The DU Speech https://www.duspeech.com/2022/08/checking-national-id-cad.html

ভোটার আইডি কার্ড চেক | Checking National ID card

ভোটার আইডি কার্ড একটি দেশের নাগরিক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ডকুমেন্ট। ভোটার আইডি কার্ড চেক তাই একজন নাগরিকের পরিচয় পত্রের সত্যতা নিশ্চিত করে। এটির মাধ্যমে একজন কে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিক হিসেবে গননা করা হয়।ভোটার আইডি কার্ড চেক সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য নিয়ে এই ভোটার আইডি কার্ড চেক আর্টিকেল টি সাজানো হয়েছে। 



অনুচ্ছেদ সূচী ( যে অংশ পড়তে চান তার উপর ক্লিক করুন)

  1. পুরাতন আইডি কার্ড চেক
  2. ভোটার আইডি কার্ড অনলাইন কপি
  3. মোবাইলে ভোটার আইডি কার্ড চেক
  4. ছবিসহ ভোটার আইডি কার্ড চেক
  5.  নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম
  6.  নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার আবেদন পদ্ধতি

১.পুরাতন আইডি কার্ড চেক । ভোটার আইডি কার্ড চেক

আপনাদের অনেকেরই কখনো কোন কারনে আপনাদের পুরাতন আইডি কার্ড দেখতে হতে পারে বা পুরাতন আইডি কার্ডের প্রয়োজন হতে পারে। ভোটার আইডি কার্ড চেক করার প্রয়োজন হতে পারে। যেহেতু একজন নাগরিক হিসেবে ভোটার আইডি কার্ড অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ডকুমেন্টস যেহেতু আপনার যেকোনো সময় আইডি কার্ড প্রয়োজন হতে পারে হতে পারে। সেটি পুরাতন আইডি কার্ড অথবা নতুন আইডি কার্ড আপনারা খুব অল্প কিছু সময়ের মধ্যে এবং অনেক সহজ কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে আপনার পুরাতন ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে পারবেন। কিছুদিন আগেও এ সকল কাজ করতে আপনাদের অনেক রকমের ঝামেলা পোহাতে হতো কিন্তু এখন আমাদের দেশের অনলাইন সেবার মাধ্যমে অনেক দ্রুত এবং সহজ কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করেই আপনারা আপনাদের পুরাতন ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে পারেন।আপনি যদি পুরাতন ভোটার হয়ে থাকেন তবে আপনি কিভাবে আপনার পুরাতন ভোটার আইডি কার্ড  চেক করবেন বা পুরাতন ভোটার আইডির তথ্য সমূহ জানবেন সে সম্পর্কে এ অংশে বলা হবে। পুরাতন আইডি কার্ড বলতে সে সকল আইডি কার্ড বোঝানো হচ্ছে যে সকল আইডি কার্ড হালনাগাদ হয়েছে আজ থেকে আরো ৭-৮ বছর আগে তবে এখনো আপনারা হাতে পাননি। আপনি নিজেই আপনার পুরাতন আইডি কার্ড এর তথ্য দেখতে পারবেন এবং পুরাতন আইডি কার্ড চেক করতে পারবেন অনলাইনের মাধ্যমে এবং খুব সহজ কিছু পদ্ধতিতেই। আপনি যদি নিজেই আপনার পুরাতন আইডি কার্ড চেক করতে চান তবে প্রথমে আপনার একটি মোবাইল ফোন ল্যাপটপ অথবা কম্পিউটারের প্রয়োজন হবে। এরপর আপনাকে ইন্টারনেট অন করে ব্রাউজারে গিয়ে একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইট টি হল নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। ‌‌‌‌services.nidw.gov.bd এটি হলো সেই ওয়েবসাইট।ওয়েবসাইটটি তে প্রবেশ করে আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে। সাইটটিতে প্রবেশ করলেই আপনারা রেজিস্ট্রেশন নামক একটি অপশন দেখতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে। সেখানে আপনাকে আপনার আইডি কার্ড নাম্বার মোবাইল নাম্বার এবং ইমেইল দিতে হবে।এরপরে আপনার জন্ম তারিখ সঠিকভাবে প্রদান করতে হবে এবং স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানা দিয়ে ওকে করতে হবে। ওকে করার পর আপনি যে মোবাইল নম্বরটি দিয়েছেন সেই নম্বরে একটি এস এম এস যাবে এবং সেখান থেকে ভেরিফিকেশন করে আপনার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। আপনাকে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে এবং এনআইডি কার্ড এর জন্য লগইন করতে হবে। Services.nidw.gov.bd এই লিংকে প্রবেশ করে আপনি পুরাতন আইডি কার্ড ডাউনলোড ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবেন। প্রবেশ করে আপনি রেজিস্ট্রেশন করার সময় যে পাসওয়ার্ড দিয়েছিলেন সেই পাসওয়ার্ড এবং ইউজার নাম দিয়ে নিচে একটি ক্যাপচা আসবে সেই ক্যাপচাটি সঠিকভাবে পূরণ করবেন এবং পুনরায় আপনার নম্বরে একটি কোড যাবে সেই কোডটি বসিয়ে লগইন করে নেবেন। লগ ইন করার পর যে পেজটি ওপেন হবে সেখানে আপনাকে চারটি অপশন দেয়া হবে। এবার আপনি প্রোফাইল টোনের উপর ক্লিক করবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে আপনার সামনে আপনার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি চলে আসবে। এভাবে খুব সহজেই আপনি আপনার পুরাতন ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে পারবেন। পেজের সর্বশেষ অপশনটি হচ্ছে ডাউনলোড অপশন আপনি সেখানে গিয়ে ডাউনলোড অপশন এ ক্লিক করে আপনার পুরাতন আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন।

২.ভোটার আইডি কার্ড অনলাইন কপি। ভোটার আইডি কার্ড চেক

অনলাইনের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আপনার ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি পেয়ে যেতে পারেন। এখন আর আগের মত দোকানে যে বা ঝামেলা পোহানো ছাড়াই আপনি আপনার অনলাইন কপি পেয়ে যেতে পারেন। আইডি কার্ডের মাধ্যমে একজনের সম্পর্কে সকল তথ্য জানা যায় একটি দেশের নাগরিক হিসেবে ভোটার আইডি কার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এখন অনলাইনের মাধ্যমে ভোটার আইডি কার্ড সম্পর্কিত নানা তথ্য এবং কাজ সম্পাদন করা সম্ভব হয় যা সকল নাগরিকের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক। সহজেই ঘরে বসে ভোটার আইডি কার্ড অনলাইন কপি দেখা যায় এবং ডাউনলোড করা যায়। ভোটার আইডি কার্ড অনলাইন কপি দেখার জন্য প্রথমে নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল একটি ওয়েব পেজে আপনাকে যেতে হবে। ওয়েবপেজটি হল services.nidw.gov.bd. ওয়েব পেজটিতে গিয়ে ফ্রম নম্বর নামক অপশনে আপনাকে ক্লিক করতে হবে এবং আপনার ফোন নাম্বার দিতে হবে। তার আইডি কার্ড রেজিস্ট্রেশন করার সময় যে নম্বরটি দিয়েছিলেন সেই নম্বরটি দিতে হবে। পর রেজিস্ট্রেশন অপশন আসে এবং ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে তারপর লগইন করে নিতে হবে। লগইন করার পর সেখানে আপনার ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার অপশন থাকে। ডাউনলোড অপশনে ক্লিক করলেই আপনি আপনার ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।যেহেতু একজন নাগরিকের ভোটার আইডি কার্ডের তার নাম বাবার নাম মায়ের নাম স্থায়ী অস্থায়ী ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় সকল তথ্য দেয়া থাকে তাই যেকোনো সময় ভোটার আইডি কার্ডের প্রয়োজন পড়তে পারে এজন্য মাঝে মাঝে ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপির প্রয়োজন পড়তে পারে সেক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অবলম্বন করে আপনারা অনলাইন কপি আপনার সংগ্রহে রাখতে পারেন এবং ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে পারবেন। 

৩.মোবাইলে ভোটার আইডি কার্ড চেক। ভোটার আইডি কার্ড চেক

যারা ইতিমধ্যে ভোটার আইডি কার্ড নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন তারা প্রয়োজনের সময় অতি সহজেই মোবাইলে আপনার ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে পারবেন। কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করেই আপনি মোবাইলে আপনার ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য দেখতে পারবেন এবং আপনার ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি ও সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন।আপনার কাছে যদি আপনার জন্ম তারিখ ভোটার আইডি নাম্বার এবং ভোটার স্লিপ নাম্বার থাকে তবে খুব সহজেই আপনি আপনার হাতের কাছে থাকা মোবাইলে আপনার আইডি কার্ড চেক করতে পারবেন। মোবাইলে আইডি কার্ড চেক করতে আপনার যা যা প্রয়োজন হবে সেগুলো হল একটি স্মার্ট ফোন আপনার সঠিক জন্ম তারিখ আপনার আইডি নম্বর ইন্টারনেট কানেকশন এবং আপনার মোবাইলের সিমটিতে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স।

মোবাইলে আপনি দুটি পদ্ধতিতে আপনার আইডি কার্ড চেক করতে পারবেন।

একটি হলো মোবাইলের এসএমএস এর মাধ্যমে চেক আরেকটি হলো অনলাইনের মাধ্যমে চেক। ২০২২ সালে নির্বাচন কমিশন তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দিয়েছে। তাই আবার কোন ওয়েবসাইট চালু না করা অব্দি আপনারা বিকল্প পদ্ধতিতে  আপনার আইডি কার্ড চেক করতে পারবেন।

>মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ভোটার আইডি চেক

আপনি আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন SC<space>F<space>নিবন্ধন স্লিপের আট সংখ্যার নম্বর<space>D<space>৪ সংখ্যার জন্ম সাল ড্যাস দিয়ে ২ সংখ্যার জন্ম তারিখ লিখে পাঠিয়ে দেবেন ১০৫ নম্বরে। ২০ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপনার আইডি কার্ড নম্বর সকল তথ্য সহ সব পেয়ে যাবেন।

>মোবাইলে অনলাইন এর মাধ্যমে ভোটার আইডি চেক

আরেকটি পদ্ধতি হলো আপনার মোবাইলে অনলাইন এর মাধ্যমে আপনার ভোটার আইডি কার্ড চেক করা। অনলাইনের মাধ্যমে ভোটার আইডি চেক করতে চাইলে আপনি আপনার ছবিসহ আপনার ভোটার আইডি চেক করতে পারবেন। অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড চেক করার পূর্বে আপনি আপনার মোবাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে ভোটার আইডি নম্বর সংগ্রহ করবেন অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে আপনার মোবাইলে এসএমএসের ভোটার আইডি নম্বরের প্রয়োজন পড়বে। মোবাইলে অনলাইন এর মাধ্যমে ভোটার আইডি কার্ড চেক করার নতুন মাধ্যম হলো ভূমি মন্ত্রণালয় কর। ওয়েবসাইটটিতে একটি কর্নার রয়েছে যার নাম নাগরিক রেজিস্টার কর্নার। এই নাগরিক রেজিস্টার কর্নারে যেয়ে আপনি আপনার ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে পারবেন। এই নাগরিক রেজিস্টার কর্নারে যে আপনি আপনার জন্ম তারিখ এবং এনআইডি নম্বর দিয়ে আইডি কার্ড দেখতে পারবেন। ভূমি উন্নয়ন করের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আপনাকে নাগরিক নিবন্ধন অপশনটি বাছাই করে নিতে হবে। এরপর প্রথম ঘরে আপনার যেকোনো একটি মোবাইল নাম্বার প্রদান করবেন। এরপর এনআইডি কার্ডের নম্বর এর জায়গায় আপনার মোবাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে সংগ্রহীত এনআইডি নাম্বারটি প্রদান করবেন। আপনি আপনার জন্ম নিবন্ধন নাম্বারটি সিলেক্ট করবেন। সব হয়ে গেলে আপনি পরবর্তী বা নেক্সট নামক অপশনটিতে ক্লিক করবেন। এরপর একটি ইন্টারফেস আসবে যেখানে আপনার আইডি কার্ডের তথ্য দেয়া থাকবে।

৪.ছবি সহ ভোটার আইডি কার্ড চেক। ভোটার আইডি কার্ড চেক

আপনি অনলাইনের মাধ্যমে এবং কোন ল্যাপটপ কম্পিউটার বা আপনার হাতের কাছে থাকা মোবাইলের মাধ্যমে খুব সহজেই ছবিসহ আপনার ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে পারবেন। যে কেউই এখন খুব সহজেই মোবাইলে ছবিসহ ভোটার আইডি কার্ড দেখতে পারবেন তার সাথে সাথে সকল তথ্য। এই তথ্যগুলো ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবেন। নতুন এবং পুরাতন সকল ভোটার আইডি কার্ডেরই ছবিসহ চেক করা যাবে। উপজেলা নির্বাচন অফিস এখন সকল ভোটারদের হাতে ভোটার আইডি কার্ড তুলে দিয়েছে বা দিচ্ছে তাই এখন আর উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে আইডি কার্ডের অনলাইন কপি দেয়া হয় না।যারা এখনো আইডি কার্ড পায়নি তারা সবাই নতুন ভোটার তাই তাদের জন্য অনলাইনে আইডি কার্ড ডাউনলোড করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এবং পুরাতন ভোটাররাও তাদের আইডি কার্ড অনলাইনে সহজেই দেখতে এবং ডাউনলোড করতে পারবে।ছবিসহ ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে হলে প্রথমেই আপনাদেরকে ভূমি উন্নয়ন কর পেজে যেতে হবে।একটি ফর্ম আপনাদের সামনে আসবে এবং সেই ফরমের তথ্যগুলো আপনাদেরকে সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। ফর্ম এর প্রথমেই আপনাকে মোবাইল নম্বর দিতে হবে যে কোন মোবাইল নম্বর দিলে হয়ে যাবে। তারপরে আপনাদেরকে জাতীয় পরিচয় পত্র ঘরে দশ অথবা সতেরো সংখ্যার নম্বর লিখতে হবে।তারপর আছে জন্ম তারিখের ঘর এই জন্ম তারিখের ঘরে আপনার জন্ম তারিখ সঠিকভাবে লিখতে হবে তারিখ বছর মাস হিসেবে। এর পরে পরবর্তী অপশনে ক্লিক করলেই ভোটার তথ্য দেখতে পারবেন আপনার ছবি সহ। এরপর এন আইডি সার্ভার থেকে আপনার ভোটার তথ্য আপনার সামনে আসবে আপনার নাম পিতা-মাতার নাম জন্ম তারিখ স্থায়ী অস্থায়ী ঠিকানা এবং আপনার ছবি সহ। নির্বাচন অফিসের ওয়েবসাইট থেকে আপনারা আপনাদের ভোটার আইডি চেক করতে পারবেন তবে সেখানে ছবি দেখতে পারবেন না। ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই ওয়েবসাইটটি থেকে আপনারা এই কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে খুব সহজেই আপনার ভোটার আইডি সকল তথ্য আপনার ছবিসহ দেখতে পারবেন। এই সকল তথ্য আপনারা নিজেদের সংগ্রহে রেখে নানা কাজে ব্যবহার করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে অনলাইন কপিও আপনাদের সাথে রাখতে পারবেন।

৫.নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম।ভোটার আইডি কার্ড চেক

আপনাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যারা সঠিক সময়ে ভোটার আইডি কার্ডের নিবন্ধন করেননি কিংবা করতে পারেননি। আপনারা হচ্ছেন নতুন ভোটার আপনাদের মধ্যে হয়তো এমনও আছেন যারা জানেন না কি করে নতুন ভোটার আইডি কার্ডের জন্য নিবন্ধন করতে হয়। আর্টিকেলের এই অংশটি আপনাদের জন্য যারা জানেন না নতুন ভোটার আইডি কার্ড কিভাবে করতে হয় এই অংশের নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম সম্পর্কে জানানো হবে। নতুন ভোটার আইডি কার্ড করা নিয়ম একদমই সহজ তবে অনেকেই সঠিক নিয়ম জানেন না বলে আপনাদের নানারকম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এর মধ্যে অনেকেই এটাও জানেন না যে নতুন ভোটার আইডি কার্ড করতে কি কি কাগজপত্র বা কি কি তথ্যের প্রয়োজন হয়।  এই অংশে নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন কি কি নিয়ম আপনারা অনুসরণ করবেন কত দিনের মধ্যে আপনারা ভোটার আইডি নাম্বার পাবেন কিভাবে ডাউনলোড করতে পারবেন সেই সকল তথ্য সম্পর্কে জানাতে চেষ্টা করব।ভোটার হওয়া একটি দেশের সকল নাগরিকের অধিকার। আমাদের দেশের নির্বাচন কমিশন প্রত্যেক বছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম করে থাকে। সময় বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহকারী দেশের প্রত্যেক অঞ্চলের বাড়িতে বাড়িতে যায় এবং নতুন ভোটারদের তালিকা সংগ্রহ করে তার সাথে সাথে তাদের একটি ফর্ম প্রদান করে। ফরম পূরণ করে সুবিধা জনক স্থানে ভেন্যু তৈরি করে ডাটা এন্ট্রির কাজ করা হয়ে থাকে। যারা নতুন ভোটার হবেন তারা এই সময় ফর্ম টি পূরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে খুব সহজেই ভোটার হতে পারেন।নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আপনাদের একটি নির্দিষ্ট বয়সে অবতীর্ণ করতে হবে বাংলাদেশের ভোটার হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট বয়স হলো ১৮ বছর। ১৮ বছর হলে আপনারা ভোটার আইডি কার্ড পাবেন এবং ভোট দিতে পারবেন তবে এখানে আরেকটি ব্যাপার হলো আপনাদের যাদের বয়স ১/১/২০০৪ তারিখ বা তার পূর্বে তারা ভোটার আইডি কার্ডের জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন তবে আপনারা ভোট দিতে পারবেন না। 18 বছরের নিচে আপনাদের বয়স হলে আপনারা ভোটার আইডি কার্ড পাবেন তবে ভোট দিতে পারবেন না। ১৮ বছর হলে আপনাদের নাম ভোটার তালিকায় চলে আসবে এবং আপনারা তখন ভোট দিতে পারবেন।

৬.নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার আবেদন পদ্ধতি। ভোটার আইডি কার্ড চেক

আর্টিকেলের একটি অংশে আমরা দেখেছি নতুন ভোটার আইডি কার্ড চেক করার কিছু নিয়ম। আর্টিকেলের এই অংশে আপনাদের দেখানো হবে নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার আবেদন পদ্ধতি।
নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার আবেদন পদ্ধতি দুইভাবে করা যায়-১. একটি পদ্ধতি হল উপজেলা সরকারি নির্বাচন অফিসে গিয়ে ২নং নতুন ভোটার নিবন্ধন ফরমটি  আইডি কার্ডের জন্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র  ফর্মটির সাথে অ্যাটাচ করে জমা দিতে হবে। প্রতিটি দুই নং নতুন ভোটার নিবন্ধন ফরম এর সাথে একটি করে ইউনিক নম্বর থাকে যার মাধ্যমে নিবন্ধনকারীর তথ্য যাচাই করা যায়। তাই ভোটার ফর্ম ফটোকপি করে একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করবেন না বা অন্য কারো ভোটার ফর্ম ফটোকপি করে নেবেন না। নতুন ভোটার আইডির জন্য আবেদন করার পর উপজেলা নির্বাচন অফিসার রেজিস্ট্রেশন অফিসার আপনার তথ্য যাচাই করবে এবং পরবর্তীতে যাচাই করে আপনার সকল তথ্য সঠিক এবং কাগজপত্র সঠিক পেলে আপনাকে নতুন ভোটার করার অনুমোদন দিবে।
২. নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার জন্য আরেকটি পদ্ধতি হল অনলাইনে আবেদন করা। অনলাইনে আবেদন করতে হলে আপনাকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট টি হল services.nidw.gov.bd. এই লিঙ্কে গেলে আপনি বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করে ফেলবেন। এই লিংকে যে নতুন ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন দাখিল করলে ২নং নতুন ভোটার নিবন্ধন ফরম ডাউনলোড করার অপশন আসবে। এই ফর্ম টি ডাউনলোড করে আপনাকে প্রিন্ট করতে হবে। করার পর প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পিন আপ করে আপনার সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হবে। এরপর উপজেলা নির্বাচন অফিসার এবং রেজিস্ট্রেশন অফিসার আপনার তথ্য যাচাই করে এবং আপনার প্রদানকৃত কাগজপত্র গুলো যাচাই করে আপনাকে নতুন ভোটার হওয়ার অনুমোদন দেবে।
নতুন ভোটার নিবন্ধন ফরমে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ-
নতুন ভোটা নিবন্ধন ফরমে আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ সতর্কতার সাথে করতে হবে। অফিসে ফর্ম নিয়ে আবেদন করেন আর অনলাইনে আবেদন করেন উভয় ক্ষেত্রেই একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ আপনাকে সতর্কতার সাথে করতে হবে। আপনার ২ নং নতুন ভোটার নিবন্ধন ফরম এর পেছনের পাতায় ৩৪ নং ক্রমিকে শনাক্তকারীর nid ও ৩৫ নং ক্রমিকে স্বাক্ষর এই দুটি স্থানে প্রতি বেশি বা অন্য যেকোনো একজনের এনআইডি নাম্বার লিখতে হবে, এবং তার স্বাক্ষর নিতে হবে। স্থানে পিতা-মাতা স্বামী স্ত্রীর এন আই ডি নাম্বার ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ তাদের এনআইডি নাম্বার ফর্মটির প্রথম পাতায় লেখা থাকবে। ফর্মটির ৪০ নং ক্রমিকে কারীর নাম লিখতে হবে। তবে যাচাইকারী অবশ্যই একজন জনপ্রতিনিধি হতে হবে। যেমন চেয়ারম্যান মেম্বার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইত্যাদি। যাচাইকারীর নামের স্থানে সাধারণ কোন ব্যক্তির নাম লিখলে আপনার ভোটার ফর্মটি বাতিল হয়ে যেতে পারে।৪১ নং ক্রমিকে যাচাইকারীর এনআইডি নাম্বার লিখতে হবে এবং ৪২ নং ক্রমিকে যাচাইকারীর স্বাক্ষর থাকবে এবং অবশ্যই সিল ব্যবহার করবে।
নতুন ভোটার হতে কি কি লাগে?
-অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক।
-এস সি পরীক্ষার সনদ। প্রয়োজনে এসএসসি পরীক্ষার সনদের সাথে সর্বশেষ পরীক্ষার সনদটীও দেয়া যেতে পারে। যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই  তাদের কোন সনদ দেয়ার প্রয়োজন নেই।
- পিতা মাতার এনআইডি কপি।
-বিবাহিত হলে স্বামী স্ত্রী এনআইডি কার্ডের কপি এবং কাবিননামা।
-রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার রিপোর্ট তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়।
-চেয়ারম্যান মেম্বার বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর এর প্রত্যয়ন পত্র।
-নাগরিকত্বের সনদ এটি বাধ্যতামূলক।
-বিদ্যুৎ বিল পানির বিল গ্যাস বিলের কপি।
-ট্যাক্স রশিদ পৌর করের রশিদ বাড়ি ভাড়ার রশিদ।
-আপনার পাসপোর্ট এর কপি।
-ড্রাইভিং লাইসেন্স এর কপি।
এগুলোর মধ্যে যেগুলো কাগজপত্র দরকার সেগুলো আপনি জমা দিবেন এছাড়াও নির্বাচন কমিশন অফিসার যদি কোন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলে তাহলে সে কাগজপত্র জমা দিবেন। সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসার আপনার আবেদনটি অনুমোদন করার পর আপনার ছবি স্বাক্ষর এবং ১০ আঙ্গুলের ছাপ এবং আপনার চোখের আইরিস স্ক্যান করে নিতে হবে। আবেদনের নিচের অংশ কেটে আপনাকে দেয়া হবে এটি হলো আপনার ভোটার নিবন্ধন স্লিপ। ভোটার নিবন্ধন স্লিপ প্রত্যেক নাগরিকের সংরক্ষণে রাখা উচিত অনেকে এটা হারিয়ে ফেলেন এবং পরে নানারকমের ভোগান্তিতে পড়ে থাকেন। আইডি কার্ড নাম্বার এবং নতুন ভোটার আইডি কার্ড তোলার জন্য এই ভোটার স্লিপটির প্রয়োজন হয়। আবেদনকারীর ছবি তোলার পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে আপনার মোবাইলের মেসেজ এর মাধ্যমে আপনার এনআইডি নাম্বার প্রদান করে দেয়া হবে আপনার ভোটার আইডি নাম্বার পাঠানো হবে। কোনো কারণে আপনার মোবাইলে মেসেজ না যায় তবে আপনার সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।এনআইডি নম্বর বা ভোটার আইডি কার্ডের নম্বর পাওয়ার পর অনলাইনে ভোটারদের এন আই ডি কার্ড ডাউনলোড করা যায়। ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে লেমিনেটিং করে রাখতে পারেন তবে সব সময় যে কোন কাজে আপনি এটি ব্যবহার করতে পারবেন। নতুন ভোটারদের স্মার্ট কার্ড আসলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস থেকে  প্রদান  করা হবে।এই পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করে আপনি সহজেই নতুন ভোটার হতে পারবেন ‌‌। যদি কোন কারনে হালনাগাদ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে না পারেন তবে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে যেয়ে আবেদন করে আপনি ভোটার হতে পারবেন। আপনাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যেতে হবে কারণ সব সময় ভোটার আইডি হালনাগাদ এর কাজ করা হয়ে থাকে না অন্য সময় গেলে আপনি ভোটের নাম্বারের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
আর্টিকেল সম্পর্কিত প্রশ্ন - উত্তর
১. প্রশ্ন: পুরাতন আইডি কার্ডের তথ্য জানা কি সম্ভব?
উওরঃ হ্যাঁ অবশ্যই কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করলে পুরাতন আইডি কার্ডের তথ্য জানা সম্ভব।এর সাথে সাথে পুরাতন আইডি কার্ড এর অনলাইন কপি এ পাওয়া সম্ভব।
২. প্রশ্নঃপুরাতন আইডি কার্ডের তথ্য কি অনলাইন কপি পাওয়া সম্ভব?
উওর: হ্যাঁ সকল তথ্য অনলাইনের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব।
৩. প্রশ্নঃ ফোনের মাধ্যমে কি আইডি কার্ডের তথ্য জানা সম্ভব?
উওর: হ্যাঁ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আইডি কার্ডের তথ্য জানা সম্ভব খুব ই অল্প সময়ে এবং কিছু পদ্ধতি মেনে কাজ গুলো করলেই।
৪.প্রশ্নঃ নিবন্ধন স্লিপ কি প্রয়োজনীয়? 
উত্তরঃ হ্যাঁ।  নিবন্ধন স্লিপ অবশ্যই অনেক প্রয়োজনীয়। পরবর্তীতে অনেক কাজে এটির দরকার হয়।
৫.প্রশ্নঃভোটার নাম্বার পেতে কতদিন সময় লাগে?
উত্তরঃ অনেক সময় ৫/৭ দিনের মধ্যেও ভোটার নাম্বার পাওয়া যায় মোবাইল ফোনে এসএমএস এর মাধ্যমে।
৬. প্রশ্নঃভোটার হতে কত বয়স লাগে?
উত্তরঃ১৮ বছর হলে ভোট দেয়া যায়। তবে জন্মতারিখ ১.১.২০০৪ এর মধ্যে হলে আইডি কার্ড এর জন্য আবেদন করা যায়।

লেখকের মন্তব্য

এই আর্টিকেল টি তে সাধারণত ভোটার আইডি কার্ড চেক সম্পর্কিত আমরা সকলেই জানি একটি দেশের নাগরিক হিসেবে ভোটার আইডি কার্ড কতটা গুরুত্বপূর্ণ আমাদের দেশে ১৮ বছর হলেই সকল ছেলে-মেয়ে ভোটার আইডি কার্ডের জন্য নিবন্ধন করতে পারে ভোটার আইডি কার্ড আগে হতে অনেক সময় লেগে যেত তবে এখন নানা রকম ভাবে ভোটার আইডি কার্ড সরকার বেশ তাড়াতাড়ি নতুন ভোটারদের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়েছে তাই আমরা এখন ভোটার আইডি কার্ড কে স্মার্ট কার্ড হিসেবেও হাতে পাচ্ছি কিছু বছর আগেও ভোটার কার্ড সম্পর্কিত তথ্য জানতে আমাদেরকে অনেক ঝামেলায় পড়তে হতো বা প্রায় সময়ই প্রয়োজনের সময় ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য জানার জন্য আমাদের কে নির্বাচন কমিশন অফিসে দৌড়াদৌড়ি করতে হতো এতে করে আমাদের যেমন সময়ের অপচয় হতো তার সাথে সাথে আমরা ধৈর্য হারিয়ে ফেলতাম। তবে বাংলাদেশ সরকারের বেশ কিছু নতুন নিয়ম কানুন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নতির ফলে আমরা এখন ঘরে বসেই আমাদের হাতের কাছে থাকা কম্পিউটার ল্যাপটপ এমন কি মোবাইল ফোন দিয়েও অল্প সময়ের মধ্যেই ভোটার আইডি কার্ড চেক বা ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য সহ সকল বিষয় জানতে পারছি এমনকি আমরা কোন অফিস কিংবা দোকানের না যেও ইন্টারনেটে এবং মোবাইল ব্যবহার করেও ছবিসহ আমাদের ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি পেয়ে যাচ্ছি এবং তা ডাউনলোড করতে পারছি প্রয়োজনের সময় আমাদের আর কোন ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না। নতুন আইডি কার্ডের সাথে পুরাতন আইডি কার্ডও আমরা অনলাইনের মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি। এই আর্টিকেলটিতে নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম ছবিসহ ভোটার আইডি কার্ড দেখা মোবাইলের মাধ্যমে ভোটার আইডি কার্ড চেক করা এছাড়াও ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করা আইডি কার্ড চেক সহ ভোটার আইডি কার্ডের নানারকম তথ্য সম্পর্কিত বিষয় বলা হয়েছে। আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লে আপনারা আইডি কার্ড সম্পর্কিত নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং আপনারা ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে সহজ উপায়ে স্বল্প সময়ে নানারকম সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?