The DU Speech https://www.duspeech.com/2022/11/parbotto-chottogramer-dorshonio-sthan.html

পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান

 পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান বাংলাদেশের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্র। পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাই প্রতিবছর দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করতে চলে আসেন। এই স্থানসমূহ রয়েছে অত্যন্ত মনোরম পরিবেশ এবং দর্শনের জন্য বিভিন্ন স্পট। পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ার অনুরোধ রইলো।

আর্টিকেল সূচিপত্র (যে অংশ করতে চান তার উপর ক্লিক করুন) 

  1. পার্বত্য চট্টগ্রাম
  2. পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান
  3. রাঙ্গামাটির দর্শনীয় স্থান
  4. খাগড়াছড়ির দর্শনীয় স্থান
  5. বান্দরবানের দর্শনীয় স্থান
  6. আর্টিকেল সম্পর্কিত প্রশ্ন উত্তর
  7. লেখকের মন্তব্য

1. পার্বত্য চট্টগ্রামপার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান

পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের একটি অঞ্চল যা তিনটি জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি নিয়ে গঠিত। এই সম্পূর্ণ অঞ্চলটি চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্ভুক্ত এবং পাহাড় ও উপত্যকায় পূর্ণ বলে এর নামকরণ করা হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। দেশের বনাঞ্চলের একটি বড় অংশ রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা প্রধান নদী হল কর্ণফুলী। এই কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে কাপ্তাইয়ে গড়ে তোলা কাপ্তাই হ্রদে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। পর্যটনের একটি প্রধান উপজীব্য হল এই সমস্ত পাহাড় ঘেরা অঞ্চল যা বহু আগে থেকেই মানুষকে আকর্ষণ করে গেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান এর কমতি নেই।পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটনের মূল আকর্ষণ হল পাহাড়ে ঘেরা সবুজ প্রকৃতি যা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপে দর্শনার্থীদের কাছে নিজেদের রূপে আসে। যেমন শীতে এক রূপে ধরা দেয় এবং অন্যদিকে বর্ষায় আরেক রূপে হাজির হয় ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে। প্রত্যেক ঋতুতেই পার্বত্য চট্টগ্রাম সেজে ওঠে নতুন রং ও রূপে।

2.পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয়  স্থান। পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান

বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন রূপে পর্যটকদের সামনে হাজির হয় পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থানগুলো। যেমন বর্ষায় চারদিক জেগে ওঠে সবুজের সমারোহ। এ সময় যেন প্রকৃতি ফিরে পায় তার নতুন যৌবন। বর্ষাকালে মূলত অ্যাডভেঞ্চার টুরিস্টদের পদচারণায় মুখরিত থাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম। তখন ঝরনা ঝিরি কিংবা নথি পথ গুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে এবং তা দেখার জন্য অসংখ্য পর্যটক চলে আসেন।

শীতকালে ও পর্যটকদের সংখ্যা কিছু কম থাকে না। মেঘে এবং কুয়াশা চাদর ঢাকা পাহাড়সমূহ দেখতে অপূর্ব লাগে। তারপর একফালি সূর্য যখন মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দেয় তখন তার হালকা উষ্ণতা মনকে অত্যন্ত তৃপ্তি দেয়।

দেশের প্রায় গুরুত্বপূর্ণ এক-দশমাংশ ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা। এই তিন জেলাতেই পাহাড় পর্বত নদী-নালা ঝরনা, ও গাছপালা বৃষ্টি তো মনোরম দৃশ্যের অভিভূত অনুভূতি পাওয়া যায়। এই সবই পর্যটন শিল্পের জন্য এক অনন্য উপাদান। এই তিন জেলার প্রত্যেকটিতেই কিছু না কিছু প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে যার প্রত্যেকটি  অতুলনীয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের এই সকল দর্শনীয় স্থানসমূহ পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

এই তিনটি জেলার মধ্যে অন্যতম হলো বান্দরবান। এখানে রয়েছে কিছু আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র যার মধ্যে বগা লেক কেওকারাডং, মেঘলা, নীলগিরি, নীলাচল, নাফাকুম, স্বর্ণ মন্দির সহ আরো অন্যান্য উল্লেখযোগ্য স্থান। পার্বত্য চট্টগ্রামের আরেকটি জেলা হলো রাঙ্গামাটি। রাঙ্গামাটিতে রয়েছে কাপ্তাই এর কিছু পর্যটনকেন্দ্র যার মধ্যে সাজেক ভ্যালি, ঝুলন্ত সেতুসহ বিভিন্ন লেক ও ঝর্ণা উল্লেখযোগ্য। পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বশেষ জেলা খাগড়াছড়িতে রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। খাগড়াছড়ি জেলার পর্যটন কেন্দ্র গুলোর মধ্যে আলুটিলা পাহাড় ও গুহা, রিসাং ঝর্ণা, দেবতা পুকুরসহ আরো অন্যান্য স্থান উল্লেখযোগ্য।


3. রাঙ্গামাটির দর্শনীয় স্থান পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান

পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান এর মধ্যে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকা উল্লেখযোগ্য। আয়তনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা হলো রাঙ্গামাটি। প্রাচীনকালে রাঙ্গামাটি জেলায় প্রচুর পরিমাণে কার্পাস তুলা পাওয়া যেত, যার নাম অনুসারে কার্পাস মহল ছিল এ জেলার প্রাচীন নাম। বর্তমানে এই জেলা প্রাকৃতিক রূপ বৈচিত্রে খ্যাতি পেয়েছে রূপের রানী হিসেবে। পাহাড়, নদী, ঝরনা, ও লেক বিশিষ্ট একটি বৈচিত্র্যময় জনপদ যেখানে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, মুরং, খুমি, পাংখুয়া লুসাই, সাঁওতাল, রাখাইন সর্বোপরি বাংলাদেশ সহ ১৪ টি জনগোষ্ঠী বসবাস করে।
রাঙ্গামাটির দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম স্থান গুলো হল ঝুলন্ত সেতু, শুভলং ঝর্ণা, শুকনাছড়া ঝর্ণা, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ে, কর্ণফুলী হ্রদ, সাজেক ভ্যালি, ফুর মন পাহাড় ইত্যাদি।
  • সাজেক ভ্যালি: সাজেক রাঙ্গামাটি জেলার সর্ববৃহৎ ইউনিয়ন। সাজেক যদিও রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত তবে যাতায়াতের সহজ পথ খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা রোড। সাজেক মূলত রাঙ্গামাটি জেলার সর্ব উত্তরের মিজোরামের সীমান্তে অবস্থিত যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল। সাজেকের মত সুন্দর জায়গা বাংলাদেশে খুব কমই রয়েছে। এখানে যেন পাহাড় এবং আকাশের সীমানা মিলে একাকার হয়ে গিয়েছে। মেঘ এখানে চারদিক ঢেকে দেয়। প্রতিবছর দেশি-বিদেশি পর্যটক ভিড় করেন সাজেকের অত্যন্ত মনোরম এই পরিবেশ উপভোগ করার জন্য।
  • শুভলং ঝরনা: শুভলং ঝর্ণা রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার মধ্যে পড়েছে। নির্মল জলধারা পর্যটকদের হৃদয় এক ভিন্ন অনুভূতির সৃষ্টি। করে বর্ষা মৌসুমে শুভলং ঝর্ণার জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ে এবং অপূর্ব সুরের মূর্ছনায় পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বর্তমানে এ এলাকায় উপজেলা প্রশাসন করতে কিছু স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে রাঙ্গামাটি সদর হতে শুভলং এর দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। জলপথে পাহাড়ের বুকে চিরে আঁকাবাঁকা চলার পথে যাওয়ার সময় রাঙ্গামাটির অপার সৌন্দর্য চোখে পড়বে। এখানকার লেক, ঝর্ণা, বিস্তীর্ণ নীল আকাশ, পাহাড় সর্বোপরি আদিবাসী মানুষদের সাধারণ সহজ সরল জীবন পর্যটকদের বিমোহিত করে। ‌‌
  • রিলিতে লেক: রিলিতে লেক বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক লেক।রিলিতে লেককে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থিত সবথেকে উঁচুতে অবস্থিত প্রাকৃতিক লীগ বলে ধারণা করা হয় এর উচ্চতা ১৮২৫ -৮০ ফুট। এর গভীরতা এখনো সঠিকভাবে মাপা হয়নি তবে মাঝখানে গভীরতা ১০০ ফুটের বেশি বলে ধারণা করা হয় প্রায় ৩-৪ একর জায়গা নিয়ে রিলেতে লেক বিস্তৃত। চমৎকার এই মিঠাপানের লেক প্রাকৃতিক শেওলা, শালুকের প্রাচুর্যে ভরপুর এবং এই লেকের প্রধান জলের উৎস হল বৃষ্টির জল।
  • ঝুলন্ত সেতু: ঝুলন্ত সেতু রাঙ্গামাটি শহরের শেষ প্রান্তে কাপ্তাই লেকের উপর অবস্থিত ৩৩৫ ফুট লম্বা একটি সেতু যারা রাঙ্গামাটি শহরের প্রধান আকর্ষণ। সাধারণত রাঙ্গামাটি গিয়ে এই ঝুলন্ত সেতু না দেখে কেউ ফিরে আসেন না। এই ঝুলন্ত সেতুকে বলা হয় সিম্বল অফ রাঙ্গামাটি। নয়নাভিরাম বহুরাঙা এই ঝুলন্ত সেতুটি ২ টি বিচ্ছিন্ন পাহাড়ের মধ্যে গড়ে উঠেছে। এখানে দাঁড়িয়েই কাপ্তাই হ্রদের মনোরম দৃশ্য অবলোকন করা যায়। সেতুর ওপারই রয়েছে আদিবাসীদের গ্রাম। সেখানে গেলে দেখতে পাওয়া যায় আদিবাসী জীবন-যাপনের চলচ্চিত্র।
  • শুকনা ছড়া ঝরনা: অবস্থানগতভাবে হাজা ছড়া ঝর্ণা রাঙ্গামাটির অন্তর্গত হলেও এটি ভ্রমণ করার জন্য খাগড়াছড়ি হয়ে যাওয়াটাই মানানসই। এই ঝর্ণাটি শুকনাছড়া ঝর্ণা নামেও পরিচিত। এই ঝর্ণাটির স্থানীয় পাহাড়ে নাম দেয়া হলো চিত জুরানি  থাংঝাং ঝরনা। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে হাজাছড়া রওনা দিতেই চোখে পড়ে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে আঁকা দৃশ্যপট। তীর ছুঁয়ে যাওয়া মাইনী নদীর জলের স্রোত। পাহাড়ি ঢলে নদীর দুটি উপচে পড়া জলের স্রোত। রাস্তার দুপাশ জুড়ে আদিবাসীদের বসবাস পথের ধারে নানান শস্যের জুমের খেত। সবুজে ঘেরাঝেরি পথ পেরোলেই স্বাগতম জানায় হাজাছড়া বিশালাকার ঝর্ণা।
  • ফুরমন পাহাড়: রাঙ্গামাটিতে অবস্থিত একটি পাহাড় যার উচ্চতা এক হাজার ৫১৮ ফুট। রাঙ্গামাটি শহরে ঢোকার সময় এটি চোখে পড়ে যা শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই পাহাড়ের চূড়ায় উঠে রাঙামাটি শহরের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় আঁকাবাঁকা উঁচু-নিচে পাহাড়ের এই রাস্তা ধরে দুই ঘন্টা ত্রিশ মিনিট হাঁটলেই পাহাড়ে ওঠার সিঁড়ি চোখে পড়ে। ৪১৩ টি সিঁড়ি এবং অল্প কিছু মাটির সিঁড়ি পার করেই ফুরমন এর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তবে এটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, মূলত তীর্থ কেন্দ্র।
  • কাপ্তাই লেক: পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটির এক  অপরূপ সৌন্দর্যের নাম কাপ্তাই লেক। এই লেক অনন্য পাহাড়, অথৈ জলরাশি এবং নজর কারা সবুজের সমারোহে আবৃত। এই লেখাটি ১১ হাজার বর্গ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এটি একটি কৃত্রিম হ্রদ যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আয়তনের সর্ববৃহৎ। লিখে চারপাশের পরিবেশ, ছোট ছোট দ্বীপ, পাখির দল এবং জল কেন্দ্রিক মানুষের জীবন যাপন মুগ্ধ করে আগত পর্যটকদের। ১৯৫৬ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কর্ণফুলী নদীর উপর কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ করে। এই কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ করার ফলে রাঙ্গামাটি জেলার ৫৪ হাজার একোর্ড কৃষি জমি প্লাবিত হয়ে যায় এবং তার থেকেই এই লেকের সৃষ্টি হয়।
  • রাজবন বিহার: বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য একটি অন্যতম বিহার হল রাজবন বিহার। রাঙ্গামাটির দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম এই রাজবন বিহার। ১৯৭৭ সালে চিন্তা প্রচারক ও ধর্ম দার্শনিক বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা শ্রদ্ধেয় সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তে তার শিষ্যদেরকে নিয়ে রাঙ্গামাটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে আসেন। এই কারণেই তার জন্য এই বিহারটি নির্মাণ করা হয়। তবে বর্তমানে শুধু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্যই নয়, পার্বত্য অঞ্চলের এই ধর্মচর্চা কেন্দ্রটি দুনিয়ার সকল প্রকৃতিপ্রেমী এবং জ্ঞান সাধকদের আকর্ষণ করে। বিহাটির ভেতরের এবং বাহিরের উভয় স্থানের দৃশ্য অত্যন্ত মনোরম। এই বিহারে এক অপরূপ মানসিক প্রশান্তি অনুভব করা যায়।

4. খাগড়াছড়ির দর্শনীয় স্থান পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান

খাগড়াছড়ি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলার মধ্যে অন্যতম। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির দূরত্ব ২৬৬ কিলোমিটার। খাগড়াছড়ির মোট আয়তন ২৬৯৯.৫৫ বর্গ কিলোমিটার। খাগড়াছড়িতে রয়েছে অসংখ্য ঝর্ণা এবং বুনো পাহাড়ের সংমিশ্রণ। খাগড়াছড়ি অফুরন্ত পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে হাতছানি দিয়ে ডাকছে সর্বদাই। এখানে আকাশ-পাহাড়ের মিতালী, চেঙ্গী,মাইনী উপত্যকার বিস্তৃত সমতল জাতীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্যতা রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে দর্শনীয় স্থান হিসেবে খাগড়াছড়ি অতুলনীয়।

খাগড়াছড়ি জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল আলুটিলা পাহাড় ও গুহা, রিসাং ঝর্ণা, মায়াবিনি লেক, ঠান্ডা ছড়া, দেবতার পুকুর, নিউজিল্যান্ড পাড়া, হাতি মাথা, শান্তিপুর অরণ্য কুটির, তৈদুছড়া ঝরনা।
  • আলুটিলা পাহাড় ও গুহা: আলু টিলা গুহার অবস্থান খাগড়াছড়ি জেলায়। মাটিরাঙ্গা উপজেলার মূল শহর হতে ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে সমুদ্র সমতল হতে তিন হাজার ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট আলুটিলা পাহাড়ে  আলুটিলা গুহা অবস্থিত। স্থানীয় লোকেরা এই গুহাকে মাতাই হাকড় বা দেবতার গুহা বলে। গুহাটি অন্ধকার এবং শীতল। সুড়ঙ্গের তলদেশ পিচ্ছিল এবং পাথরে ও এর তলদেশে একটি ঝর্ণা প্রবাহমান রয়েছে। গুহাটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫০ ফুট এবং এর উচ্চতা খুবই কম। সাধারণত মশাল নিয়ে এই গুহার ভিতরে ঢুকতে হয় কারণ মশাল ছাড়া ভেতরে দেখার কোনো উপায় নেই।
  • শান্তিপুর অরণ্য কুটির: খাগড়াছড়ির পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুটির যা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবেও গণ্য করা হয় তা পানছড়ি থেকে পাঁচ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে শান্তিপুর নামক গভীর অরণ্য বিশিষ্ট বনভূমিতে অবস্থিত। এটি ৬৫ একর জায়গার উপর অবস্থিত। এটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শান্তির প্রতীক সুবিস্তীর্ণ তীর্থস্থান এবং এর নাম পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুটির। একে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বুদ্ধমূর্তি সম্বলিত স্থান বলে গণ্য করা হয়। পাহাড়ি গাছ গাছড়ায় ঘেরা পানছড়ি শান্তি অরণ্য কুটির অত্যন্ত সুন্দর এবং মনোরম পরিবেশে আচ্ছাদিত।
  • দেবতার পুকুর: খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে জেলা সদর থেকে ১১ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মূল রাস্তা থেকে ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে নুনছড়ি মৌজায় দেবতার পুকুর অবস্থিত। সমুদ্রের সমতল হতে ৭০০ ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চূড়ায় এই পুকুর অবস্থিত। এই পুকুর সম্পর্কে কথিত আছে যে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৃষ্ণা নিবারণের জন্য স্বয়ং দেবতা এই পুকুর খনন করেছিলেন। প্রত্যেক বছর চৈত্র সংক্রান্তিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নর নারী পূণ্য লাভের আশায় এই পুকুর পরিদর্শন করতে আসেন। এটি ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর কাছে পূজনীয়।
  • নিউজিল্যান্ড পাড়া: খাগড়াছড়ি থেকে ১.৫ কিলোমিটার দক্ষিণে পান খাই পাড়ার পাশে নিউজিল্যান্ড পাড়া অবস্থিত। এই এলাকার আশেপাশের সৌন্দর্য নিউজিল্যান্ডের মতো দেখতে তাই তার নাম হয়েছে নিউজিল্যান্ড পাড়া। পান খাইয়া থেকে বেরিয়ে আপার পেরাছড়া গ্রামের দিকে যাওয়ার রাস্তা টাকে নিউজিল্যান্ড সড়ক বলা হয়। সবুজ শস্য ক্ষেত এবং তার সাথে পাহাড়ের মিল এক অসাধারণ নান্দনিক সৃষ্টি করেছে এখানে। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়।
  • মায়াবিনী লেক: মায়াবিনী লেক খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার ভাইবোন ছড়ার কংচাইরি পাড়ায় পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত। এই লেকটি অত্যন্ত সুন্দর এবং এর স্বচ্ছ জলে ভেসে বেড়ায় মাছ। এই লেকটি চল্লিশ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত এবং এর মাঝে  কিছু টিলা রয়েছে। মায়াবিনী দেখে ঘোরার জন্য চারটি নৌকার ব্যবস্থা রয়েছে। পড়ন্ত বিকেলে লেকের  চারদিকে উড়ে বেড়ায় ঝাকে ঝাকে সাদা হাঁস এবং বক।
  • ঠান্ডা ছড়া: দেয়ালঘেরা ঠান্ডা ছড়া খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনীরা উপজেলা ধর্মঘর এলাকায় অবস্থিত। দুই পাশে কালো পাথরের মাছ দিয়ে বয়ে যায় এই ঝর্ণা তাই এর নামকরণ করা হয়েছে ঠান্ডা ছড়া। এই ঝরনাটি অত্যন্ত সুন্দর এবং ছোট ছোট সবুজ পাহাড় পাহাড়ের গা বেয়ে নামতে থাকে এই ঝর্ণা। ঠান্ডা ছড়ার পাশেই রয়েছে খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র।
  • হাতি মাথা: হাতিমাথা খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেড়াছড়া ইউনিয়নের একটি পাহাড়ি পথ। এইখানের চাকমা নাম এদো সিরে মোন। আবার এটি স্বর্গের সিঁড়ি হিসেবেও অনেকের কাছে পরিচিত। ১৫ টি গ্রামের বাসিন্দারা এই হাতিমাতা নামক পাহাড়ে দুর্গম পথ দিয়ে চলাচল করে। তবে বর্তমানে গ্রামবাসীদের চলাচলকে সুবিধা জনক করতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ৩০৮ ফুট লম্বা লোহার সিঁড়ি  তৈরি করে দিয়েছে। হাতিমাথা পাহাড়ে চূড়া থেকে খাগড়াছড়ির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এর চারপাশের সবুজে ঘেরা পাহাড়ি প্রকৃতি, মেঘের লুকোচুরি এবং আদিবাসীদের জীবনধারার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা পেতে পর্যটকরা হাতিমাথায় এসে উপস্থিত হন।
  • মানিকছড়ি মং রাজবাড়ী: খাগড়াছড়ি শহর হতে ৩৬ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে মানিকছড়ি উপজেলায় মং রাজার প্রাচীন আদি নিবাস এই মানিকছড়ি মং রাজবাড়ী অবস্থিত। মং একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যা বহুকাল যাবত পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে অঞ্চলগুলোতে বসবাস করছে। বহু পূর্বে মং রাজবংশ হিসেবে এই নৃগোষ্ঠীর  একটি আলাদা রাজ্য শাসন ছিল। ১৭৯৬ সালে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার মহামূনি স্থানে রাজা কংজয় ত্রিপুরা রাজবংশের রাজকন্যাকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে তিনি আরো ৫০০ ত্রিপুরা পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে মানিকছড়ি আসেন এবং এখানে রাজবাড়ী স্থাপন করেন। এই রাজ বাড়ির পাশেই বিশ্ব শান্তি মহামূনি রাজ বৌদ্ধ চৈত্রের  বুদ্ধমূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। অনেক ইতিহাসপ্রেমী দূর দূরান্ত থেকে এই প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে পরিচিত হতে মানিকছড়ি মং রাজবাড়ী  ঘুরতে আসেন।
  • হর্টিকালচার হেরিটেজ পার্ক: খাগড়াছড়ি জেলার জিরো পয়েন্ট থেকে তিন কিলোমিটার দূরে পার্বত্য জেলা পরিষদে তত্ত্বাবধানে নির্মিত সবুজ বেষ্টনীতে ঘেরা হর্টিকালচার হেরিটেজ পার্ক শহরের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে জনপ্রিয়। এটি প্রায় ২২ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। এই পার্ক এ রয়েছে ঝুলন্ত সেতু, সুইমিং পুল, কৃত্রিম হ্রদ, দোলনা, টয়ট্রেন, কিডস জোন, বোট রাইডিং এবং বসার ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-গাছালিতে ঘেরা বাগান। হর্টিকালচার হেরিটেজ পার্ক প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকে এবং জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য ৩০ টাকা।

5. বান্দরবানের দর্শনীয় স্থান পার্বত্য চট্টগ্রামে দর্শনীয় স্থান

পার্বত্য  চট্টগ্রামের অনন্য সুন্দর জায়গা বান্দরবান। পাহাড়ে ঘেরা সম্পূর্ণ জেলাটি খুবই আকর্ষণীয় এবং পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। ভৌগলিক কারণেই বান্দরবান রয়েছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। বান্দরবানের আয়তন মোট ৪৪৭৯.০২ বর্গ কিলোমিটার।
বান্দরবান পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান দ্বারা পরিপূর্ণ।বান্দরবনে রয়েছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পর্বত শৃঙ্গ তাজিংডং। এছাড়াও রয়েছে কেওক্রাডং এবং অন্যান্য বৃহৎ পর্বত শৃঙ্গ সমূহ। দর্শনের স্থানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সাইংপ্রা ঝর্ণা, নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন পর্যটন লেক, দেবতাখুম নীলগিরি, আমিয়াখুম, নীলাচল, নাফাখুম ইত্যাদি স্থান।
  • তাজিংডং: বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ তাজিংডং বান্দরবানের রুমা উপজেলার পাংশা ইউনিয়নের রেমাক্রী পর্বতসারীতে অবস্থিত। এর উচ্চতা ১২৮০ মিটার (৪১৯৮.৪ ফুট)। এর আগে কেওক্রাডং কে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ মনে করা হতো তবে আধুনিক গবেষণায় এ তথ্য ভুল প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় উপজাতীয়দের ভাষায় তাজিন শব্দের অর্থ বড় আর ডং শব্দের অর্থ পাহাড় এই দুই শব্দ থেকে তাজিংডং পরবর্তী নামকরণ করা হয়েছে।এই পাহাড় অনেকের কাছে বিজয় নামে পরিচিত। বর্ষাকালে এই পাহাড় তুলনামূলকভাবে দুর্গম হওয়ায় তখন পর্যটক সংখ্যা কম থাকে। তবে শীতকালে এর সৌন্দর্য অতুলনীয়।
  • সাইংপ্রা ঝর্ণা: বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলার অন্তর্গত চিম্বুক রেঞ্জের কিসরতং পাহাড়ের কাছে অবস্থিত সাইংপ্রা ঝর্ণা।সাইংপ্রা ঝর্ণাটি মূলত অফ রুটের। খিমচং পাড়া থেকে এই ঝর্ণাতে যাওয়ার পথটা যেমনই ভয়ানক তেমনি সুন্দর। তবে এই ঝর্ণার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়। পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার পানি স্বচ্ছ এবং শীতল।
  • নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন পর্যটন লেক: বান্দরবান শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার এবং কক্সবাজার থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে এই লেকটি অবস্থিত। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে জেলা পরিষদ জাত বাংলাদেশ উপবন লেকের অবস্থান। এই লেকটি কৃত্রিম, প্রাকৃতিক নয়। লেকটি ইকোটোর ও পিকনিক স্পট হিসেবেও বেশ পরিচিত। লেক এবং লেকে চারপাশের প্রকৃতি অত্যন্ত উপভোগ্য এবং সুন্দর।
  • দেবতাখুম: এটি বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলা অবস্থিত বান্দরবান কে বলা হয় খুমের স্বর্গরাজ্য আর এই রাজ্যের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট যায় দেবতা খুমের কাছেই। এটি প্রায় ৫০-৭০ ফুট গভীর এবং এ দৈর্ঘ্য ৬০০ ফুট। স্থানীয় লোকদের কাছে এটা সোনাখুম নামে পরিচিত। আবার অনেকে মারমা ভাষায় থংচিখুম নামেও ডাকে। দেবতাখুমের সৌন্দর্য যেমন মানুষকে আকর্ষণ করে তেমনি পিচ্ছিল পাথরে পথে পা ফোঁসকে বড় ধরনের বিপদে পরা আশঙ্কাও কাল থেকে যায়।
  • আমিয়াখুম জলপ্রপাত: বান্দরবানের একটি অনন্য জলপ্রপাত হলো আমিয়াখুম যা থানচি উপজেলার দুর্গম স্থানে অবস্থিত। এই জলধারাটি পাথর আর সবুজে ঘেরা পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে নেমে এসেছে। অনেকেই মনে করেন এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর জলপ্রপাত।আমিয়াখুম জলপ্রপাতটি বাংলাদেশ মায়ানমার সীমান্তের পাশে অবস্থিত। এ নয়নাভিরাম দৃশ্য মুগ্ধ করে হাজার হাজার দেশি বিদেশি পর্যটকদের।
  • নীলগিরি: বাংলার দার্জিলিং নামে খ্যাত নীলগিরি তার দিগন্ত জোড়া সবুজ পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরির মাধ্যমে যে কোন মানুষকে বিমোহিত করতে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২০০ ফুট উচ্চতায় নীলগিরির অবস্থান। নীলগিরির পাহাড় চূড়ায় রয়েছে সেনাবাহিনী পরিচালিত বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন কেন্দ্রগুলোর অন্যতম নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র। নীলগিরি থেকে চোখে পড়ে বগালেক, পর্বত চূড়া কেওক্রাডং, কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত এবং চট্টগ্রাম বন্দর ও সাংগু নদী। নীলগিরিতে সেনাবাহিনীর ক্যাপ থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে কোন বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। নীলগিরিতে সাধারণত বর্ষা, শরৎ ও হেমন্তের সময় পর্যটক বেশি দেখা যায়। কারণ এই সময়গুলোতে নীলগিরি তার রূপের পসরা সাজিয়ে হাজির হয়।
  • স্বর্ণমন্দির: বান্দরবান জেলা শহর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে বালঘটা এলাকায় অবস্থিত স্বর্ণমন্দির। এই মন্দিরটি মহাসুখ মন্দির বা বৌদ্ধ ধাতু জাদী নামেও পরিচিত। যদিও এই মন্দিরের নাম স্বর্ণমন্দির কিন্তু এখানে স্বর্ণ দিয়ে তৈরি কোন স্থাপনা নেই। মন্দিরের সোনালী রঙের আধিক্য থাকার কারণে এটি স্বর্ণমন্দির হিসেবে পরিচিত। এটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি পবিত্র তীর্থস্থান। এই মন্দির একটি স্থাপন করতে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল এই মন্দিরে থাকা প্যাগোডা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য বৌদ্ধ স্থাপনার মধ্যে অন্যতম উপাসনালয়। এই প্যাগোটা নির্মাণশৈলী মায়ানমার, চীন ও থাইল্যান্ডের মধ্য মন্দির গুলোর অনুকরণে তৈরি করা হয়েছে।
  • মিলনছড়ি: বান্দরবান শহর হতে তিন কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে শৈল প্রপাত বা চিম্বুক পাহাড়ে যাওয়ার পথেই এই মিলনছড়ি। পাহাড়ে চূড়ায় দাঁড়িয়ে রাস্তা বা তার পূর্ব প্রান্তের সবুজের অপরূপ দৃশ্য আবার প্রকৃতির বুকে সর্পের গতিতে বয়ে চলার সাঙ্গু নদীটির অতুলনীয় সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। মিলনছড়িতে আলাদাভাবে যাওয়ার জন্য কোন ব্যবস্থা নেই। শৈল প্রপাত, নীলগিরি বা চিম্বুক পাহাড়ে যাওয়ার পথেই রাস্তার পাশেই এই মিলনছড়ির দেখা পাওয়া যায়।

6. আর্টিকেল সম্পর্কিত প্রশ্ন উত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান

পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্তর্ভুক্ত জেলাগুলোর নাম কি?
উঃ রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান।
পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়ার নদীটির নাম কি?
উঃ কর্ণফুলী নদী।
রিসাং ঝর্ণা কোন জেলায় অবস্থিত?
উঃ খাগড়াছড়ি জেলায়।
কেওক্রাডং পর্বত কোথায় অবস্থিত?
উঃ বান্দরবান জেলায়।
ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর কাছে পূজনীয় কোন স্থান?
উঃ দেবতার পুকুর।
বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর জলপ্রপাত এর নাম কি?
উঃ আমিয়াখুম জলপ্রপাত।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গের নাম কি?
উঃ তাজিংডং।
পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান গুলো কেমন?
উঃ অত্যন্ত মনোরম এবং আকর্ষণীয়।

7. লেখকের মন্তব্য পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান

বাংলাদেশ বিশাল বিশাল পাহাড়ে ঘেরা থাকার কারণে চট্টগ্রাম জেলার নামকরণ হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। পাহাড়- পর্বত, ঝিল, হ্রদ এবং ঝর্ণায় ঘেরা সম্পূর্ণ পার্বত্য চট্টগ্রাম যেন এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এর মনোরম এবং নয়নাভিরাম দৃশ্যপট যে কোন মানুষের মন কাড়তে যথেষ্ট। পার্বত্য চট্টগ্রামে দর্শনীয় স্থান সকলের মনে জায়গা করে নেয়

পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থানগুলো বাংলাদেশ এবং বিদেশে সমানভাবে জনপ্রিয়। প্রতিবছর বিভিন্ন মৌসুমে হাজার হাজার পর্যটক পার্বত্য চট্টগ্রামে দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ করতে চলে আসেন। যার ফলে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প দিনে দিনে আরো জনপ্রিয় এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে দর্শনীয় স্থানসমূহের মধ্যে কিছু কিছু স্থান অত্যন্ত দুর্গম। তবে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও দর্শনার্থীগণ এ সমস্ত জায়গায় এসে ভিড় করেন এবং নিজেদের দর্শনের ইচ্ছা পূরণ করেন। যারা সত্যিকারের অর্থে ভ্রমন পিপাসু তাদেরকে কোন বাধা-বিপত্তি আটকাতে পারে না। তারা ঠিকই চলে আসেন পার্বত্য চট্টগ্রামের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে। বাংলাদেশের বাসিন্দাদের উচিত অন্তত একবার হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে বেড়াতে আসা। কারণ নিজের দেশের এমন অপরূপ সৌন্দর্য জীবনে একবারের মতো উপভোগ করাটা জরুরী। প্রকৃতির অপূর্ব লীলা খেলা দেখার জন্য খরচ করে বাইরে যাওয়ার থেকে নিজের দেশের অতুলনীয় স্থানগুলোতে ভ্রমণ অনেক বেশি প্রশান্তি দায়ক।

বর্তমানে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত পারবো তো চট্টগ্রামে তিনটি জেলাকে নিয়ে কোন পরিকল্পনা অগ্রসর হয়নি। তবে এই এলাকাগুলো পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এই কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের এই দর্শনীয় স্থানসমূহ কে নিয়ে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। এই অঞ্চলে ইকো ট্যুরিজম এবং কমিউনিটি ট্যুরিজমের মাধ্যমে পাহাড় পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। যদি এই সকল এলাকাগুলোকে উন্নয়নের সুযোগ করে দেয়া যায় তাহলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?