The DU Speech https://www.duspeech.com/2022/07/sorkarivabe-bidesh-kon-kon-des.html

সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায় ২০২২ | সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

বর্তমানে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়া সম্ভব হলেও ফ্রি বিদেশ যাওয়ার উপায় নেই, অন্য আর্টিকেল পড়তে পারেন। কারন, ফ্রি বিদেশ যাওয়া সম্ভব না।  আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আপনার সাথে শেয়ার করব দালাল ছাড়া সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায় ২০২২ এবং আলোচনা করব সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়। 



তবে অনেক সময় লটারির মাধ্যমে বা বিদেশে উচ্চ শিক্ষায় ফুল ফ্রি স্কলারশিপের মাধ্যমে আপনি ফ্রি বিদেশ যেতে পারবেন তাছাড়া আপনি ফ্রি বিদেশ যেতে পারবেন না। ফ্রি বিদেশ যাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে দিন। বর্তমানে দালাল ছাড়া খুব কম খরচে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়া যায় ২০২২ সালে। সরকারিভাবে বিদেশ যেতে চাইলে আমাদের এই আর্টিকেলটি আশা করি আপনার জন্য সেরা হবে ইনশা আল্লাহ। সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়সহ বিস্তারিত আলোচনা করায় আর্টিকেলটি একটু বড় হয়েছে , সম্পূর্ণ পড়লে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

অনুচ্ছেদ সূচি (যে অংশ পড়তে চান তার ওপর ক্লিক করুন)

  1. ফ্রি বিদেশ যাওয়ার উপায় 
  2. সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায়
  3. সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া
  4. সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
  5. বিদেশ যাওয়ার জন্য করতে কত টাকা লাগবে?
  6. সরকারিভাবে বিদেশ যেতে কত টাকা খরচ হয়?
  7. বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ
  8. সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়
  9. সরকারিভাবে সৌদি আরব যাওয়ার উপায়
  10. সরকারিভাবে কানাডা যাওয়ার উপায়
  11. সরকারিভাবে ওমান যাওয়ার উপায় 
  12. সরকারিভাবে কাতার যাওয়ার উপায়
  13. উপসংহার।

আপনি যদি কোন কাজে দক্ষ হন তাহলে আপনি আপনার দক্ষতার মাধ্যমে সরকারি ভাবে বিদেশ যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে সরকারিভাবে বিদেশ যেতে পারলে আপনার ব্যক্তিগতভবে খুব বেশি খরচ হবে না।


 ১.ফ্রি বিদেশ যাওয়ার উপায় 

এই অংশটা তাদের জন্যই যারা ফ্রি বিদেশ যাওয়ার উপায় লিখে সার্চ দেন। আমরা পরিসংখ্যান ঘেটে দেখলাম আপনারা প্রতিদিন গড়ে ৩০ জন করে গুগলে সার্চ করেন ফ্রি বিদেশ যাওয়ার উপায় লিখে । কিন্তু এই বিষয়ে গুগলে বা ইউটিউবে কোন কনটেন্ট নেই। তারমানে আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা করছি ফ্রি বিদেশ যাওয়ার কোন উপায় নেই। কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী আছে যারা ফুল ফ্রি স্কলারশিপ পেয়ে ফ্রি বিদেশ যায়। যা সাধারণ আমজনতার পক্ষে সম্ভব নয়। 

তাই আশা করছি এই বিষয়ে আপনারা গুগলে সার্চ করে অযথা সময় অপচয় করবেন না।  আপনি যদি বিদেশ যেতে চান তাহলে ফ্রি বিদেশ যাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে আপনার জেলা কর্ম সংস্থান বা যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। এখন বিদেশ যাওয়া অনেক সহজ ।  আপনাকে কোন দালাল বা এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করতে হবে না।

২.সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায় 

ব্যক্তিভেদে বিভিন্ন কাজে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার অন্যতম খাত হচ্ছে-

  • শ্রমিক হিসেবে 
  • চাকরি প্রার্থী হিসেবে 
  • শিক্ষার্থী হিসেবে ইত্যাদি।

শ্রমিক হিসেবে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায়!

আপনি যদি শ্রমিক হিসেবে সরকারিভাবে বিদেশ যেতে চান তাহলে সর্বপ্রথম আপনাকে বিদেশে শ্রমিক নিয়োগের দৈনিক পত্রিকাগুলো দিয়ে খেয়াল রাখতে হবে। বিদেশে বিভিন্ন শিল্প কারখানা ছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ থেকে অন্যান্য দেশে নিয়োগের মাধ্যমে সরকারিভাবে শ্রমিক নেওয়া হয় এবং এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি সময়সীমা দেওয়া হয় আবেদন বা রেজিস্ট্রেশন করার জন্য । এজন্য আপনি যদি শ্রমিক হিসেবে সরকারিভাবে বিদেশ যেতে চান,তাহলে আপনাকে বিভিন্ন দেশের শ্রমিক নিয়োগের নিয়মিত ও সঠিকভাবে খোঁজখবর রাখতে হবে যাতে আপনি সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য সঠিক সময়ে সঠিকভাবে আবেদন করতে পারেন।

চাকরি প্রার্থী হিসেবে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায়!

আপনি যদি সরকারিভাবে বিদেশ গিয়ে চাকরি করতে চান সে ক্ষেত্রে আপনাকে সর্বপ্রথম কোন দেশের কোন কোম্পানি বা সেক্টরে চাকরির জন্য সার্কুলার দিয়েছে সে বিষয়ে ভালোভাবে খোঁজখবর রাখতে হবে। পাশাপাশি, দেশের বেশিরভাগ চাকরি দক্ষতা অভিজ্ঞতা নির্ভর। এক্ষেত্রে আপনার প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হতে পারে। এজন্য চাকরি প্রার্থী হিসেবে সরকারিভাবে বিদেশ যেতে চাইলে বৈদেশিক বিভিন্ন চাকরির সার্কুলার ছাপানো হয় এমন দৈনিক পত্রিকাগুলোতে নিয়মিত খেয়াল রাখতে হবে ।এছাড়া আপনি চাইলে অনলাইনে ও বৈদেশিক চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন নোটিশ দেখতে পারেন ।

অনলাইনে বৈদেশিক চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন নোটিশ দেখতে এখানে ক্লিক করুন!

এছাড়া চাকরি প্রার্থী হিসেবে সরকারিভাবে বিদেশ যেতে চাইলে প্রথমে চাকরি প্রার্থীর নাম রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এজন্য আপনাকে আপনার নিকটস্থ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এর প্রবাসী কল্যাণ শাখায় যোগাযোগ করতে হবে। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী সার্বিক কার্যাবলি সম্পন্ন করতে হবে।

শিক্ষার্থী হিসেবে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায়!

শিক্ষার্থী হিসেবে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রায় সব প্রক্রিয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফলাফল ভিত্তিক। এক্ষেত্রে বৈদেশিক নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষাপ্রতষ্ঠানে পড়াশোনার করতে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীর মেধা, যোগ্যতা ও বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর নির্বাচন করা হয়।

৩.সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া! সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায় 

শ্রমিক বা চাকুরীজীবী হিসেবে সরকারিভাবে বিদেশ যেতে চাইলে সর্বপ্রথমে প্রাথমিকভাবে একটি নিবন্ধন করতে হয়। শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারিভাবে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের জন্য সর্বপ্রথমে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান জনশক্তি কর্মসংস্থান ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএমইটি )কেন্দ্রীয় ডাটা ব্যাংকে নিবন্ধন করতে হবে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাধ্যমে দক্ষ, স্বল্পদক্ষ ,অদক্ষ নারী-পূরুষ শ্রমিক ইত্যাদি সেক্টর বা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক ভাবে বিভিন্ন দেশে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য নিবন্ধন করা হয়।

 

সরকারিভাবে বিদেশ যেতে নিবন্ধন কারের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা | সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায় 

  • সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য নিবন্ধন করার সময় নিবন্ধন কার্ডের বয়স অবশ্যই 18 বছরের উর্ধ্বে হতে হবে। তবে বিদেশ যাওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে বয়স সীমা বিভিন্ন হতে পারে।
  • সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার নিবন্ধন করার জন্য নিবন্ধন কারীর নিজস্ব মোবাইল থাকতে হবে। কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত নিবন্ধন সম্পর্কিত বিভিন্ন আপডেট প্রার্থীর মোবাইল ফোনে এসএমএস এর মাধ্যমে জানানো হবে।
  • যেহেতু নিবন্ধন কারীর যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারিভাবে বিদেশ গিয়ে সে কী কাজ করবে তা নির্ধারণ করা হবে, তাই সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য নিবন্ধনের সময় সকল যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সনদ ডাটা ব্যাংকে প্রদান করতে হবে। তাই প্রার্থীর নিবন্ধন চলাকালীন সময়ের মধ্যে নতুন কোন যোগ্যতা অর্জিত হলে তা ডাটা ব্যাংকে যোগ করা যাবে।
  • বিদেশে অনেক সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কর্মদক্ষতা ,যোগ্যতার ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শ্রমিক বা কর্মী নিয়োগ দেয়। সে ক্ষেত্রে আপনি যদি উক্ত বিষয় গুলোর জন্য আবেদন করতে চাইলে তাদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত সনদপত্র আপনাকে প্রদান করতে হবে। এছাড়াও বিদেশে অনেক প্রশিক্ষণ ভিত্তিক কাজের নিয়োগ দিয়ে থাকে যেখানে কাজ করার জন্য আপনার বিভিন্ন প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হতে পারে।
  • সরকারিভাবে বিদেশ গিয়ে কাজ করার জন্য নিবন্ধনের সময় প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সঠিক ও নির্ভুল হতে হবে।

প্রাথমিকভাবে শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেও যোগাযোগ করা যেতে পারে।

 

৪.সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র |সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

সরকারিভাবে বিদেশ যেতে চাইলে আপনাকে প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে। যে  সকল গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছাড়া আপনি কোনোভাবেই সরকারিভাবে বিদেশ যেতে পারবেন না, তা নিম্নরূপ:

  1. পাসপোর্ট 
  2. চাকুরির চুক্তিপত্র 
  3. একটি ব্যাংক একাউন্ট 
  4. দূতাবাসের ঠিকানা ও ফোন নাম্বার
  5. ভিসা 
  6. জনশক্তি ব্যুরোর ছাড়পত্র
  7. মেডিকেল রিপোর্ট 
  8. টিকেট 
  9. টাকা প্রদানের রশিদ ও চুক্তিপত্র ইত্যাদি।


1. পাসপোর্ট ! সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

সরকারিভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য সর্বপ্রথমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস  পাসপোর্ট। আপনি যদি মনস্থির করে রাখেন যে আপনি সরকারিভাবে বিদেশ যাবেন তাহলে সর্ব প্রথমে আপনাকে একটি পাসপোর্ট তৈরি করতে হবে। পাসপোর্ট তৈরি একটু সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। পাসপোর্ট তৈরির জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয় এজন্য আপনাকে পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করতে হবে। তবে পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে খুব সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। কারণ অসচেতনতাবসত অনৈতিকভাবে তৈরিকৃত জাল পাসপোর্ট আপনার জীবন ও ক্যারিয়ারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এজন্য বিদেশ যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা অতীব প্রয়োজনীয়।

2.চাকুরির চুক্তিপত্র

সরকারিভাবে আপনি যে দেশের যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে যাচ্ছেন , সে প্রতিষ্ঠান সাথে আপনার চুক্তিপত্রটি সংরক্ষণ করতে হবে ‌‌। সরকারিভাবে বিদেশ যেয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে এটি একটি অতীব প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট।

3.একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

সরকারিভাবে বিদেশ গিয়ে অর্থ উপার্জন করে আপনি আপনার পরিবার বা দেশে টাকা পাঠানোর জন্য প্রয়োজন একটি ব্যাংক একাউন্ট। এই ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে আপনি আপনার অর্জিত আয় আপনার পরিবারে পৌঁছাতে পারেন এবং  বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অবদান রাখতে পারেন। যেটাকে অর্থনীতির ভাষায় রেমিটেন্স বলে।

4.দূতাবাসের ফোন নাম্বার ও ঠিকানা

আপনি সরকারিভাবে বিদেশ গিয়ে যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন, সে প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ও ফোন নাম্বারের পাশাপাশি দূতাবাসের ফোন নাম্বার ও ঠিকানা আপনাকে সংরক্ষণ করতে হবে।বিদেশে গিয়ে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিভিন্ন ভোগান্তি এড়াতে এর কোনো বিকল্প নেয়।বিদেশ গিয়ে খুব সহজেই কর্মসংস্থানে যোগদান করার জন্য আপনাকে এই কাগজপত্রগুলো খুব যত্ন সহকারে রাখতে হবে।

5. ভিসা ! সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

সরকারিভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট এর ন্যায় ভিসাও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাসপোর্ট এর নাই বর্তমানে জাল ভিসা তৈরি একটি কুচক্র আমাদের দেশে প্রচলিত আছে। এজন্য ভিসা তৈরীর ক্ষেত্রে সাবধানতা ও সচেতনতা অবলম্বন করা উচিত।

6. জনশক্তি ব্যুরোর ছাড়পত্র

শ্রমিক বা চাকরি প্রার্থী হিসেবে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য আপনাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান জনশক্তি কর্মসংস্থান ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর নিকট থেকে একটি ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। বিদেশ যাওয়ার সময় এয়ারপোর্ট থেকে শুরু করে বিদেশে কর্মসংস্থান সহ প্রায় প্রতিটি সেক্টরে আপনার ডকুমেন্ট টির প্রয়োজন হতে পারে।

 

7.মেডিকেল রিপোর্ট

সরকারিভাবে বিদেশ যেতে চাইলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে আপনাকে আপনার মেডিকেল রিপোর্ট  সংযোজন করতে হবে। মেডিকেল রিপোর্ট এর ক্ষেত্রে সাধারণত ব্লাড টেস্ট, ইউরিন টেস্ট বা সাধারণ কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তার রিপোর্ট  প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে সংযোজন করতে হয়।

8. টিকেট ! সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সাথে বিমানের টিকেট সাথে নিতে হবে । কারণ টিকেট ছাড়া আপনি বিমানে আরোহন করতে পারবেন না। সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে এটি একটি অতীব প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট।

9. টাকা প্রদানের রশিদ ও চুক্তিপত্র

সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রেও তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণে টাকা ইনভেস্ট করতে হয়। বিদেশ যাওয়ার সময় এই-সকল টাকা প্রদানের রশিদ ও চুক্তিপত্র আপনার সঙ্গে সংরক্ষণ করতে হবে।

মোটকথা সরকারিভাবে বিদেশে যাওয়ার  পূর্বে এই  সকল কাগজপত্র যত্নসহকারে নিজের কাছে সংরক্ষণ করতে হবে।

এছাড়াও বিদেশ যাওয়ার আগেই এজেন্সির কাছে থেকে আপনি কোন দেশে কোন কাজের জন্য যাচ্ছেন তার চুক্তিপত্র নিতে হবে। চুক্তিপত্র কিছু কিছু বিষয় সাবধানতার সাথে পরীক্ষা করে নিতে হবে।


চুক্তিপত্রে যেসব বিষয় সাবধানতার সাথে দেখে নিতে হবে 

সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার পূর্বে চুক্তিপত্রের সাথে যেসব বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে দেখে নিতে হবে তা নিম্নরূপ-

  • চাকুরীর নাম 
  • কোম্পানি বা চাকরী দাতার নাম ও ঠিকানা
  • কর্মক্ষেত্র 
  • চাকরি বা কাজের মেয়াদ 
  • মাসিক বেতন 
  • নিরাপত্তা ব্যবস্থা 
  • যাওয়া-আসার বিমান ভাড়া 
  • ওভারটাইম 
  • সপ্তাহিক ছুটি, অসুস্থতা কালীন ছুটি 
  • মেডিকেল স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা 
  • যাতায়াত ভাড়া 
  • খাবার ব্যবস্থা 
  • বাসস্থান ভাড়া
  • বিদেশে চাকরি কালীন সময়ে মৃত্যু হলে দেশে পাঠানোর খরচ ইত্যাদি।


চাকুরীর নাম 

সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে আপনি কোন প্রতিষ্ঠানে কোন পদে চাকরি বা কাজ করতে যাচ্ছেন সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। অর্থাৎ বিদেশ গিয়ে বিভিন্ন ঝামেলা এড়াতে আপনার কর্মসংস্থান সম্পর্কিত সকল ইনফরমেশন আপনার কাছে রাখতে হবে।

কোম্পানি বা চাকরিদাতার ফোন নাম্বার ও ঠিকানা

সরকারিভাবে বিদেশ গিয়ে আপনি কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন বা কার অধীনে কাজ করছেন, তার ফোন নাম্বার ও ঠিকানা বা লোকেশন সম্পর্কে আপনার সঠিক ধারণা ও তথ্য থাকতে হবে।

কর্মক্ষেত্র 

সরকারিভাবে বিদেশে গিয়ে আপনি কি ধরনের কাজ করবেন , আপনার কাজ প্রশিক্ষণ ছাড়া বা প্রশিক্ষণ সহ করতে হবে কিনা, আপনার কর্মক্ষেত্রের ধরন সম্পর্কিত সকল ইনফরমেশন কালেক্ট করে তারপরে আপনার রওনা হওয়া উচিত।

চাকরির মেয়াদ 

আপনি সরকারিভাবে বিদেশ গিয়ে যে ধরনের কাজ করবেন তার মেয়াদকাল সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য লক্ষ্য রেখে যাওয়া উচিত। কারণ বিদেশে যে সকল কাজের জন্য বাইরের দেশ থেকে কর্মী শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয় তা বেশিরভাগই নির্দিষ্ট সময় কালীন শর্ত দেয়া থাকে। এজন্য সরকারিভাবে বিদেশ গিয়ে টাকা উপার্জন করার ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত।

মাসিক বেতন

বিদেশ গিয়ে কাজ করার পর আপনাকে আপনার কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক হিসেবে মাসিক বেতন কত টাকা দিবে সে সম্পর্কে আপনার পূর্ব ধারণা বা চুক্তিপত্র রাখা উচিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শ্রমিকরা সাধারণত নিম্নবিত্ত পরিবারের হয়, এক্ষেত্রে সরকারিভাবে বিদেশ গিয়ে অর্থ উপার্জন করাই তাদের মুখ্য লক্ষ্য থাকে। এজন্য বিদেশে যেকোনো চাকরি বা কাজ করার জন্য যাওয়ার পূর্বে মাসিক বেতন বা পারিশ্রমিকের বিষয়টা সাবধানতার সাথে খেয়াল রাখা উচিত।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আপনি বিদেশ গিয়ে যে ধরনের কাজ করবেন সেই কাজের নিরাপত্তা কতটুকু আর স্বাস্থ্য ঝুঁকি কতটুকু এই বিষয়গুলো পূর্ব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

 যাওয়ার বিমান ভাড়া

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রেও বিমান ভাড়া ব্যক্তিগতভাবে ইনভেস্ট করতে হয়।তবে কিছু কিছু সময় ক্ষেত্রবিশেষে বিদেশ থেকে যে সকল কোম্পানি নিয়োগ দিয়ে থাকে , তারা কর্মী বা শ্রমিকের বিমান ভাড়ার জন্য কিছু টাকা ইনভেস্ট করে থাকে। তাই সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার পূর্বে এই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে যে বিমান ভাড়া  ব্যক্তিগতভাবে ইনভেস্ট করতে হবে নাকি কোম্পানি ইনভেস্ট করবে, যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে ইনভেস্ট করা লাগে।

 ওভারটাইম

সাধারণত নিম্নবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষরা শ্রমিক বা কর্মী বা চাকরি প্রার্থী হিসেবে বিদেশে যায় টাকা উপার্জনের জন্য।এক্ষেত্রে চাকরির পাশাপাশি ওভারটাইম করে তারা তুলনামূলক অধিক অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করে। এজন্য সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার পূর্বে যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করবে সেখানে ওভারটাইমের সুযোগ আছে কিনা এই বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা উচিত।

সপ্তাহিক ছুটি, অসুস্থতা কালীন সময়ে ছুটি ইত্যাদি

বিদেশ গিয়ে আপনি  যে কর্মসংস্থানের কাজ করবেন সেখানে সপ্তাহিক ছুটি কতদিন ,অসুস্থ থাকাকালীন সময় ছুটি আছে কিনা , কোনো প্রয়োজনীয় কাজে ছুটি কাটালে বেতন থেকে টাকা কাটা যাবে কিনা ইত্যাদি বিষয়গুলোর চুক্তিপত্র খোঁজখবর নিতে হবে।

মেডিকেল স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা 

সরকারিভাবে বিদেশ গিয়ে কর্মকালীন সময়ে আপনি অসুস্থ হলে আপনার চিকিৎসা বা স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা কিরূপ এই বিষয়গুলো চুক্তিপত্রে খেয়াল করা উচিত।

যাতায়াত ভাড়া 

আপনার কর্মক্ষেত্র থেকে আপনার বাসস্থান যদি কিছুটা দূরে হয় তাহলে কর্মক্ষেত্রের যাওয় আসার জন্য যাতায়াত ভাড়া কর্তৃপক্ষ বহন করবে কিনা ব্যক্তিগতভাবে খরচ করতে হবে এই বিষয়গুলো চুক্তিপত্রে নজর রাখতে হবে।

খাবার ব্যবস্থা

কর্মকালীন সময় বা আপনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন সেখানে খাওয়া দওয়ার ব্যবস্থা আছে কিনা ,বিদেশে থাকা কালিন সময়ে আপনার খাওয়া-দাওয়ার খরচ কর্তৃপক্ষের বহন করবে নাকি ব্যক্তিগতভাবে খরচ করতে হবে এই বিষয়গুলো চুক্তিপত্রে খেয়াল রাখুন।

বাসস্থান ভাড়া 

চাকরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শ্রমিক বা কর্মীর জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। অনেক সময় কর্মী বা শ্রমিক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাকৃত বাসস্থানের বাইরে থাকলেও তার খরচ কর্তৃপক্ষের বহন করে বা বাসস্থান ভাতা প্রদান করে । আপনি সরকারিভাবে বিদেশ গিয়ে কাজ করার সময় এরূপ কোন সুবিধা পাবেন কিনা এই বিষয়গুলো বিদেশ যাওয়ার পূর্বে এজেন্সি থেকে চুক্তিপত্র নিয়ে দেখে নিন।

বিদেশে চাকরি মৃত্যু হলে দেশে পাঠানোর খরচ

সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার পর বিদেশে চাকরি কালীন সময়ে আপনার যদি কোনো কারণে দুর্ঘটনাবশত বা স্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয় তাহলে আপনার মৃতদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা বা দেশে পাঠানোর খরচ কর্তৃপক্ষের বহন করবে নাকি ব্যক্তিগতভাবে বা পারিবারিকভাবে বহন করতে হবে সে বিষয়গুলো এজেন্সির কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে নিন।

৫.সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য মেডিকেল টেস্ট  করতে কত টাকা লাগবে ?

বিদেশ যাওয়ার পূর্বে সামগ্রিক অর্থে যে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয় তার মধ্যে মেডিকেল টেস্ট একটি। কারণ বিদেশ যাওয়ার আগে প্রার্থীর বিদেশ যাওয়ার জন্য মেডিকেল টেস্ট রিপোর্ট এর প্রয়োজন হয়। এই মেডিকেল রিপোর্ট সাধারণত প্রার্থীর শারীরিক অবস্থা রিপ্রেজেন্ট করে। প্রার্থীর শারীরিক সুস্থতা যাচাই করার জন্য বিদেশ যাওয়ার জন্য মেডিকেল টেস্ট করতে হয়।

আপনি চাইলে বিদেশ যাওয়ার জন্য বিভিন্ন মেডিকেলে মেডিকেল টেস্ট করতে পারেন । তাই প্রার্থীর বিদেশ যাওয়ার জন্য মেডিকেল টেস্ট করার সময় মেডিকেল ভেদে খরচের বৈষম্য আসতে পারে। যেমন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ বা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ বা চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে বিদেশ যাওয়ার জন্য মেডিকেল টেস্ট করতে একই পরিমাণ টাকা খরচ হবে না। এক্ষেত্রে খরচের পরিমাণ এর কিছুটা বৈষম্য দেখা যেতে পারে। তবে সার্বিক অর্থে বা গড়ে বিদেশ যাওয়ার জন্য মেডিকেল টেস্ট করতে প্রায় পাঁচ হাজার (5000) টাকা বা এর সামান্য কম বেশি খরচ হতে পারে।

৬.সরকারিভাবে বিদেশ যেতে কত টাকা খরচ হয় ?

ব্যক্তিগতভাবে বিদেশ যাওয়ার থেকে সরকারিভাবে বিদেশ গেলে তুলনামূলকভাবে অনেক কম খরচে বিদেশ যাওয়া যায়। এক্ষেত্রে আপনার পর্যাপ্ত পরিমান টাকা না থাকলেও আপনি সরকারিভাবে বিদেশ যেতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত খরচ এর পরিধি টা সীমিত থাকে। তাই সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়া হচ্ছে বৈদেশিক টাকা উপার্জন করে পরিবার ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সময়োপযোগী ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি।

সরকারিভাবে বিদেশ যেতে হলেও আপনাকে পাসপোর্ট, ভিসা, নির্দিষ্ট কিছু এজেন্সির সাথে যোগাযোগ, মেডিকেল রিপোর্ট, এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু কাজের জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ, একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা , জনশক্তি ব্যুরোর  ছাড়পত্র , টিকেট ইত্যাদির জন্য প্রার্থীর ব্যক্তিগতভাবে কিছু টাকা খরচ করতে হয়। এছাড়াও সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় বিমান ভাড়া ব্যক্তিগতভাবে ইনভেস্ট করতে হয়।

তবে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশ প্রার্থীরই খরচের পরিমাণ অধিকাংশ সময় 50 হাজার থেকে 1 লক্ষ টাকার মধ্যেই থাকে। যা ব্যক্তিগতভাবে বিদেশ গেলে খরচের তুলনায় অনেক কম। এজন্য নিজের যোগ্যতা দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক সময়ে সরকারিভাবে বিদেশ গিয়ে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে পরিবার ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন। বর্তমান সময়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেমিটেন্স অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, আপনিও চাইলে খুব সহজেই এর অংশ হতে পারেন।

৭.বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ

বে বিদেশে গিয়ে কিছু কিছু সেক্টরে কাজ করার জন্য অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো কর্তৃক সরকারিভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে বিদেশে গিয়ে কাজ করতে আগ্রহী এমন ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেয় সারাদেশে 38 টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেশের অল্প শিক্ষিত, বেকার লোকজনই বিদেশে যায় কাজের খোঁজে । শ্রমিক হিসেবে যারা বিদেশে যায় তাদের বৃহত্তম অংশই অদক্ষ । এই অদক্ষ অংশকে বিদেশে গিয়ে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয় দেশের বিভিন্ন সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুলো । এর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানও শ্রমিক বা কর্মী হিসেবে বিদেশে গিয়ে কাজ করতে আগ্রহী ব্যক্তিদের নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

বিদেশে যেতে আগ্রহীদের যেসব কাজের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো কর্তৃক পরিচালিত সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুলোতে বৈদেশিক বাজারগুলোতে যেসব কাজের চাহিদা আছে এমন বিষয়গুলোর ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুলোতে যে বিষয়গুলোর ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তার মধ্যে অন্যতম-

  • রড বাইন্ডিং 
  • পাইপ ফিল্টারিং 
  • প্যাটার্ন মেকিং 
  • সুইং মেশিন অপারেটিং 
  • হাউসকিপিং 
  • ইলেকট্রিক্যাল মেশিন মেইনটেন্যান্স 
  • সাটারিং ওয়েল্ডিং এন্ড ফেব্রিকেশন 
  • অটোমেকানিক্স 
  • ইকুইপমেন্ট অপারেটিং 
  • ফিল্টারিং 
  • গার্মেন্টস সুপারভাইজার 
  • কম্পিউটার 
  • ইলেকট্রনিক 
  • প্লাস্টিক টেকনোলজি 
  • ইলেকট্রিক্যাল 
  • ইন্ডাস্ট্রিয়াল কারপেন্ট্রি ইত্যাদি।

এছাড়াও সরকারিভাবে একটি গত ভাবে বিদেশ গিয়ে যারা টাকা আয় করতে চায় ,তাদের জন্য অন্যতম প্রয়োজনীয় বিষয় হচ্ছে বৈদেশিক ভাষা শেখার প্রশিক্ষণ। আপনি যে কোন দেশে কাজ করতে গেলে সেই দেশের ভাষা সঠিকভাবে না জানলে আপনাকে অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হবে। এজন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুলোতে আপনি যে দেশে যেতে আগ্রহী সে দেশের প্রচলিত ভাষা শেখার সুযোগ পাবেন।

বিদেশ যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের অধিকাংশ স্বল্প শিক্ষিত হয়ে থাকে।প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুলোতে ভর্তি হওয়ার জন্য সাধারণত অষ্টম শ্রেণী পাস এর প্রয়োজন হয় । এছাড়াও কিছু কিছু প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার জন্য আপনাকে এসএসসি পাসের প্রয়োজন হতে পারে।বিভিন্ন দেশের ভাষা অনুসারে আপনার ভাষা শেখার প্রশিক্ষণ নিতে 2 হাজার থেকে 15 হাজার পর্যন্ত টাকা খরচ হতে পারে।

বিদেশ যাওয়ার জন্য যে প্রশিক্ষণ গুলো দেওয়া হয় সেগুলো কে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয় প্রথমত স্বনির্ভর প্রশিক্ষণ ও দ্বিতীয়তঃ অনিয়মিত প্রশিক্ষণ। স্বনির্ভর কোর্সগুলো সাধারণত নিজস্ব অর্থায়নে করতে হয় এবং স্বনির্ভরশীল কোর্সের সে নিয়মিত কোর্সের তুলনায় বেশি।

প্রশিক্ষণের বিষয়ে অনুসারে সাধারণত সরকারিভাবে বা ব্যক্তিগত গত ভাবে বিদেশে কাজ করতে আগ্রহী এমন ব্যক্তিদের 6 সপ্তাহ থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে।

৮. সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়?

সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায় এটা নিয়ে প্রায় সবারই আগ্রহ আছে। কেননা সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায় এটা জানলে সেখান থেকে পছন্দানুযায়ী দেশ নির্বাচন করে যাওয়া যায়।  এখন আপনাদের জানাবো সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়। 

সরকারিভাবে সৌদি আরব, কানাডা, ওমান, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান, সিংগাপুর, কুয়েত, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালদ্বীপ, রোমানিয়াসহ প্রায় 172 টি দেশে সরকারিভাবে যাওয়া যায়। বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর প্রতিবেদন অনুযায়ী , বাংলাদেশ হতে দক্ষ ও অদক্ষ জনশক্তির প্রায় 8 থেকে 10 লাখ শ্রমিক প্রতি বছর সরকারিভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে বিদেশে যায় কাজের সন্ধানে। তবে এদের বেশিরভাগই শ্রমিকই অদক্ষ । এবং অন্যান্য সকল ভিসা মিলিয়ে প্রতিবছর গড়ে প্রায় 20 লাখ মানুষ বাংলাদেশ হতে বিদেশ যাই।

বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার হচ্ছে সৌদি আরব।বাংলাদেশ থেকে যেসব শ্রমিকরা সরকারিভাবে কর্মসংস্থানের খোঁজে বিদেশে থাকে, তাদের জন্য সৌদি আরব এর পাশাপাশি  কানাডা, ওমান, সিঙ্গাপুর, কাতার ,কুয়েত ইতালি দেশের শ্রমবাজার অন্যতম উল্লেখযোগ্য।

বিভিন্ন দেশ কর্তৃক জনশক্তি নিয়োগের বিজ্ঞাপন অনুসারে জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরো এর মাধ্যমে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে নির্দেশনা অনুযায়ী সকল কার্যক্রম শুরু ও সম্পাদনের মাধ্যমে সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে হব।

৯.সরকারিভাবে সৌদি আরব যাওয়ার উপায়! সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়?

বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান জনশক্তি কর্মসংস্থান ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএমইটি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক শ্রমিক নিয়োগ দেয় সৌদি আরব। বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমজীবী মানুষের গরিষ্ঠ অংশ সৌদি আরব এর শ্রমবাজারে পাড়ি জমায়। আমাদের দেশে অর্থনৈতিক খাতে রেমিটেন্স বা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ আমাদের দেশের মুখ্য সংখ্যক অভিবাসী শ্রমজীবী মানুষ সৌদি আরবে কাজ করে টাকা আয় করে এবং এতে তাদের পরিবার ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয়।

2019 সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশ থেকে প্রায় 3 লাখ 99 হাজার কর্মী গিয়েছে কাজের সন্ধানে এবং 2020 সালের মার্চ মাস পর্যন্ত আরো 1 লাখ 33 হাজার 997 জন কর্মী সৌদি আরবে গিয়েছে। সৌদি আরবে যাওয়া  কর্মীদের মধ্যে কিছু সংখ্যক গিয়েছে সরকারিভাবে এবং কিছু সংখ্যক গিয়েছে ব্যক্তিগতভাবে।

সরকারিভাবে সৌদি আরবে যাওয়ার প্রাথমিক ধাপ সমূহ | সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

আপনি যদি সরকারিভাবে সৌদি আরব গিয়ে চাকরি করতে চান সে ক্ষেত্রে আপনাকে সর্বপ্রথম সৌদি আরবের কোন কোম্পানি বা সেক্টরে চাকরির জন্য সার্কুলার দিয়েছে সে বিষয়ে ভালোভাবে খোঁজখবর রাখতে হবে। পাশাপাশি, দেশের বেশিরভাগ চাকরি দক্ষতা অভিজ্ঞতা নির্ভর। এক্ষেত্রে আপনার প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হতে পারে। এজন্য চাকরি প্রার্থী হিসেবে সরকারিভাবে সৌদি আরব যেতে চাইলে বৈদেশিক বিভিন্ন চাকরির সার্কুলার ছাপানো হয় এমন দৈনিক পত্রিকাগুলোতে নিয়মিত খেয়াল রাখতে হবে ।এছাড়া আপনি চাইলে অনলাইনে ও বৈদেশিক চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন নোটিশ দেখতে পারেন ।

অনলাইনে বৈদেশিক চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন নোটিশ দেখতে এখানে ক্লিক করুন!

এছাড়া চাকরি প্রার্থী হিসেবে সরকারিভাবে বিদেশ যেতে চাইলে প্রথমে চাকরি প্রার্থীর নাম রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এজন্য আপনাকে আপনার নিকটস্থ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এর প্রবাসী কল্যাণ শাখায় যোগাযোগ করতে হবে। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী সার্বিক কার্যাবলি সম্পন্ন করতে হবে।

সৌদি আরব থেকে কোন চাকরির যদি সার্কুলার দেওয়া হয় তাহলে সেখানে প্রাথমিকভাবে আবেদন করতে হবে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী সকল কার্যক্রম সম্পাদন করতে হবে।

সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য সর্ব প্রথমে আপনাকে একটি পাসপোর্ট তৈরি করতে হবে। পাসপোর্ট তৈরি একটু সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। পাসপোর্ট তৈরির জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয় এজন্য আপনাকে পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করতে হবে। তবে পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে খুব সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। কারণ অসচেতনতাবসত অনৈতিকভাবে তৈরিকৃত জাল পাসপোর্ট আপনার জীবন ও ক্যারিয়ারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এজন্য বিদেশ যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা অতীব প্রয়োজনীয়। পাশাপাশি , আবেদন করার জন্য এবং বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্র সংগ্রহ, মেডিকেল টেস্ট করা, জনশক্তি মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র ইত্যাদির কাগজপত্র প্রস্তুত করতে হবে।

সরকারিভাবে সৌদি আরবে কাজের ভিসা পেতে  প্রয়োজনীয় কাগজপত্র!সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

সরকারিভাবে সৌদি আরবে গিয়ে কাজ করার জন্য ভিসা পেতে কিছু যোগ্যতার ও কাগজপত্রের প্রয়োজন হয় ।  আপনি সরকারিভাবে সৌদি আরব গিয়ে টাকা উপার্জন করতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নিম্নরূপ-

  • আবেদনকারীর ছবি
  • আবেদনকারীর একটি পূর্ণাঙ্গ বায়ো ডাটা
  • আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা( নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে)
  •  আবেদনকারীর সম্পর্কে সঠিক তথ্য ধারা অনলাইন ফরম পূরণ 
  • পারিবারিক বিভিন্ন তথ্য 
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট 
  • চাকরির অভিজ্ঞতা সনদপত্র ও প্রমাণপত্র
  • আবেদনকারীর ন্যাশনাল আইডি কার্ড থাকতে হবে
  • আবেদনকারীর সরকার কর্তৃক প্রদত্ত জন্ম নিবন্ধন কার্ড থাকতে হবে।
  • আবেদনকারী বিবাহিত হলে বিবাহ সনদ প্রয়োজন হতে পারে।
  • যে কোন চাকরির কমপক্ষে এক বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে ও অভিজ্ঞতার সনদ বা প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
  • পর্যাপ্ত ব্যাংক সলভেন্সি
  • মেডিকেল রিপোর্ট
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ইত্যাদি।

সরকারিভাবে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য প্রাথমিক ভাবে আবেদনের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনশক্তি ও পরিসংখ্যান ব্যুরো ডাটা ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এরপরে ক্রমান্বয়ে ছাড়পত্র সংগ্রহ ,মেডিকেল রিপোর্ট প্রস্তুত করা ,পাসপোর্ট তৈরি করা ইত্যাদি সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। তারপর সরকারিভাবে সৌদি আরবে গিয়ে যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করবেন সে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সকল তথ্য সংগ্রহ করে এজেন্সির মাধ্যমে চুক্তিপত্র চূড়ান্ত করতে হবে।

সরকারিভাবে সৌদি আরবে যাওয়ার পরে আপনার অভিবাসী হওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে সে ক্ষেত্রে আপনার কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন হবে তা নিম্নরূপ

  • আবেদনকারীর একটি পূর্ণাঙ্গ বায়ো ডাটা
  • আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা (নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে)
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স 
  • মেডিকেল রিপোর্ট 
  • পারিবারিক বিভিন্ন তথ্য 
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট 
  • সৌদি আরবে গিয়ে বর্তমানে যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন তথ্য সম্পর্কিত কিছু তথ্য।
  • চাকরির অভিজ্ঞতা সনদপত্র ও প্রমাণপত্র

তারপর সৌদি আরবের অভিবাসী আবেদন গ্র্যান্ড হলে আপনি সেখানে অভিবাসী হিসেবে সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন এবং আপনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন সেখান থেকে যে পারিশ্রমিক পাবেন তা নিজের পরিবারের কাছে প্রেরণ এর মাধ্যমে পরিবার ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন।

১০.সরকারিভাবে কানাডা যাওয়ার উপায়! সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়?

অভিবাসীদের অন্যতম সুযোগ-সুবিধা প্রদানকারী অন্যতম দেশ হচ্ছে কানাডা। প্রতিবছর বিভিন্ন কাজের জন্য সরকারি বা ব্যক্তিগতভাবে সারা পৃথিবী থেকে প্রায় তিন লাখ কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকে কানাডা। তাহলে বুঝতেই পারছেন আপনি চাইলে কম খরচে সরকারিভাবে কানাডা গিয়ে টাকা আয় করার সুযোগ আছে।

চাকুরীজীবী হিসেবে সরকারিভাবে কানাডা যাওয়ার উপায়

কানাডায় কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে বেশ কিছু রয়েছে যেখানে আবেদন করে সরকারিভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে কানাডা যাওয়া যায়। যে সব পদে আবেদনের মাধ্যমে সরকারিভাবে দ্রুত কানাডা যাওয়া যায় তা হচ্ছে- 

  • সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ 
  • কাস্টমার সার্ভিস রিপ্রেজেন্টেটিভ 
  • ম্যানুফ্যাকচারিং এ দক্ষ 
  • একাউন্টেন্ট 
  • সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার 
  • আইটি প্রজেক্ট ম্যানেজার 
  • ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্ট ম্যানেজার 
  • অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার ইত্যাদি।
 উপরে উল্লেখিত কাজগুলো সম্পন্ন দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা ভিত্তিক। উক্ত কাজ গুলোর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে সরকারিভাবে কানাডায় গিয়ে একটি ভাল ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারেন। পাশাপাশি আপনি যেকোন ডিপ্লোমাধারী ব ডিগ্রী পাস করে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মী হলে কানাডায় গিয়ে চাকরি করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।

শ্রমিক হিসেবে সরকারিভাবে কানাডা যাওয়ার উপায়

কানাডায় চাকরির পাশাপাশি বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়, যে সকল কাজের জন্য আপনি সরকারিভাবে কানাডা যেতে পারবেন। কানাডা গত 2020 সাল পর্যন্ত গত তিন বছরে প্রায় 10 লাখ শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছে শ্রমিক হিসেবে।

কানাডায় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাছাড়াও স্বল্প অভিজ্ঞতায় শ্রমিক হিসেবে আপনি সরকারিভাবে কানাডা যেতে পারেন। প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ সরকারিভাবে শ্রমিক হিসেবে কানাডা যায় কাজের সন্ধানে।প্রায় 347 টি পেশায় এই জনবল নিয়োগ দিয়ে থাকে কানাডা। যার মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক সহকারি, বিক্রয়কর্মী ,হেয়ার স্টাইলিস্ট ইত্যাদি।

আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কানাডায় গিয়ে চাকরি বা শ্রমিক হিসেবে কাজ করা ছাড়াও IEC অর্থাৎ (ইন্টারন্যাশনাল এক্সপেরিয়েন্স কানাডা) এর আওতায় 15 থেকে 35 বছর বয়সী মানুষ চাকরির লেটার ছাড়াই কানাডা যেতে পারে। তবে এদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে নিজ খরচে বা সরকারিভাবে কানাডা যেতে হতে পারে।

সরকারিভাবে কানাডা কাজের ভিসা পেতে কি কি যোগ্যতা লাগে?

আপনি যদি সরকারিভাবে কানাডা গিয়ে টাকা উপার্জন করতে চান ,তাহলে আপনার নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতার প্রয়োজন আছে। কানাডায় অধিকাংশ সময়ই অভিজ্ঞতা যোগ্যতা ও দক্ষতা ভিত্তিক কাজের জন্য নিয়োগ দেওয়ায় ,সরকারিভাবে কানাডা গিয়ে কাজ করার জন্য ভিসা পেতে কিছু যোগ্যতার প্রয়োজন হয় । আপনার মধ্যে যদি সেসব যোগ্যতা থাকে তাহলে আপনি সরকারিভাবে কানাডা গিয় টাকা উপার্জন করতে পারেন। কানাডা কাজের ভিসা পেতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নিম্নরূপ-

  • আবেদনকারীর ছবি
  • আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র। আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে এইচএসসি বা সমমান পাস হতে হবে।
  • চাকরির অভিজ্ঞতার সনদপত্র ও প্রমাণপত্র
  • আবেদনকারীর ন্যাশনাল আইডি কার্ড থাকতে হবে
  • আবেদনকারীর সরকার কর্তৃক প্রদত্ত জন্ম নিবন্ধন কার্ড থাকতে হবে।
  • আবেদনকারী বিবাহিত হলে বিবাহ সনদ প্রয়োজন হতে পারে।
  • যে কোন চাকরির কমপক্ষে এক বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে ও অভিজ্ঞতার সনদ বা প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
  • পর্যাপ্ত ব্যাংক সলভেন্সি
  • মেডিকেল রিপোর্ট
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ইত্যাদি।
এছাড়াও নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনকারীর সকল ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে একটা বিষয় গুরুত্বসহকারে খেয়াল রাখতে হবে যে আবেদনকারী বা আবেদনকারীর পিতা মাতার নাম এর বানান যেন সকল ডকুমেন্ট পেপারে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। নামের বানানে অসঙ্গতি দেখা দিলে আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না । এছাড়াও আবেদনে প্রদানকৃত সকল তথ্য সত্য ও সঠিক হতে হবে।

কানাডায় চাকরির অফার পেতে কি কি কাগজপত্র লাগে?

সরকারিভাবে কানাডা গিয়ে যদি আপনি চাকরির জন্য আবেদন করতে চান তাহলে আপনার কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন হবে।কানাডায় চাকরির অফার পেতে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে তা নিম্নরূপ-

  • আবেদনকারীকে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে
  • আবেদনকারীর চার কপি ছবি। [ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা, সাইজ - 35"×45"]
  • পাসপোর্ট এর ইনফরশন পেজ এর স্ক্যান কপি
  • শিক্ষাগত সকল সনদের স্ক্যান কপি
  • অভিজ্ঞতার সনদপত্র সমূহ ইত্যাদি।
কানাডায় অভিবাসন এর জন্য আবেদন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র 
সরকারিভাবে কানাডায় গিয়ে সকল অভিবাসন সুবিধা ভোগ করার জন্য প্রথমে আপনাকে কানাডায় অভিবাসন এর জন্য আবেদন করতে হবে। কানাডায় অভিবাসন এর জন্য আবেদন করতে যে সকল কাগজপত্র প্রয়োজন তা নিম্নরূপ-

  • আবেদনকারীর একটি পূর্ণাঙ্গ বায়ো ডাটা
  • আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা 
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স 
  • মেডিকেল রিপোর্ট 
  • পারিবারিক বিভিন্ন তথ্য 
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট 
  • ইসিএ সনদ 
  • চাকরির অভিজ্ঞতা সনদপত্র ও প্রমাণপত্র
  •  আইইএলটিএস স্কোর ইত্যাদি।

উক্ত কাগজপত্র মাধ্যমে আপনি কানাডা গিয়ে অভিবাসনের জন্য আবেদন করতে পারেন এবং অভিবাসন আবেদন গ্রান্টেড হলে আপনি অভিবাসী হিসেবে সম্পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

১১.সরকারিভাবে ওমানে যাওয়ার উপায়! সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়?

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরো প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক কর্মী বিদেশ যাওয়ার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে ওমান এবং ওমানে বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক কর্মী সরকারিভাবে যাওয়ার সুযোগ পায়। 2019 সালে বাংলাদেশ থেকে ওমানে কাজের সন্ধানে গেছে প্রায় 72 হাজার 398 জন কর্মী। 2020 সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে 17 হাজার 398 জন কর্মী ওমান এগিয়েছে কর্মসংস্থানের খোঁজে।

বিগত বছরগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে যেসকল কর্মীরা ওমানে যায় কাজের খোঁজে তাদের অধিকাংশই সরকারিভাবে বিদেশ যায়।

সরকারিভাবে ওমানের যাওয়ার প্রক্রিয়া

নির্দিষ্ট একটা সময়ে ওমানে বাংলাদেশের শ্রমিকদের সরকারীভাবে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। বৈদেশিক চাকরির খোঁজখবর পাওয়া যায় এরূপ পত্রিকার মাধ্যমে আপনি অতি সহজেই জানতে পারবেন সরকারিভাবে ওমানে কর্মী নিয়োগ দেওয়ার সময় ও সকল নির্দেশনা সম্পর্কে জানতে পারবেন। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি ও পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রতিবেদন কর্তৃক জানতে পারবেন।

প্রতিবেদন অনুসারে নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইনে ফরম পূরণ ও যাবতীয় কার্যাদি সম্পাদন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে আপনি আপনার আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। সরকারিভাবে ওমানে যেতে সম্ভাব্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিম্নরূপ-

  • আবেদনকারীর ছবি
  • আবেদনকারীর একটি পূর্ণাঙ্গ বায়ো ডাটা
  • আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা( নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে)
  •  আবেদনকারীর সম্পর্কে সঠিক তথ্য ধারা অনলাইন ফরম পূরণ 
  • পারিবারিক বিভিন্ন তথ্য 
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট 
  • চাকরির অভিজ্ঞতা সনদপত্র ও প্রমাণপত্র
  • আবেদনকারীর ন্যাশনাল আইডি কার্ড থাকতে হবে
  • আবেদনকারীর সরকার কর্তৃক প্রদত্ত জন্ম নিবন্ধন কার্ড থাকতে হবে।
  • আবেদনকারী বিবাহিত হলে বিবাহ সনদ প্রয়োজন হতে পারে।
  • মেডিকেল রিপোর্ট
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ইত্যাদি।

অনলাইন ফরম পূরণ করে নির্দেশনা অনুযায়ী উক্ত কাগজপত্র গুলো সংযুক্ত করে ক্রমান্বয়ে ধাপে ধাপে আপনি আপনার সরকারিভাবে ওমানে যাওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।

বাংলাদেশ থেকে যেসকল কর্মীরা ওমানে যায় তারা অধিকাংশই শ্রমিক হিসেবে কর্মসংস্থানের খোঁজে যায়। এজন্য প্রথমত তাদের উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বিভিন্ন চাকরির জন্য অন্যান্য সেক্টরের অর্জিত অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশ থেকে যেসকল শ্রমিকরা সরকারিভাবে ওমানে গিয়ে কাজ করে তাদের অধিকাংশই অদক্ষ। 

বাংলাদেশ থেকে ওমান এগিয়ে কর্মীদের যে ধরনের কাজ করতে হয় তা নিম্নরূপ-

  • নির্মাণকাজ
  • ওয়ার্কশপ।
অধিকাংশ সময় বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক ভিসায় সরকারিভাবে যেসকল শ্রমিকরা ওমানে যায় তাদের মুখ্য অংশই নির্মাণকাজ ওয়ার্কশপ ইত্যাদিতে কাজ করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে থাকে। এজন্য বাংলাদেশ থেকে ওমানে গিয়ে শ্রমিকদের কাজ করার জন্য পূর্ব অভিজ্ঞতার খুব একটা প্রয়োজন হয় না পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও বিভিন্ন চাকরির অভিজ্ঞতার ও প্রয়োজন হয়না।

সরকারিভাবে ওমানে  যাওয়ার পর কর্মী বা শ্রমিকদের সবচেয়ে আগে প্রয়োজন হয় অভিবাসন ব্যবস্থা। এজন্য শ্রমিকদের অভিবাসনের জন্য আবেদন করতে হয় এবং তা গ্রান্টেড হলে সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারে। অভিবাসনের জন্য শ্রমিকদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ অভিবাসনের জন্য আবেদন করতে হয়।

আপনার কোন উৎস শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বিশেষ সেক্টরে কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়াও আপনি চাইলে সরকারিভাবে ওমানে গিয়ে টাকা উপার্জন করার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

১২.সরকারিভাবে কাতার যাওয়ার উপায় !সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়?

সৌদি আরব, কানাডা, ওমানের ন্যায় সরকারিভাবে  গিয়েও কর্মসংস্থান খোঁজের সুবিধা রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয় এর প্রতিবেদন অনুযায়ী কাতার বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য একটি পপুলার ডেস্টিনেশন।

2019 সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী হিসেবে কাতারে গিয়েছে 50 হাজার 292 জন কর্মী এবং 2020 সালে করোনাকালীন সময়ের আগ পর্যন্ত অর্থাৎ মার্চ মাস পর্যন্ত কাতারে গিয়েছে  3 হাজার 503 জন।

কাতার এ চাকরির পাশাপাশি বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়, যে সকল কাজের জন্য আপনি সরকারিভাবে কানাডা যেতে পারবেন। কাতারে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাছাড়াও স্বল্প অভিজ্ঞতায় বা অভিজ্ঞতা ছাড়াও শ্রমিক হিসেবে আপনি সরকারিভাবে কাতার যেতে পারেন। 

এছাড়াও যেসব পেশায় ভালো মানের চাকরি এর মাধ্যমে আপনি কাতারে ভালো একটি ক্যারিয়ার নির্মাণ করতে পারেন তা নিম্নরূপ

  • দক্ষ প্রকৌশলী 
  • রসায়নবিদ 
  • ব্যাংকার 
  • ইমাম ইত্যাদি।

ব্যক্তিগতভাবে কাতারে যাওয়া অনেক ব্যয়বহুল। এছাড়াও সরকারিভাবে কাতারে যেতে অন্যান্য দেশের তুলনায় আপনার বেশি খরচ হবে।

সরকারিভাবে কাতার যাওয়ার জন্য আপনার সরকারি জনশক্তি রপ্তানি প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় কিছু এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করতে হবে। বর্তমানে সরকারিভাবে কাতারে গিয়ে চাকরি করে ক্যারিয়ার তৈরি করতে চাইলে এজেন্সি ছাড়া বিকল্প কোন অপশন নেই।

কাতারে দক্ষ শ্রমিকের অনেক চাহিদা রয়েছে। এজন্য উচ্চশিক্ষিত না হয়েও আপনি শ্রমিক হিসেবে কোন বিশেষ সেক্টরে যদি দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে সরকারিভাবে কাতারে গিয়ে আপনি একটা ভালো করে নির্মাণ করতে পারেন।

কাতারে যাওয়া তুলনামূলক ব্যয়বহুল হওয়ায় সরকারিভাবে কাতারে যাওয়া মানুষের সংখ্যা অনেক কম । এ জন্য সরকারিভাবে আপনি কাতারে যেতে চাইলে আপনাকে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে এবং জনশক্তি পরিসংখ্যান ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রণালয় এর মাধ্যমে অনলাইন সার্কুলার দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দেশনা অনুযায়ী সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

কাতারের সরকারিভাবে যাওয়ার জন্য আবেদন করতে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র নিম্নরূপ

  • আবেদনকারীর ছবি
  • আবেদনকারীর একটি পূর্ণাঙ্গ বায়ো ডাটা
  • আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা( নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে)
  • চাকরির ক্ষেত্রে পূর্বে যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন সে প্রতিষ্ঠান অভিজ্ঞতার সনদপত্র।
  •  আবেদনকারীর সম্পর্কে সঠিক তথ্য ধারা অনলাইন ফরম পূরণ 
  • পারিবারিক বিভিন্ন তথ্য 
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট 
  • চাকরির অভিজ্ঞতা সনদপত্র ও প্রমাণপত্র
  • আবেদনকারীর ন্যাশনাল আইডি কার্ড থাকতে হবে
  • আবেদনকারীর সরকার কর্তৃক প্রদত্ত জন্ম নিবন্ধন কার্ড থাকতে হবে।
  • আবেদনকারী বিবাহিত হলে বিবাহ সনদ প্রয়োজন হতে পারে।
  • মেডিকেল রিপোর্ট
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ইত্যাদি।

অনলাইন ফরম পূরণ করে নির্দেশনা অনুযায়ী সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। সরকারিভাবে কাতারে গিয়ে চাকরি করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এজেন্সি। তাই সচেতন ভাবেই একটি বিশ্বস্ত এজেন্সি বাছাই করে পর্যায়ক্রমে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

১৩. লেখকের মন্তব্য 

আপনার ব্যাক্তিগত ভাবে বিদেশ যাওয়ার সামর্থ্য না থাকলেও সরকারিভাবে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আপনি বিদেশ গিয়ে টাকা উপার্জন করতে পারেন। এক্ষেত্রে সৌদি আরব কানাডা ওমান ইত্যাদি দেশে আপনি দক্ষ না হয়ে বা স্বল্প দক্ষ হয়েও শ্রমিক হিসেবে গিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা উপার্জন করে দেশের জিডিপি ও ব্যক্তিগত আর্থিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন। 

এছাড়াও শ্রমিক বা কর্মী হিসেবে সরকারিভাবে কুয়েত, সিঙ্গাপুর ইত্যাদ দেশে যাওয়া যায়।তবে সিঙ্গাপুর, কুয়েত ইত্যাদি দেশে তুলনামূলকভাবে অনেক কম সংখ্যক শ্রমিক সরকারিভাবে কর্মসংস্থানের খরচে যাওয়ার সুযোগ পায়। সিঙ্গাপুরে বিশেষত ব্যক্তিগতভাবে যেসকল শ্রমিক কাজের জন্য গমন করে , তাদের জন্য সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা অনেক ব্যয়বহুল হয়ে যায়। এছাড়াও সিঙ্গাপুরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দক্ষ ও তুলনামূলক শিক্ষিত  কর্মীর প্রয়োজন হয়।

 কর্মী ও দক্ষতা ছাড়াও ভাষাগত দক্ষতার প্রয়োজন রয়েছে এই দেশে কাজ করার জন্য। আপনার মধ্যে যদি এসকল যোগ্যতা থাকে তাহলে আপনি এসব দেশে গিয়ে তুলনামূলক অনেক টাকা আয় করতে পারবেন।

তবে সরকারিভাবে বিদেশ গিয়ে টাকা আয় করার জন্য একটু সচেতনতা সাথে নিয়মিত সকল বৈদেশিক চাকরির খোঁজখবর রাখতে হবে এবং নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে সঠিক নির্দেশনা অনুযায়ী সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

14 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

  1. Replies
    1. আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি.??

      Delete
  2. My name is abutaher.i complete my hsc at science. Now i want to go foreign. So in this situation how i can go to Foreign and could get a best amount of salary. Which country is the best?? Plzz inform me

    ReplyDelete
    Replies
    1. সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করুন, দালালের সাথে যোগাযোগ করবেন না।

      Delete
  3. আমি রাজিয়া সুলতানা,hsc পাস।দশ বছর সেলস এন্ড মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট এ কাজ করছি।আমি কানাডা যেতে ইচ্ছুক। কিভাবে সহজে এবং সরকারি ভাবে যেতে পারি?কোথায় যোগাযোগ করবো

    ReplyDelete
  4. স্থানীয় যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কথা বলুন। জেলা শক্তি ও কর্মসংস্থান অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।

    ReplyDelete
  5. সরকারীভাবে একজন ব্যক্তি কানাডা যেতে কত টাকা ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হবে। প্লীজ জানাবেন

    ReplyDelete
    Replies
    1. কানাডা থেকে শ্রমিক নিয়োগের যে নীতিমালা প্রদান করা হয়,তা অনুসরণ করুন!
      ধন্যবাদ।

      Delete
  6. আমি ইলেকট্রিক এড্ন সেনেটারি কাজ করি। ৮ বছর ধরে। আমি এখন সরকারিভাবে বিদেশে যেতে চাই কিভাবে যাবো একটু দয়া করে জানাবেন

    ReplyDelete
    Replies
    1. জেলা শক্তি ও কর্মসংস্থান অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।পাশাপাশি বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে কিনা তার খোঁজ খবর রাখুন।
      ধন্যবাদ।

      Delete
  7. ভাই আমি কানাডা যেথে চাই কাজের জন্য আমি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং করেছি মেরিন থেকে এখন আমার ইচ্ছা আমি কানাডা গিয়ে জব করব অটোমোবাইল

    ReplyDelete
    Replies
    1. আপনি জেলা শক্তি ও কর্মসংস্থান অফিসে যোগাযোগ করুন

      Delete
  8. আমি বিদেশে যাইতে চাই ওয়াললিং এর কাজের উপর আমি কাজ পারি বিদেশে করতে চাই ওয়াললিং

    ReplyDelete
  9. Ami diploma in medical technologist complete Koreci akhn bidase job Korte cai ki vabe jete parbo Janaben plz

    ReplyDelete

অর্ডিনারি আইটি কী?