পিতার ঔরসে পুত্রসন্তান জন্মায়, সেক্ষেত্রে নিজ সন্তানের ন্যায় দত্তক পুত্রও মৃতের সম্পত্তির ৪ ভাগের ১ অংশের উত্তরাধিকারী হয়। অবৈধ সন্তান এবং সমাজচ্যূত সন্তান যদি সামাজিক বিচারে স্বীকতি পায়, তাহলে মৃত পিতার সম্পত্তির আইনগত উত্তরাধিকারী হয়। পুত্ররা মাতার সম্পত্তিতে সমান উত্তরাধিকারী হয়। পুত্র না থাকলে কন্যার মাতার সম্পত্তির আইনগত উত্তরাধিকারী হয়। দান বা উইলের মাধ্যমে পিতা-মাতার কাছ থেকে কন্যা অথবা স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রী সম্পত্তি পেতে পারেন।

৯. লেখকের মন্তব্য | খিয়াংদের প্রধান উৎসবের নাম কি ?

আজকে আমরা আপনাদের সাথে আলোচনা করলাম খিয়াংদের প্রধান উৎসব এর নাম কি? এ বিষয় সম্পর্কে। আশা করছি খিয়াংদের প্রধান উৎসবের নাম কি? এ সম্পর্কে আপনারা সকল কিছু বুঝতে পেরেছেন। খিয়াংদের প্রধান উৎসবের নাম কি? এ বিষয়ে যদি আপনার কোন প্রশ্ন থাকে সেটি আমাদের জানাতে পারেন। খিয়াং সম্প্রদায় ছাড়াও যে কোন বিষয় সম্পর্কে জানতে আমাদের ওয়েবসাইট THE DU SPEECH ভিজিট করুন।
আর্টিকেলটি লিখেছেন: নুসরাত জাহান হিভা 
পড়াশোনা করছেন: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 
লেখকের জেলার নাম: কুমিল্লা



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর্টিকেল রাইটিং সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা
মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন
পড়াশোনা করছেন:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 
জেলা: নাটোর

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?