ঢাবি স্টুডেন্ট পরিচয়ে মেয়েদের আপত্তিকর মেসেজ ও হুমকি চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সুব্রত চন্দ্র সরকারের অতঃপর মুচলেকায় মুক্তি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে অনলাইনে ধর্ষণের হুমকি (রেপ থ্রেট) দেওয়ার অভিযোগে আটক হওয়া ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন বলে জানিয়েছে জগন্নাথ হল সংসদ। অভিযুক্ত ব্যক্তি চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় খাতার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
জগন্নাথ হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক কথক বিশ্বাস জয় এক বিবৃতিতে জানান, গতকাল এক নারী শিক্ষার্থী ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ-২’ ফেসবুক গ্রুপে তাকে রেপ থ্রেট দেওয়ার অভিযোগ উত্থাপন করেন। অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিতেন। অভিযোগ পাওয়ার পর জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীরা তাকে শনাক্ত করে প্রক্টোরিয়াল টিমের কাছে সোপর্দ করেন।
জানা যায়, অভিযুক্ত সুব্রত চন্দ্র দাস দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে যাতায়াত করতেন। খাতার ব্যবসার সূত্রে ক্যাম্পাসে নিয়মিত উপস্থিত থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
হল সংসদের দাবি, অভিযুক্তের মোবাইল ফোন যাচাই করে অসংখ্য নারী শিক্ষার্থীর তথ্য সংরক্ষণ, আপত্তিকর ছবি প্রদর্শন, বিভিন্ন ধরনের হুমকি এবং দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন হয়রানির প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে তথ্যগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সেগুলো প্রকাশ করা হয়নি। সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ প্রক্টোরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে অভিযুক্তের ফোন থেকে সংশ্লিষ্ট তথ্য মুছে ফেলা হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে হল সংসদ অভিযোগ করেছে, ব্যবসায়িক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্যাম্পাসের একটি ফটোকপির দোকান থেকে নারী শিক্ষার্থীদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর সংগ্রহ করতেন। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে তাদের উত্যক্ত, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করতেন।
ঘটনার পর বিষয়টি প্রক্টোরিয়াল টিমকে জানানো হলে তারা অভিযুক্তকে নিয়ে রমনা থানায় যায়। থানা সূত্রে মামলা করার সুযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করেন। এরপর দুইজন সহকারী প্রক্টরের উপস্থিতিতে অভিযুক্তের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আর না ফেরার শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় জগন্নাথ হল সংসদ প্রশাসনিক ও আইনগত কাঠামোর সীমাবদ্ধতার বিষয়টি সামনে এনেছে। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার হয়রানি, অনলাইন হুমকি এবং ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুস্পষ্ট প্রটোকল এখনো গড়ে ওঠেনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও যোগাযোগের তথ্য সুরক্ষায় কার্যকর নীতিমালারও অভাব রয়েছে।
জগন্নাথ হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক কথক বিশ্বাস জয় বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর নীতিমালা ও মনিটরিং ব্যবস্থা প্রণয়ন জরুরি। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করে যাব।”
ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং নারী শিক্ষার্থীদের অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।





The DU Speech-এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন, প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়
comment url