ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নবাব সলিমুল্লাহর ৬০০ একর জমিদানের কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহর অবদান নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তার “৬০০ একর জমিদান” প্রসঙ্গ উঠতেই শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। পরে বিষয়টির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণাও দেওয়া হয়।
জনশ্রুতি রয়েছে, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ৬০০ একর জমি দান করেছিলেন। তবে ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা বলছেন, এই দাবির পক্ষে এখনো পর্যন্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায় নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নবাব পরিবারের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের অবদানকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।
২০২৪ সালের ২৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ৬০০ একর জমিদানের মাধ্যমে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন ঢাকার নবাব বাহাদুর স্যার খাজা সলিমুল্লাহ।” এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেন সিনেট সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছির। তিনি বলেন, নবাব সলিমুল্লাহ ১৯১৫ সালে মারা যান এবং তখন তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন। ফলে ৬০০ একর জমি দানের বিষয়টি ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত নয়।
অধ্যাপক বাছির আরও বলেন, “ইতিহাস উৎসনির্ভর। নির্ভরযোগ্য দলিল ছাড়া কোনো বিষয়কে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। আমি এমন কোনো প্রমাণ পাইনি যে নবাব সলিমুল্লাহ সরাসরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ৬০০ একর জমি দান করেছিলেন।”
তথ্য অনুযায়ী, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও তার ছয় বছর আগেই ১৯১৫ সালে মারা যান নবাব সলিমুল্লাহ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকার প্রমাণ বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে পাওয়া যায়।
জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের আলাপচারিতাভিত্তিক গ্রন্থে উল্লেখ আছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি মূলত সরকারি খাসজমি ছিল। সেখানে বলা হয়, “রমনায় যে জায়গায় ঢাকা ইউনিভার্সিটি, তা পুরোটাই খাসমহল এবং সরকারের জমি।”
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ছিদ্দিকুর রহমান খানও বলেন, “৬০০ একর জমি দানের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কলকাতা কমিশন রিপোর্টসহ বিভিন্ন দলিল ঘেঁটেও এ তথ্য মেলেনি।” তবে তিনি একইসঙ্গে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নবাব সলিমুল্লাহর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

The DU Speech-এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন, প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়
comment url