The DU Speech https://www.duspeech.com/2022/08/jibon-niye-ukt.html

জীবন নিয়ে উক্তি

মনুষ্যজাতির জীবন কে প্রায় বড় একটি যুদ্ধ ক্ষেত্র বলা যায়। জীবন নিয়ে উক্তি আর্টিকেল টি তে মানুষের জীবনের সুখ দুঃখ হাসি কান্নার বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে বলা হয়েছে। মানুষের জীবন কে একটি কঠিন যুদ্ধ ক্ষেত্র এর সাথে তুলনা করা যায়। জীবন নিয়ে উক্তি আর্টিকেল টি তে জীবনের ব্যস্ততা,অনিশ্চিত,ক্ষণস্থায়ী,সাদামাটা এছাড়াও রঙ্গিন জীবন,সংসার জীবন, ছাত্র জীবন এমনকি জীবন কিভাবে পরিবর্তন হয়ে থাকে সেসব নিয়ে লেখা হয়েছে।এই আর্টিকেল টি এরকম ই জীবন নিয়ে উক্তি দিয়ে সাজানো হয়েছে। 



অনুচ্ছেদসুচি (যে অংশ পড়তে চান তার উপর ক্লিক করুন)
  1. জীবনের মানে কি?
  2. জীবন এর অর্থ
  3. ব্যস্ত জীবন নিয়ে উক্তি
  4. ক্ষনস্থায়ী জীবন নিয়ে উক্তি
  5. সাদামাটা জীবন নিয়ে উক্তি
  6. সংসার জীবন নিয়ে উক্তি
  7. বাস্তব জীবন নিয়ে উক্তি
  8. জীবন পরিবর্তন নিয়ে উক্তি

১.জীবনের মানে কি? জীবন নিয়ে উক্তি

জীবন এর মানে একেক জনের কাছে একেক রকম তবে জীবন সহজ কোনো বিষয় নয়।আমরা মনুষ্য জাতিরা জন্মের পর থেকেই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমাদের পুরো টা সময়ে জীবন এবং এই জীবনে সুখ দুঃখ হাসি কান্না সবকিছুর মধ্য দিয়ে আমাদের পার হতে হয়। কারো কাছে জীবন মানে হলো যে শুধু একটি সময় ,কারো কাছে জীবন মানে হলো প্রিয় জনের সাথে সময় কাটানো, কারো কাছে জীবন মানে হলো শুধু মাত্র নিজেকে নিয়ে বাঁচা ,কারো কাছে জীবন মানে হলো অন্যের উপকার করা ,কারো কাছে জীবন মানে হলো শুধু নিজের ই চিন্তা করা আবার কারো কাছে জীবন মানে হলো সকলকে নিয়ে বাঁচা। কেউ শুধু মাত্র নিজের চিন্তা করে জীবনে সুখ খুঁজে, পায় আবার এমন অনেক মানুষ আমাদের আশেপাশে রয়েছে যারা দেশের দেশের জনগণের ,অবহেলিত মানুষ দের উপকার করে নিজের জীবনের সুখ খুঁজে পায়।  

জীবনে সুখ এক একজনের কাছে একেক ভাবে আসে।জীবন মানে আসলে কি এর সংজ্ঞা কেউ কখনো দিতে পারবে না কারণ জীবন যেমন খুবই ক্ষণস্থায়ী একটি সময় তেমনি এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে অনেক কিছু আমাদের করার আছে আর একেক জনের কাছে জীবনের সার্থকতা জীবনের মানে একেক রকম।তাই কেউ কখনোই জীবনের সঠিক সংজ্ঞা দিতে পারবে না একেক রকম মানুষ একেক ভাবে নিজেদের জীবন অর্থাৎ জন্মের পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সময়টি কাটিয়ে থাকেন।মানুষের জীবন খুবই ক্ষণস্থায়ী কখন কার সময় শেষ হয়ে গিয়েছে সে বলতে পারবে না ।যেকোনো সময় আমাদের মৃত্যু হতে পারে আর মৃত্যুর পরপরই জীবনের সমাপ্তি তাই বলা যায় আমাদের জীবন খুবই ক্ষণস্থায়ী।এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে আমাদের অনেক কিছু করতে হয় এই জীবনের মধ্যে আবার আছে ছাত্র জীবন ,সংসার জীবন ,বৃদ্ধ হয়ে গেলে অন্য রকম একটি জীবন ,ছোট বেলায় এক রকম জীবন, মধ্য বয়সের এক রকম জীবন। আমরা ছোট থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নানা রকম জীবনের স্বাদ উপভোগ করি ,আর একজন একেক ভাবে এগুলো উপভোগ করে বলে জীবনের সেরকম সংজ্ঞায়িত কোন সংজ্ঞা নেই। 

তবে আমাদের সকলেই উচিত এই ক্ষণস্থায়ী জীবনকে সঠিক ভাবে উপভোগ করা এবং নিজেদের জীবনের সাথে সাথে আমাদের আশেপাশের মানুষের জীবন কে আলোকিত করা ।নিজের পরিবার পরিজন বন্ধু-বান্ধব সবাইকে নিয়ে জীবন উপভোগ করা এবং সঠিক পথে সঠিক ভাবে জীবনে প্রত্যেকটি পর্যায় পার করা। তবে মৃত্যুর পরেও আমাদের আরেকটি জীবন আছে। আমাদের সবাইকে সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত এবং সে অনুযায়ী আমাদের নিজ নিজ ধর্মীয় দিকনির্দেশনা মেনে চলে এবং পালন করে জীবন অতিবাহিত করা উচিত। শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু আমরা জ্ঞান লাভ করতে পারি জ্ঞানার্জনের মাধ্যমেও আমরা জীবনের অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে পারি।এর পাশাপাশি পারিবারিক শিক্ষা আচার ব্যবহার ধর্মীয় শিক্ষা সামাজিক পরিস্থিতি সবকিছু আমাদের জীবন কে পরিবর্তন পরিবর্ধন করতে সহায়তা করে।আমাদের জীবন শুধুমাত্র আমাদের নিজেদের ঘিরে নয় আমাদের জীবন আমাদের চারপাশের সব কিছু এবং অনেক মানুষ জন নিয়ে গঠিত। 

২.জীবন এর অর্থ। জীবন নিয়ে উক্তি

জীবন নিয়ে উক্তি এই আর্টিকেল এর প্রথম অংশে আমরা বলেছি জীবনের কোন সঙ্গা নেই জীবন কে সঠিক ভাবে সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব নয় কারণ জীবনের মানে একেক জনের কাছে একেক রকম ।জীবন কে সংজ্ঞায়িত করতে গেলে সঠিক ভাবে কখনোই ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। জীবন নিয়ে ভাবা বা জীবনের অর্থ বা জীবনের সংজ্ঞা ভাবা একটি দার্শনিক বা আত্মীক প্রশ্ন জীবন বা অস্তিত্ব এর সঙ্গা নিয়ে আলোচনা করে। জীবনের পরিপূর্ণতা সন্তুষ্টি এসব নিয়ে মানুষের উদ্বেগের শেষ নেই। এমন অনেকেই আছেন জীবনের পরিপূর্ণ সংজ্ঞা খুঁজতে দিকবিদেগ ছুটে চলছেন। মানবিকতার সংস্কৃতি অনুযায়ী অনেকেই ভাবেন যে অনেক কিছুর পিছনে ছুটলে জীবনের অর্থ তারা খুঁজে পাবে। জীবনের সংজ্ঞা বা জীবনের অর্থ খুঁজতে গিয়ে নানা রকম নানা জনের মতবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যেমনঃ দর্শন, বিজ্ঞান, অধিবিদ্যা, ধর্ম ইত্যাদি। মানবিক জীবনের অর্থ বলতে সাধারণত আমরা যা বুঝি তার উৎপত্তি সাধারণত দার্শনিক এবং ধর্মীয় আত্মচিন্তা, সামাজিক বন্ধন সুখ চেতনা অস্তিত্ব বিষয়ের বৈজ্ঞানিক আলোচনা থেকে। তবে আরো অনেক বিষয়ে এখানে জড়িত রয়েছে।যেমন: মূল্যবোধ, নৈতিকতা, উদ্দেশ্য,সাংকেতিক অর্থ, ভালো-মন্দ, স্বাধীন ইচ্ছা ,তত্ত্ববিদ্যা, ঈশ্বরের অস্তিত্ব, আত্মা ,ঈশ্বরের ধারণা, পারলৈকিক জীবন ইত্যাদি। বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এক্ষেত্রে পরীক্ষা লব্ধতত্ত্বের ব্যাখ্যা দিয়ে জীবনের অর্থ ব্যাখ্যা করে। সাথে কিভাবে ভাল থাকা যায় বা নৈতিকতা নিয়ে আলোচনা করেও ব্যাখ্যা করে। জীবনের অর্থ কি এই প্রশ্নের মতবাদ থেকে শুরু করে দার্শনিক, ধর্মীয় এবং আধ্যাত্বিক ব্যাখ্যার সাহায্যে বিভিন্ন রকম উত্তর ও বিতর্ক হয়ে আসছে।তবে বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের এবং বিজ্ঞানের দর্শন সম্প্রদায়ের অনেকেই মনে করেন যে বিজ্ঞান প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট প্রদান করতে পারবে এবং জীবনের অর্থ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় বিষয় গুলো নিয়ে কাজ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাপ কাঠি নির্ধারন করে দিতে পারবে। তারা মনে করেন যে বিজ্ঞান সুখের বিজ্ঞান থেকে শুরু করে একদম মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নানা বিদ তথ্য প্রদান করতে পারবে। বিজ্ঞানের অনুসন্ধান এই কাজটি করে থাকে জীবন এবং বাস্তবতার মত বিভিন্ন দিক নিয়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে। বিভিন্ন দিকের মধ্যে রয়েছে জীবনের উৎপত্তি ,বিবর্তন, মহাবিস্ফোরণ, এবং উদ্দেশ্য গত দিক নিয়ে অধ্যায়ন যা সুখের মতো বিষয় গুলোর সাথে সম্পর্ক যুক্ত করে।অন্য দিকে ইতিবাচক মনোবিজ্ঞানের গবেষক যারা আছেন তারা অনেক বিষয় নিয়ে গবেষণা করে এবং তারা মনে করেন তাদের এই গবেষণা জীবনকে সন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যায়, ব্যক্তিগত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি পরিপূর্ণ অবদান রাখতে পারে কর্মকাণ্ড পূর্ণ সম্পৃক্ততা আনে এবং নিজের চেয়ে বড় কিছু এর সাথে যুক্ত হয়ে জীবনের অর্থ এনে দিতে পারে। প্রবাহ বিক্রয় অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি গবেষণা প্রস্তাব করেছে যে চ্যালেঞ্জিং কাজে নিজেকে দক্ষ করে তুলবার সময় সাধারণত মানুষ অর্থ এবং পরিপূর্ণতা নিয়ে অনুভব করে। নিউরো সাইন্স কার্য কলাপের ভিত্তিতে পুরস্কার আনন্দ এবং প্রেরণা ইত্যাদি বিষয়কে জীবনের অর্থ হিসেবে ব্যাখ্যা করে। যদি কেউ বিশ্বাস করে যে জীবনের অর্থই হচ্ছে শুধুমাত্র সুখকে সর্বোচ্চকরণ করা এবং সাধারণ জীবন যাপন কে সহজ করে তোলা, তাহলে কিভাবে কাজ করে এটা অর্জন করা যেতে পারে সে সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান করে।

৩.ব্যস্ত জীবন নিয়ে উক্তি। জীবন নিয়ে উক্তি

জন্মের পর থেকে আমাদের জীবন এর বিভিন্ন পর্যায়ে শুরু হয়ে যায়। আমরা যখন ছোট থাকি তখন আমাদের জীবন এক রকম থাকে তখন আমাদের জীবনের লক্ষ্য কাজ এক রকম হয়ে থাকে। ছোট কালে আমাদের সকলের জীবনে কিছু কাজ থাকে পড়াশোনা, খেলাধুলা করা, পরিবারের সাথে সময় কাটানো। ছোটকালে জীবন ব্যস্ত বলতে বোঝায় পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকা বা খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকা। তখন আমাদের জীবনে দুঃখ অশান্তি বা চিন্তা বলতে সেরকম কিছুই থাকে না। ছোট বেলায় শিশুদের পড়াশুনা নিয়েই চিন্তা করতে হয় এছাড়া জীবনের আর কোন কিছু নিয়ে তাদের চিন্তা থাকে না। কিশোর বয়সে এসে যখন আমরা বড় হই তখন আমাদের জীবনে পড়াশোনা ছাড়া ও অনেক কিছু নিয়ে চিন্তা হয়। এমন এক সময় এসে যায় যখন আমরা জীবনের একটি কঠিন সময় পার করে থাকি। কেননা এই সময় আমাদের পরিবার নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তিত থাকতে হয়। এ সময় আমরা জীবনে অনেক ব্যস্ত হয়ে পড়ি। ব্যস্ত জীবন বলতে বোঝায় সারাদিন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকা। পড়াশোনা শেষ হয়ে যাওয়ার পর যখন আমরা নিজেদের ক্যারিয়ার গঠনের দিকে মনোনিবেশ করি তখন আমরা চাকরি বা নিজের আয় করার বিভিন্ন মাধ্যম খুঁজতে থাকি তখন আমরা বিভিন্ন চাকরিতে প্রবেশ করে বা ব্যবসা করে যে কোন ভাবে নিজেদের আয় করার একটি মাধ্যম তৈরি হয়ে গেলে আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়ি। ব্যস্ত জীবন যেমন একদিক দিয়ে ভালো তেমনি অতিরিক্ত ব্যস্ততা কারো জন্যই ভালো নয় শারীরিক বা মানসিক কোন দিক দিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ততা ভালো নয়। তবে ব্যস্ততা কথাটি বহুল প্রচলিত একটি শব্দ বহু কাল থেকে এই শব্দ টির প্রচলন হয়ে আসছে। এরকম একটি কথা আছে যে নিজেকে সুখে রাখতে চায় তার সব থেকে সহজ উপায় হল নিজেকে ব্যস্ত রাখা। কোন কোন ক্ষেত্রে এই কথাটি অনেক বেশি সত্য কারণ আমরা বড় হওয়ার সাথে সাথে আমাদের জীবনে দুশ্চিন্তা শুরু হয়ে যায়, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা যদি নিজেদেরকে কোন কাজে ব্যস্ত রাখতে পারি তাহলে সেসব দুশ্চিন্তা আমাদের মাথায় সব সময় আসতে পারে না। দুশ্চিন্তা যেহেতু একজন মানুষের শারীরিক মানসিক দুটোর জন্য অনেক ক্ষতিকর তাই আমাদের কারণে দুশ্চিন্তা করা উচিত নয়, আর এই দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচার একটি সহজ উপায় হল নিজেকে ব্যস্ত রাখা। তাই নিজেকে সুখী রাখতে গেলে সবচেয়ে সহজ উপায় নিজেকে ব্যস্ত রাখা এই কথাটি এক দিক থেকে সত্য 'ই বলা যায়। এই কথাটি দ্বিমত অনেক মতবাদও রয়েছে কেননা ব্যস্ততা এতটাই হওয়া উচিত না যা নিজেকে অন্যের থেকে দূরে রাখে এমন কি নিজেকে নিজের থেকে ও সরিয়ে রাখে। আমরা যেহেতু সমাজবদ্ধ জীব তাই আমাদের নিজেদের এতটা ও কাজে ব্যস্ত করা ব্যস্ত করে ফেলা উচিত নয় যে আমরা নিজেদের মানুষের খোঁজ খবর নেবার সময় না পাই বা আমাদের আশে পাশের মানুষের খবর নেবার ও সময় না পাই। কারণ আমরা যেহেতু সমাজ বদ্ধ জীব তাই আমাদের নিজেদের সাথে সাথে আশেপাশে সকল মানুষকে নিয়ে সমাজে বসবাস করতে হয়। সমাজে বের হলেই অনেক পরিচিত প্রিয়জন দের সাথে দেখা হয় তখন আমাদের উচিত তাদের সাথে কৌশল বিনিময় করা বা কিছুক্ষণ তাদের সাথে কথা বলা। আমরা যদি তাদের এড়িয়ে চলি শুধুমাত্র নিজের ব্যস্ততার জন্য তবে সামাজিক দিক থেকে এটি ভালো নয়। অনেক সময় দেখা যায় আমরা নিজেদের কাজে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ি যে আমরা বাড়ি থেকে বের হলে কোন পরিচিত কারো সাথে দেখা হল কথা বলার সময় পাই না। এতে করে আমরা নিজেদেরকে সকলের থেকে ধীরে ধীরে ধীরে সরিয়ে নিয়ে ফেলি। এমনকি এমন সময় আসে যে ব্যস্ততার কারণে আমাদের নিজে নিজের জন্যই সময় থাকে না। একটু ব্যস্ততা আবার আমাদের নিজেদেরকে একা করে ফেলে। কাজের ফাঁকে যদি আমরা আমাদের পরিবারের লোকজন বা আমাদের আত্মীয়স্বজনের সাথে কুশল বিনিময় করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে তবে আমাদের মানসিক দিক দিয়েও অনেকটা শান্তি পাওয়া যায়। আমরা যদি অতিরিক্ত ব্যস্ততার ফলে এ সকল বিষয় থেকে নিজেদের দূরে রাখে তবে ধীরে ধীরে আমরা একা হয়ে পড়বো যা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর আবার অতিরিক্ত ব্যস্ততা আমাদের শারীরিক বিভিন্ন সমস্যারও কারণ হয়ে পড়ে অনেক সময়।

৪.ক্ষণস্থায়ী জীবন নিয়ে উক্তি। জীবন নিয়ে উক্তি

জন্মগ্রহণের পর থেকে একজন মানুষের জীবন শুরু হয়ে যায়। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে অতিবাহিত করতে হয় মৃত্যু পর্যন্ত। শুধু বেঁচে থাকাই মানুষের জীবনে সার্থকতা নয়। সার্থকতা অনেকাংশে লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার অর্থপূর্ণ কারণ খোঁজার মাঝে। যদিও জীবন একেকজনের কাছে একেক রকম এবং জীবনের বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয়তা বেঁচে থাকার সার্থকতা একেক জনের কাছে একই রকম হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমাদের প্রত্যেকেরই জীবনের কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা উচিত। লক্ষ্য ছাড়া কেউ কখনো জীবনে সার্থকতা লাভ করতে পারে না। লক্ষ্যছাড়া জীবনে যেমন সার্থকতা লাভ করা সম্ভব না ঠিক তেমনি কোন কাজ সফলতা অর্জন করাও সম্ভব না ।আমাদের প্রত্যেকের জীবনের নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা উচিত জীবনের কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলে আমরা সেই লক্ষ্যকে টার্গেট করে আমাদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজগুলো সেভাবে সাজিয়ে করতে পারব ।জীবনে কোন লক্ষ্য না থাকলে আমরা মাঝি ছাড়া নৌকোর মত কোন উপায় পাবো না ।যার জীবনে কোন লক্ষ্য নেই সে কখনোই তার নির্দিষ্ট প্রাপ্য লাভ করতে পারেনি এবং জীবনে সফলতা অর্জন করতে পারেনি ।আমাদের জীবন যেহেতু খুবই ক্ষণস্থায়ী এ ক্ষণস্থায়ী জীবনে আমাদের সকলেরই নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য থাকা উচিত এবং সেই লক্ষ্য কে কেন্দ্র করে আমাদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে কার্য সম্পাদন করা উচিত। সামাজিক, পারিবারিক ,ধর্মীয় সকল ক্ষেত্রে আমাদের ক্ষণস্থায়ী জীবনকে এমনভাবে করে তোলা উচিত যেন আমরা পরিবার সমাজ এবং মৃত্যুর পরের জীবনেও শান্তি খুঁজে পাই এবং জীবনের সফলতা অর্জন করতে পারি। এই ক্ষণস্থায় জীবনে আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের জীবনের লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য যা যা করা দরকার সেগুলো করা তার সাথে সাথে পরিবারের লোকজনদের আমাদের নিয়ে যে আশা রয়েছে সেগুলো পূরণ করা সমাজের জন্য কিছু করা, নিজের আত্মীয়-স্বজনদের জন্য কিছু করা, এবং দেশের জন্য কিছু করা। ধর্মীয় দিক থেকে ভাবলে আমাদের চারপাশে যেমন বিভিন্ন ধর্মের লোক রয়েছে। একেক ধর্মের নিয়ম নীতি এক এক রকম। তাই ধর্মীয় দিক নিয়েও আমাদের জীবনের নিয়ম-নীতি এবং কাজগুলো সাজাতে হবে যেন এই জীবনে সাথে সাথে আমাদের যে মৃত্যুর পরে চিরস্থায়ী জীবন রয়েছে সেই জীবনেও যেন আমরা শান্তি লাভ করতে পারি। আমাদের এই জীবন অনেক ক্ষণস্থায়ী হলেও মৃত্যুর পরের জীবন চিরস্থায়ী। জীবনে আমাদের চিরস্থায়ী জীবনকে সুখেরও শান্তির করার জন্য ধর্মীয় দিকগুলো মেনে চলতে হবে এবং সেভাবে জীবন পরিচালিত করা উচিত।

৫.সাদামাটা জীবন নিয়ে উক্তি। জীবন নিয়ে উক্তি

ব্যয়বহুল জীবন যাপন না করে সহজ সরল সাধারন জীবনযাপন করাই হচ্ছে সাদামাটা জীবন। আমাদের সমাজে অনেক রকমের মানুষ রয়েছে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত। সাধারণত নিম্নবিত্তের মানুষরা অনেক সাদামাটা জীবন যাপন করে থাকে। এমন অনেক পরিবার রয়েছে যে আজকে খেলে কালকে কি খাবে তার টাকা থাকে না সেখানে তাদের সব পূরণ করার মত জিনিস কে না তো পরের বিষয়। প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে জীবন যাপন করাই হচ্ছে সাদামাটা জীবন। প্রত্যেক মানুষের বিভিন্ন রকমের শখ থাকে কেউ সেই শখ পূরণ করতে পারে কেউ সেইসব পূরণ করতে পারেনা। শখ পূরণ না করার অন্যতম কারণ হলো অর্থ না থাকা। অনেকে আছেন অর্থের অভাবে সাদামাটা জীবন যাপন করতে বাধ্য হন নিজের শখ পূরণ করতে পারেন না আবার এমন অনেকে আছেন যার পর্যাপ্ত অর্থ থাকা সত্ত্বেও সাদামাটা জীবন যাপন করতে পছন্দ করেন। এটি যার যার ব্যক্তিগত পছন্দের দিক দিয়ে যাচাই করা যায় কেউ বাধ্য হয়ে সাদামাটা জীবন যাপন করে কেউ নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী অর্থ থাকা সত্ত্বেও সাদামাটা জীবন যাপন করতে পছন্দ করে। তবে সাদামাটা জীবন যাপন করাই উচিত প্রয়োজনের থেকে অতিরিক্ত ব্যয় করা উচিত নয়। অথবা আমাদের আশেপাশে এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা অনেক অভাবে রয়েছেন যাদের হয়তো একবারে খাবার খেলে পরের বেলার জন্য অর্থ থাকে না আমরা চাইলে তাদের সাহায্য করতে পারি অযথা অর্থ ব্যয় না করে। সাদামাটা জীবনযাপনের মধ্যে অনেকেই সুখ খুঁজে পায়। আবার অনেকেই আছেন অযথা অনেক অর্থ ব্যয় করে থাকেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্রয় করেন। এগুলো করা মানবিক দিক দিয়ে উচিত নয় তাদের উচিত অবশ্যই অবহেলিত এবং নিম্নবিত্তের মানুষদের সাহায্য সহযোগিতা করা। আমারটা জীবন হোক বা ব্যয়বহুল জীবন হোক একেকজনের কাছে এগুলোর সংজ্ঞা একেক রকম, একেক জনের কাছে পছন্দ এক এক রকম। কেউ সাদামাটা জীবন যাপন করতে পছন্দ করে কেউ ব্যয়বহুল জীবন যাপন করতে পছন্দ করে। সাদামাটা জীবন যাপনের মধ্যে একজন মানুষের মানসিকতার ও পরিচয় পাওয়া যায় আবার ব্যয়বহুল জীবনযাপন দেখেও একজনের মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায় জীবন নিয়ে উক্তি এর এই আর্টিকেল টি। 

৬.সংসার জীবন নিয়ে উক্তি। জীবন নিয়ে উক্তি

মানুষের জীবনের অন্যতম একটি অধ্যায় হল বৈবাহিক জীবন বা সংসার জীবন। একটি নির্দিষ্ট বয়সে অবতীর্ণ করলে সবাই বৈবাহিক জীবনে আবদ্ধ হয় সামাজিক এবং পারিবারিকভাবে এটি হয়ে থাকে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষ সংসার জীবনে অবস্থান করে। সংসার জীবন কখনো হয় অনেক সুখের আবার কখনো জীবনের সব সুখ কেড়ে নেয়। সংসার জীবন অনেকটাই নির্ভর করে জীবনসঙ্গীর উপর। জীবনসঙ্গী ভালো হলে সংসার জীবন অনেক সহজেই অতিবাহিত করা যায় আর জীবনসঙ্গী ভালো না হলে সংসার জীবনের টিকে থাকা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। সংসার জীবনে ভালোভাবে অতিবাহিত করতে কিছু জিনিসের অনেক দরকার পড়ে, যেমনঃ বিশ্বাস,সহমর্মিতা, সহযোগিতা, ধৈর্য এবং ভালোবাসা। আমাদের আশেপাশে এমন অনেকে আছে যারা তাদের সংসার জীবন নিয়ে অনেক সুখী, আবার এমন অনেকে আছে যারা সংসার জীবন নিয়ে একদমই সুখী নয়। এমনকি এমন পর্যায়ে অনেকের চলে যায় যে তারা সংসার জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে চায় এবং অনেকে বেরিয়ে আসে। সংসার জীবনে পরিবারের সদস্যরাও অনেক ভূমিকা পালন করে। পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা সহমর্মিতা থাকা খুবই প্রয়োজন। পরিবারের সকলের সাথে একসাথে থাকতে পারার মধ্যেই অনেকের সাংসারিক শান্তি পেয়ে থাকে। আবার এমন অনেকেই আছে যারা সংসার জীবন পছন্দ করে না তারা বৈবাহিক জীবনে প্রবেশ করে না এবং শুধু নিজেকে নিয়েই থাকতে পছন্দ করে। সংসার জীবনে অন্যতম আরেকটি পর্যায় হলো সন্তান সন্ততিদের সঠিকভাবে লালন পালন করা এবং তাদেরকেও জীবন সম্পর্কে সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়া। সংসার জীবনে সুখী থাকতে হলে যে সকল দিকগুলোর প্রয়োজন সেগুলো যদি আমরা আমাদের জীবনে মেনে চলতে পারি তবে আমরা সংসার জীবনে সুখী হতে পারব।

৭.বাস্তব জীবন নিয়ে উক্তি। জীবন নিয়ে উক্তি

মানুষের জীবন সহজ কিছু নয়, জীবন খুবই কঠিন। বাস্তব জীবন বলতে বোঝায় জীবনের সেই কঠিন সত্যগুলোকে। অনেকেই ভাবে অর্থ ক্ষমতা থাকলেই বুঝি জীবন খুবই সহজ তবে সেখানেও রয়েছে কিছু বাস্তবতা। প্রকৃতপক্ষে জীবনে কেউ সুখী হতে পারে না। সবারই কোনো না কোনো দিক দিয়ে অভাব অনটন লেগেই থাকে,আর এই জীবনের কঠিন দিকগুলোই হল বাস্তব জীবন। জীবনের সুখের পেছনে লুকিয়ে থাকা কষ্টগুলো অভাব গুলো হলো বাস্তবতা।বাস্তবতা অনেক কিছু শেখায় মূলত বাস্তব জীবন আমাদেরকে জীবনের কঠিন সত্য গুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। যারা জীবনের বাস্তবতা মেনে সামনে এগিয়ে চলতে পারে তারাই এক সময় যে সার্থকতা লাভ করে। আর যারা বাস্তব জীবনের সত্যতা কঠিন জীবন দেখে পিছিয়ে পড়ে হাল ছেড়ে দেয় তারা জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনা। কিছু কঠিন সময় এই সময়গুলো আমাদের ধৈর্য নিয়ে সময় নিয়ে বুদ্ধিমত্তার সাথে পার করতে হয়।

৮.জীবন পরিবর্তন নিয়ে উক্তি। জীবন নিয়ে উক্তি

জীবন যেমন সহজ কিছু নয় জীবনের যেমন অনেক কঠিন সময় রয়েছে সেরকমই আমাদের জীবন যে কোনো সময় পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। জীবন পরিবর্তন হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যেমনঃশিক্ষা একটি মানুষের জীবনকে অনেক দ্রুত পরিবর্তন করে দিতে পারে একজন শিক্ষিত মানুষ ও একজন অশিক্ষিত মানুষের জীবনকে কাছ থেকে দেখলেই তা বোঝা সম্ভব, শিক্ষার পাশাপাশি পারিবারিক শিক্ষা, মূল্যবোধ মানুষের জীবনে পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি পরিবার থেকেও শিক্ষা পেয়ে থাকি এবং সমাজ থেকেও শিক্ষা পেয়ে থাকি, এই শিক্ষাগুলো আমরা আমাদের জীবনে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে আমাদের জীবন পরিবর্তন করা সম্ভব। এছাড়াও শিক্ষার মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠা করে আমরা আমাদের জীবন পরিবর্তন করতে পারি।জীবনের পরিবর্তন দু'রকম হতে পারে। হয় জীবনে আমাদের উন্নতি হতে পারে আর না হয় অবনতি হতে পারে। জীবনের উন্নতি অনেক কিছুর সাথেই সম্পর্কিত। আমরা যদি সৎ পথে চলি নিজে ধৈর্য রেখে নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখে হার না মেনে জীবনে কঠিন সময়গুলো পার করি তবে আমাদের জীবনে উন্নতি হবে, আর আমরা যদি ধৈর্য না রেখে সৎ না থেকে মানুষের ক্ষতি করে জীবনে কঠিন সময় গুলোতে হার মেনে চলি তবে আমাদের জীবনে কখনোই উন্নতি হওয়া সম্ভব নয়। জীবনের পরিবর্তন অনেকটাই আমাদের হাতেই রয়েছে আমরা আমাদের জীবনকে যেভাবে পরিচালিত করব আমাদের জীবন ঠিক সেভাবেই গড়ে উঠবে।

আর্টিকেল সম্পর্কিত প্রশ্ন- উত্তর

১.প্রশ্নঃ মানুষের জীবন কি পুর্নাঙ্গ ভাবে সঙায়িত করা যায়?

উত্তরঃ না যায় না।

২.প্রশ্নঃ ব্যস্ত জীবন কি সুখের হয়?

উত্তরঃ কিছু ক্ষেত্রে, তবে অতিরিক্ত ব্যস্ততা কখনই সুখের নয়।

৩.প্রশ্নঃ সংসার জীবন এ সুখী হতে কি কি প্রয়োজন? 

উত্তরঃ বিশ্বাস, ভরশা, সহনশীলতা, ভালোবাসা।

৪.প্রশ্নঃ জীবন কি পরিবর্তন হতে পারে?

উত্তরঃ হ্যাঁ জীবন পরিবর্তনশীল।

৫.প্রশ্নঃ মানুষ কেমন জীব?

উত্তরঃ মানুষ সামান্য জীব।

লেখক এর মন্তব্য

এই আর্টিকেলটি মূলত জীবন নিয়ে উক্তি দিয়ে । জীবন নিয়ে বৈজ্ঞানিক বা মানবিক নানা রকম মতবাদ রয়েছে। তবে যেহেতু নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা নেই সেহেতু আমরা বলতে পারি যে একজন মানুষ যেভাবে জীবনে সুখ লাভ করে সেটাই তার জীবনের সার্থকতা।মানুষের জীবন অনেক অদ্ভুত। জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনে নানা পর্যায়ে ভালো খারাপ সময় পাড়ি দিয়ে মানুষকে এগিয়ে যেতে হয়। মানুষের বিভিন্ন জীবনে যে সকল পর্যায় রয়েছে সেগুলো হলঃ শিশুকাল,ছাত্রজীবন, সংসার জীবন, বার্ধক্য, ব্যস্ত জীবন, সুখী জীবন, অসুখী জীবন, শিক্ষা জীবন ইত্যাদি। আমরা যদি সৎ থেকে ধৈর্য ধারণ করে এবং সকল ইতিবাচক গুণাবলী গুলো আমাদের আচারের আচার-আচরণে রেখে জীবন এর প্রত্যেকটি পর্যায় পাড়ি দিতে পারি তবে আমরা জীবন এর সার্থকতা লাভ করতে পারব। আর এর সাথে সাথে অবশ্যই আমাদের প্রত্যেক কে জীবনে একটি লক্ষ্য ঠিক করে নিতে হবে এবং সেই লক্ষ্য কে কেন্দ্র করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। জীবনে কখনো হার মানলে চলবে না অসৎ হওয়া যাবে না। নিজে কে মূল্য দিতে হবে এবং এর সাথে সাথে পরিবারের সদস্য আত্মীয়-স্বজন সমাজের মানুষ সবাইকে ভালোবেসে সাহায্য সহযোগিতা করে জীবন ধারণ করতে হবে। জীবনে খারাপ ভালো দুটো সময়ে আসবে আমাদেরকে দুটো সময়েই ধৈর্য ধারণ করে পাড়ি দিতে হবে।

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?