OrdinaryITPostAd

রোজার কাফফারা ২০২৩ কত টাকা-রোজার ফিদিয়া কত টাকা

ইসলাম শান্তির ধর্ম।এই ধর্ম কারো উপর জুলুম করে না। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ রোজার ক্ষেত্রে অপারগ ব্যক্তিদের রোজা ছাড় দেওয়ার শর্ত হচ্ছে কাফফারা ও ফিদিয়া।রোজার কাফফারা ২০২৩ কত টাকা-রোজার ফিদিয়া কত টাকা তা জানা প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য জরুরি।কেননা অনীবার্য কারণ বশত কারো রোজা কাজা হয়ে গেলে তাকে রোজার কাফফারা ও ফিদিয়া দিতে হবে।রোজার কাফফারা ২০২৩ কত টাকা-রোজার ফিদিয়া কত টাকা আর্টিকেলে আমরা কাজা রোজার পরিবর্তে করনীয় সম্পর্কে জানব এবং রোজার কাফফারা কত টাকা-রোজার ফিদিয়া কত টাকা তা জানব।



অনুচ্ছেদ সূচি (যে অংশ পড়তে চান তার উপর ক্লিক করুন) 

  1. কাফফারা ও ফিদিয়া কী 
  2. রোজার কাফফারা ও ফিদিয়া কত টাকা 
  3. যাদের রোজার কাফফারা ও ফিদিয়া দেওয়া যাবে 
  4. প্রশ্ন- উত্তর পর্ব 
  5. লেখকের মন্তব্য 

১.কাফফারা ও ফিদিয়া কী|রোজার কাফফারা ২০২৩ কত টাকা-রোজার ফিদিয়া কত টাকা

"রোজার কাফফারা কত টাকা ২০২৩-রোজার ফিদিয়া কত টাকা" এই বিষয়ে আলোচনা করার পূর্বে আমাদের কাফফারা ও ফিদিয়া কী তা জানতে হবে।আর্টিকেলের এই অংশে আমরা কাফফারা ও ফিদিয়া কী তা জানব।

কাফফারা: কাফফারা আরবী শব্দ।এর আভিধানিক অর্থ হলো ঢেকে দেওয়া, আড়াল করা ইত্যাদি।ইসলামি পরিভাষায় নেক আমল ও কৃত অপরাধের বদলা দ্বারা পাপ ঢেকে দেওয়াকে কাফফারা বলা হয়।যখন কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন রোজা বাদ দেয় বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে রোজা ভঙ্গ করে তখন কাফফারা দিতে হয় এবং ঐ ব্যক্তির উপর কাফফারা ওয়াজিব হয়ে যায়।রোজা রেখে ভুল করে কিছু খেয়ে ফেললে,ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে,ছিয়াম অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করলে রোজার কাফফারা দিতে হয়।

ফিদিয়া: ফিদিয়া আরবি শব্দ, এর আভিধানিক অর্থ মুক্তিপণ,বন্দির উদ্ধার মূল্য, কোরবান ইত্যাদি।মূলত অনিবার্য কারণ যেমন অশীতপর বৃদ্ধাবস্থা, এমন কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়া যার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে ইত্যাদির জন্য কারও পক্ষে রোজা রাখা সম্ভব না হলে ঐ ব্যক্তিকে রোজা না রাখার বদলা স্বরূপ যে অর্থ, খাদ্য বা সমমান কিছু দান করতে হয় তাকে ফিদিয়া বলে।দূরারোগ্য ব্যধী যেমন: ক্যান্সার, কিডনি বিকল,এইডস ইত্যাদি যেগুলো আক্রান্ত হওয়ার ফলে রোগ নিরাময়ের সম্ভাবনা নেই এবং অশীতিপর বৃদ্ধ যাদের রোযা রাখার মতো শারীরিক অবস্থা একেবারেই নেই তাদের ক্ষেত্রে ফিদিয়া প্রদান করে রোজার কাফফারা আদায় করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ রমজান মাসে স্বপ্নদোষ হলে করনীয়

.রোজার কাফফারা ও ফিদিয়া কত টাকা|রোজার কাফফারা ২০২৩ কত টাকা-রোজার ফিদিয়া কত টাকা 

ইসলামি শরীয়তে রোজার কাফফারা ও ফিদিয়ার মূল্য নির্ধারিত রয়েছে।আর্টিকেলের এই অংশে আমরা  রোজার কাফফারা ২০২৩ কত টাকা- রোজার ফিদিয়া কত টাকা তা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

রোজার কাফফারা: ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক কাফফারা আদায় করার তিনটি বিধান রয়েছে।

  1. একটি ফরজ রোজা ভঙ্গের জন্য একাধারে ৬০টি নফল রোজা রাখা। (কাফফারা ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোজার মাঝে কোনো একটি ভঙ্গ হলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে।)
  2. যদি কারও জন্য ৬০টি রোজা পালন সম্ভব না হয় তাহলে সে ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা আহার বা তার সমমূল্যের অর্থ প্রদান করবে।
  3. গোলাম বা দাসী আজাদ করতে হবে।
বর্তমান যুগে যেহেতু গোলাম বা দাসী আজাদ করার প্রচলন নেই সেহেতু কোন ব্যক্তি রোজার কাফফারা হিসেবে নফল রোজা রাখতে অসমর্থ হলে মিসকিন কে দুইবেলা আহার অথবা সমমূল্যের অর্থ প্রদান করবে। এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি নিজে যে রূপ আহার করবেন মিসকিনকে ঐরূপ আহারই করাবেন। কোন ব্যক্তি যদি মধ্যম মানের আহার করেন এবং তাতে ৫০ টাকা খরচ হয় তাহলে ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা খাওয়াতে খরচ পড়বে ৬০০০ টাকা। অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি এই সমমূল্যের খাদ্য অথবা অর্থ মিসকিন কে দান করবেন।

রোজার ফিদিয়া: আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সিয়াম বা রোজা নির্দিষ্ট কয়েক দিন। তবে তোমাদের যারা পীড়িত থাকবে বা ভ্রমণে থাকবে, তারা অন্য সময়ে এর সমপরিমাণ সংখ্যায় পূর্ণ করবে। আর যাদের রোজা পালনের সক্ষমতা নেই, তারা এর পরিবর্তে ফিদিয়া, (প্রতি রোজার জন্য) একজন মিসকিনকে (এক দিনের নিজের) খাবার দেবে। যে ব্যক্তি অধিক দান করবে, তবে তা তার জন্য অতি উত্তম। আর যদি তোমরা পুনরায় রোজা পালন করো, তবে তা তোমাদের জন্য উত্তম (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৮৪)।’

উল্লেখিত আয়াত দ্বারা ফিদিয়ার বিধান :
  1. কাজাকৃত রোজার সমপরিমাণে রোজা রাখা।
  2. রোজা রাখতে একেবারে অসমর্থ হলে একটি রোজার বদলে একজন গরীব মিসকিন কে দুই বেলা আহার করাতে হবে।
বিধান অনুসারে রোজা রাখার পরিবর্তে গরিব,মিসকিন কে আহার অথবা সমমূল্যের অর্থ অথবা 'সাদকাতুল ফিতর' পরিমাণ অর্থ প্রদান করলেও হবে। সাদকাতুল ফিতর সম্পর্কে আবু সাঈদ খুদরি (রাঃ) বলেন,"রাসূল (সা:) আমাদের মাঝে বর্তমান থাকা অবস্থায় আমরা সাদকাতুল ফিতর বাবদ এক সা' খাদ্য (গম,খেজুর,যব ,কিসমিস, পনির দান করতাম" (এক সা' সমান ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম)
সে সময় আরব দেশে গম ছিল আমদানি পণ্য তাই এর দাম ছিল সবচেয়ে বেশি আমাদের দেশে গমের দাম কম তাই গম ছাড়া অন্য পণ্যের তুল্য মূল্য করে সাদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে।
ফিদিয়া মূল্য: ফিদিয়া সাদাকাতুল ফিতরের হিসেবে প্রদান করা যায়।সাদাকাতুল ফিতরের হিসেবে বাংলাদেশে বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী গম বা আটা দ্বারা ফিদিয়া আদায় করলে ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ১১৫ (এক শ পনের) টাকা প্রদান করতে হবে।যব দ্বারা আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ৩৯৬ টাকা, কিশমিশ দ্বারা আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ১ হাজার ৬৫০ টাকা, খেজুর দ্বারা আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ১ হাজার ৯৮০ টাকা ও পনির দ্বারা আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ২ হাজার ৬৪০ টাকা ফিদিয়া প্রদান করতে হবে।

২০২৩ সালে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক  ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৪০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।সুতরাং কেউ অর্থ দিয়ে ফিদিয়া আদায় করতে চাইলে সাদকাতুল ফিতর পরিমাণে সমর্থ্য অনুযায়ী প্রতি রোজার জন্য সর্বনিম্ন ১১৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৬৪০ টাকা প্রদান করবেন।

৩.যাদের রোজার কাফফারা ও ফিদিয়া দেওয়া যাবে|রোজার কাফফারা কত টাকা ২০২৩- রোজার ফিদিয়া কত টাকা 

যাকাত ও ফিতরা দেওয়ার খাত অনুযায়ী যেসব ব্যক্তিকে যাকাত ও ফিতরা প্রদান করা যায় রোজার কাফফারা ও ফিদিয়াও সেসব ব্যক্তিকে দেওয়া যাবে।"রোজার কাফফারা কত টাকা ২০২৩- রোজার ফিদিয়া কত টাকা"
আর্টিকেলের এই অংশে আমরা রোজার কাফফারা ও ফিদিয়া কাদের দেওয়া যাবে তা নিয়ে আলোচনা করব।
 
রোজার কাফফারা ও ফিদিয়া দেওয়া যাবে:
  1. ফকির: ফকির ওই ব্যক্তি যার নিকট খুবই সামান্য সহায় সম্বল আছে।
  2. মিসকীন: মিসকীন ওই ব্যক্তি যার আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি এবং আত্মসম্মানের খাতিরে কারও কাছে হাত পাততে পারে না।
  3. আমিল: যাকাত,ফিতরা ইত্যাদি আদায় ও বিতরণের কর্মচারী।
  4. নওমুসলিম: ধর্ম ছাড়ার কারণে পারিবারিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে বঞ্চিত হয়েছে এমন ব্যক্তি।
  5. ক্রীতদাস: কৃতদাসের মুক্তির জন্য।
  6. ঋণগ্রস্থ ব্যক্তি: ধনী সম্পদশালী ব্যক্তি যার সম্পদের তুলনায় ঋণ বেশি।
  7. মুজাহিদ: ইসলামকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে যারা কাফির বা বিধর্মীদের সাথে জিহাদে লিপ্ত সে সকল মুজাহিদদের প্রয়োজনে রোজার কাফফারা ও ফিদিয়া দেয়া যাবে।
  8. মুসাফির: মুসাফির অবস্থায় কোন ব্যক্তি বিশেষ কারণে অভাবগ্রস্ত হলে ওই ব্যক্তিকে দেওয়া যাবে।

.প্রশ্ন-উত্তর পর্ব |রোজার কাফফারা কত টাকা ২০২৩-রোজার ফিদিয়া কত টাকা

আর্টিকেলের এই অংশে রোজার কাফফারা কত টাকা ২০২৩-রোজার ফিদিয়া কত টাকা এই বিষয়ে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব।
  1. প্রশ্ন:রোজার কাফফারা ও ফিদিয়া এর মধ্যে পার্থক্য কী?                                               উত্তর: ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙ্গে ফেললে রোজার কাফফারা দিতে হয়, আর অনিবার্য কারণবশত রোজা করতে অক্ষম হলে ফিদিয়া দিতে হয়।
  2. প্রশ্ন: মৃত ব্যক্তির ফিদিয়া দিতে হয় কি?        উত্তর: রোগের কারণে কোনো ব্যক্তি রোজা রাখতে অক্ষম হলে এবং ঐ অবস্থায় মারা গেলে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে তার কাজাকৃত রোজার কাফফারা হিসেবে অন্য কারো রোজা রাখার বিধান নেই।তবে মৃত্যুকালে সে ব্যক্তি ফিদিয়া প্রদানের অসিয়ত করলে তার রেখে যাওয়া সম্পদের এক তৃতীয়াংশ মাল থেকে অসিয়ত পূর্ণ করা জরুরি।অসিয়ত না করলে ফিদিয়া দেয়া জরুরি নয়।তবে বালেগ ওয়ারিসরা নিজ নিজ অংশ হতে তা আদায় করলে আদায় হওয়ার আশা করা যায়।  

৫.লেখকের মন্তব্য|রোজার কাফফারা কত টাকা ২০২৩-রোজার ফিদিয়া কত টাকা

আজকের আর্টিকেলে আমরা রোজার কাফফারা কত টাকা ২০২৩-রোজার ফিদিয়া কত টাকা এই বিষয়ে শরীয়াহ সম্মত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি।আর্টিকেল সম্পর্কিত যেকোনো প্রশ্ন,মতামত,পরামর্শ কিংবা অভিযোগ কমেন্ট করে জানাতে পারেন।এরকম আরও তথ্যবহুল আর্টিকেল পড়তে আমাদের ওয়েবসাইট The DU Speech ভিজিট করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

The DU Speech-এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন, প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url