ঢাবিতে ছাত্রলীগ পুনর্গঠনের অভিযোগ, ‘অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা’ দাবি ছাত্রদল নেতার

 


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পুনরায় সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এক নেতা। তার দাবি, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল ও সংগঠনের ভেতরে নতুন করে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ ডাকসুকে কেন্দ্র করে একটি বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান নিজের ফেসবুক পোস্টে এ অভিযোগ করেন। পোস্টে তিনি দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রকাশ্যে না আসা এবং বিভিন্ন অনুষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে। পাশাপাশি নতুন সদস্যও যুক্ত করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।


মাহমুদুল হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে সূর্যসেন হল ও সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড় একটি গ্রুপ গড়ে উঠেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই গ্রুপের সদস্যরা নাকি সরাসরি ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মাজহারুল কবির শয়নের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে।


এছাড়া গত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের অর্থায়নে অংশ নেওয়া হল সংসদের শতাধিক শিক্ষার্থীর তালিকা তাদের হাতে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে পরবর্তী ডাকসুকে সামনে রেখে এসব শিক্ষার্থী পুনরায় সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।


ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছাত্রদল, বামঘরানা সংগঠন ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনে প্রবেশের চেষ্টা চালায় ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট অনেকে। কেউ কেউ বিভিন্ন সংগঠনে ঢুকে পরে আবার বের হয়ে গেছে বলেও দাবি করা হয়। এমনকি কিছু শিক্ষার্থীর নামও এসেছে যারা হল সংসদ নির্বাচনে শিবিরপন্থী হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ করা হয়।


ক্যাম্পাস ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত আড্ডা ও গোপন বৈঠক হচ্ছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন মাহমুদুল হাসান। তার ভাষায়, “সামনে যেকোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার পরিকল্পনায় তারা সরব।”


তিনি আরও দাবি করেন, বয়কটের মুখে পড়া বা হল থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন কিছু শিক্ষার্থী এখনও বিভিন্নভাবে হলে অবস্থান করছে এবং নিয়মিত ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করছে। তাদের মধ্যে অনেকেই অতীতে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের অর্থায়নে অংশ নিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


একই পোস্টে “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (১)” নামের একটি ফেসবুক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়। মাহমুদুল হাসানের দাবি, আরাফাত নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে গ্রুপটি বর্তমানে পুরোপুরি ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং ভবিষ্যতে অনলাইন প্রপাগান্ডা ছড়ানোর জন্য এটি ব্যবহার করা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গোলাম রাব্বানীসহ কয়েকজন ওই গ্রুপে পোস্ট করা শুরু করেছেন।


তবে মাহমুদুল হাসানের এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাইও করা সম্ভব হয়নি।


পোস্টের শেষাংশে ছাত্রদল নেতা দাবি করেন, “এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।”

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

The DU Speech-এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন, প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url