The DU Speech https://www.duspeech.com/2021/10/mashrafe%20.html

ক্রিকেট থেকে রাজনীতির মাঠে মাশরাফি

 

ক্রিকেট থেকে রাজনীতির মাঠ সবেতেই সফল মাশরাফি 

বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক জনপ্রিয় নাম মাশরাফি বিন মোর্তজা।ক্রিকেট ভক্ত জনগনের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে মাশরাফির অবস্থান।একসময়ের টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-২০ খেলার অধিনায়ক ছিলেন মাশরাফি।

 বর্তমানে ক্রিকেট দুনিয়ায় সরব উপস্থিতি না থাকলেও জনগনের হিতচিন্তায় নেমেছেন রাজনীতির মাঠে।ক্রিকেট মাঠ হোক অথবা রাজনীতির মাঠ উভয় জায়গায় সমান সফল মাশরাফি।আজ এই গুণী ব্যক্তির জন্মদিনে তাকেই ক্ষানিকটা জানার চেষ্টা করবো। এই পোস্টে মাশরাফির সংক্ষিপ্ত জীবনী নিয়ে আলোচনা করব।




মাশরাফির জন্ম ও বেড়ে ওঠা|মাশরাফির সংক্ষিপ্ত জীবনী 

মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা জন্মগ্রহণ করেন ১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবরে যশোরের নড়াইলে।নড়াইলের প্রিন্স অব হার্টস বলা হয় মাশরাফিকে।এছাড়াও মাশরাফির ডাকনাম ম্যাশ, কৌশিক।মাশরাফির পিতার নাম গোলাম মোর্ত্তজা,তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং মায়ের নাম হামিদা মোর্ত্তজা তিনি একজন গৃহিণী।ছোট থেকেই মাশরাফি ছিল ডানপিটে।নড়াইলে মাশরাফির বেড়ে ওঠা।নড়াইল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০০১ সালে এসএসসি পাশ করেন।মাশরাফি সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ২০০৩ সালে এইচএসসি পাশ করেন।এবং পরে মাশরাফি ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষে দর্শনশাস্ত্রে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।মাশরাফির উচ্চতা ৬-২" ইঞ্চি।

মাশরাফির জীবনসঙ্গী এবং পরিবার | সংক্ষিপ্ত জীবনী 


মাশরাফি সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়াকালীন পরিচয় ঘটে সুমির সাথে।পুরো নাম সুমনা হক সুমি।কলেজে নোট আদান-প্রদানের সূত্রে প্রণয় ঘটে দুজনের।মাশরাফির জেদ এবং তার নাহিদ মামার প্রচেষ্টায় সুমির সাথেই বিয়ে ঠিক হয় মাশরাফির।২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে সুমনা হক সুমির সাথেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মাশরাফি।মাশরাফির-সুমনা দম্পতির সন্তান দুই জন।এক ছেলে এবং এক মেয়ে।মাশরাফির মেয়ে হুমায়রা মোর্তজা এবং ছেলে সাহেল মোর্তজা। 

ক্রিকেট এবং মাশরাফি | সংক্ষিপ্ত জীবনী 



ছোট থেকেই খেলাদুলার প্রতি আলাদা অনুরাগ ছিল মাশরাফির।১১ বছর বয়সে মাশরাফি নড়াইল ক্রিকেট ক্লাবে খেলার সুযোগ পান।১৯৯১ সালে মাগুরায় বিকেএসপির প্রতিভা অন্বেষণ ক্যাম্পের কোচ বাপ্পির সান্নিধ্যে আসেন মাশরাফি।বাপ্পির কাছ থেকে মাশরাফি বোলিংয়ের অনেক কিছু রপ্ত করেন।

পরের বছর খুলনায় খেলার জন্য আমন্ত্রণ আসে মাশরাফির।খুলনায় মাশরাফির বোলিংয়ের গতি হইচই ফেলে দেয়।দুর্দান্ত খেলার সূত্রেই খুলনা বিভাগীয় অনুর্ধ্ব-১৭ দলে খেলার সুযোগ পায় মাশরাফি। এবং সেই সূত্রেই ঢাকায় আসেন মাশরাফি।এরপর মাশরাফি সুযোগ পান জাতীয় ক্রিকেটর অনুর্ধ্ব-১৯ দলে।

এসময় নিজের পার্ফর্মেন্স দিয়ে নজর কারেন কোচ অ্যান্ডি রবার্টসেরঅ্যান্ডি রবার্টসের সুপারিশেই জিম্বাবুয়ে দলের বিরুদ্ধে 'এ' দলে খেলার সুযোগ পায় মাশরাফি।এতে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।কিন্তু সকল সমালোচনার মুক্ষ জবাব দেয় মাশরাফির দুর্দান্ত বোলিং।সেই ম্যাচে মাশরাফি ৪ উইকেট নিয়েছিলেন।এভাবেই জাতীয় দলে একজন গুণী খেলোয়াড়ের আগমন ঘটে ।

 আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাশরাফির অভিষেক হয় ২০০১ সালের ৮ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে।মাশরাফির জার্সি নম্বর ২।সেই ম্যাচেই মাশরাফি ১০৬ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন।একই বছর ২৩শে নভেম্বর ওয়ানডে ক্রিকেটে মাশরাফির অভিষেক হয়।সেই ম্যাচেও মাশরাফির পার্ফর্মেন্স ছিল অবাক করার মতো।৮ ওভার ২ বলে মাশরাফি ২৬ রান দেন এবং উইকেট নেন ২টি।

২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে একটি ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ম্যাচের অবিস্মরণীয় জয়ের নায়ক ছিল মাশরাফি।২০০৬ সালে ক্রিকেট বর্ষে মাশরাফি ছিলেন ওয়ানডে ম্যাচের আন্তর্জাতিক খেলায় বিশ্বের সর্বাধিক উইকেট শিকারি।সেসময় মাশরাফি ৪৯ টি উইকেট নিয়েছিল।টি-২০ ক্রিকেটে মাশরাফির অভিষেক হয় ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।বাংলাদেশি বোলার হিসেবে মাশরাফির গড় ছিল অনেক ভালো।মাশরাফি ডানহাতি বোলার।সর্বোচ্চ গতির বোলার হিসেবে সমর্থকদের কাছে মাশরাফি নড়াইল এক্সপ্রেস নামে খ্যাত।

 

অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির ক্যারিয়ার


২০০৯ সালে মাশরাফি তৎকালীন অধিনায়ক মোহাম্মদ  আশরাফুলের সহকারী ছিল।পরে ওই বছরই জুন মাসে মাশরাফি তার স্থলাভিষিক্ত হয়।২০১৫ সালের বিশ্বকাপেও মাশরাফি বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।মাশরাফি ব্যাটসম্যান হিসেবেও ছিলেন দুর্দান্ত।মাশরাফি ডানহাতি ব্যাটসম্যান ছিল।ভারতের বিপক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় পরপর চার বলে ছক্কা হাকিয়ে এবং ওই ওভারে মোট ২৬ রান সংগ্রহ করে, মাশরাফি বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে এক ওভারে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে।তবে এই দুর্দান্ত খেলোয়াড় ১৬ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে চোটের কারণে মোট এগারো বার দলের বাইরে ছিলেন।মাশরাফির শেষ টেস্ট খেলা ছিল ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।মাশরাফির শেষ ওডিআই ম্যাচ ছিল ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এবং ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ছিল মাশরাফির শেষ টি-২০।মাশরাফি এ পর্যন্ত টেস্ট ম্যাচ খেলেছে ৩৬টি,ওডিআই ম্যাচ খেলেছে ২০৯ টি এরমধ্যে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৮৮টিতে এবং জয়ী হয়েছেন ৫০টিতে।মাশরাফি টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন মোট ৫৪টি।বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্তজা। খেলার মাঠে মাশরাফি  ছিলেন  সতীর্থদের অনুপ্রেরণা। 

 

মাশরাফি জীবনের টার্নিং পয়েন্ট 

বারবার ইনজুরির মুখে পরেও আবার পুনরোদ্যমে ফিরে আসা এক প্রতিভার নাম মাশরাফি। ১৬ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে মোট ১১ বার চোটের কারণে দলের বাইরে গিয়েছিল মাশরাফি। এর মধ্যে মাশরাফির বাঁ হাটুতে চার বার এবং ডান হাটুতে তিন বার অস্ত্রোপচার হয়েছে।নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম হাটুর ইনজুরি দিয়ে শুরু। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যক্তিগত তৃতীয় টেস্টে খেলার সময় হাটুতে আঘাত পেয়ে প্রায় দুবছর ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন মাশরাফি।অধিনায়ক হিসেবে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে প্রথম ম্যাচেই হাটুতে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন মাশরাফি। এই চোটের কারণে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত মাঠের বাইরে ছিলেন মাশরাফি। ২০১১ সালের বিশ্বকাপও এই চোটের কারণে খেলতে পারেননি।ইনজুরির কারণে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপ মিস করলেও হার মানেননি লড়াকু মাশরাফি।প্রতিবার ইনজুরির সাথে লড়াই করে মাঠে ফিরেছেন মাশরাফি। ২০১৪ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ঘরোয়া ক্রিকেটে আবারো অধিনায়কত্ব পান মাশরাফি। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপেও দায়িত্ব পালন করেন মাশরাফি। মাশরাফির ইনজুরির সাথে লড়াইয়ে হতবাক খোদ ডাক্তার ডেভিড ইয়াং।মাশরাফির ডাক্তার ডেবিড ইয়াং বলেন,"এ ও কি সম্ভব! এ ধরনের একটা ইনজুরি-ই তো শেষ করে দিতে পারে একজন ফাস্ট বোলারের ক্যারিয়ার।সেখানে মাশরাফির বারবার লড়াই করে ফিরে আসার কারণ কি?" এ প্রশ্নের উত্তর মাশরাফি নিজেই এক সাক্ষাৎকারে দিয়েছিলেন,"বারবার ইনজুরি থেকে ফিরে আসার প্রেরণাও পাই সেসব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকেই।এমনও ম্যাচ গেছে আমি হয়তো চোটের কারণে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিলাম না।দুই তিনটা বল করেই বুঝতে পারছিলাম সমস্যা হচ্ছে। তখন তাঁদের স্মরণ করেছি।নিজেকে বলেছি,"হাত পায়ে গুলি লাগার পরেও তাঁরা যুদ্ধ করেছিলেন কিভাবে?তোর তো একটা মাত্র লিগামেন্ট নেই।দৌড়া...." মাশরাফির এই কথাগুলোই প্রমাণ করে কতটা লড়াকু তিনি।একজন মানুষেরজীবনের টার্নিং পয়েন্ট খুব বেশি না হলেও মাশরাফির জীবনে তা ছিল বারবার।ইনজুর হয়ে মাশরাফি চুপ করে বসে থাকেননি।প্রতিবার মাঠে ফিরে আসার অদম্য চেষ্টা, রক্ত পানি করা পরিশ্রম  মাশরাফিকে সফলতা এনে দিয়েছে।তাই যতবার মাশরাফি ইনজুর হয়েছে প্রতিবার ছিল তার জীবনের একেকটি টার্নিং পয়েন্ট।


সংসদ সদস্য মাশরাফি


 

মাশরাফি ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।ওই বছর ১১ নভেম্বর মাশরাফির নিজ এলাকা নড়াইল-২ আসনের হয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন মাশরাফি।২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৭১২১০ ভোটে জয়ী হয়ে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাশরাফি। বর্তমানে মাশরাফি রাজনীতির মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। জনগনের হিত চিন্তা মাশরাফির একমাত্র লক্ষ্য। 


পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

2 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

  1. মাশরাফি বাংলাদেশের প্রায় সব ক্রিকেট প্রেমিদের প্রিয় প্লেয়ার।

    ReplyDelete

অর্ডিনারি আইটি কী?