পাহাড়ে ধর্ষণের প্রতিবাদে আন্দোলনেও বাধা, ‘শাসকগোষ্ঠী ধর্ষণের পক্ষ নেয়’—ক্ষোভ ডাকসু সদস্য হেমা চাকমার



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

পাহাড়ে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনাগুলোর বিচার ও প্রতিবাদ ঘিরে রাষ্ট্রীয় আচরণের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, সমতলে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদকে আন্দোলন হিসেবে দেখা হলেও পাহাড়ে একই ধরনের প্রতিবাদকে ভিন্নভাবে বিবেচনা করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পড়তে হয়।

সোমবার দেওয়া ওই পোস্টে হেমা চাকমা পাহাড়ে সংঘটিত একাধিক আলোচিত ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, যখন দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের ঘটনায় মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নামে, তখন তার মনে পড়ে কৃত্তিকা ত্রিপুরা পূর্ণা-র কথা। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যাওয়ার পথে নয় মাইল এলাকায় বসবাসকারী ওই শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংস নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

একই সঙ্গে চিংমাসহ পাহাড়ের আরও বহু নারীর ওপর সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাও স্মরণ করেন হেমা চাকমা। তার দাবি, এসব ঘটনার বিচার ও প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে পাহাড়ে বারবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি গত কয়েক মাস আগে খাগড়াছড়ির রামসুর বাজার এলাকায় সংঘটিত সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে সেখানে ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। তার ভাষ্য, পাহাড়ে ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গেলেই অনেক সময় আন্দোলনকারীদের পরিবর্তে অন্য শক্তিগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে।

সাম্প্রতিক সময়ে থানচি উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনাও পোস্টে তুলে ধরেন তিনি। হেমা চাকমার অভিযোগ, এ ঘটনার বিচার দাবিতে আন্দোলনরত জনতাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সমতলে আন্দোলন হলে সেটা আন্দোলন, পাহাড়ে হলে সেটা যতই যৌক্তিক হোক, কেমন যেন অন্য কিছু হয়ে যায়।”

রাষ্ট্র ও নাগরিকদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক সংঘাতপূর্ণ নয়, বরং সহযোগিতামূলক হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে পাহাড়ে ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা প্রায়ই ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন বলে তার মন্তব্য।

পোস্টের শেষাংশে হতাশা প্রকাশ করে হেমা চাকমা লিখেছেন, “আমি জানি কোনো কিছুর বিচার হবে না, তবুও বিচার চাই।”

তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পাহাড়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলোর দ্রুত তদন্ত, অপরাধীদের শাস্তি এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অনেকেই। তবে হেমা চাকমার উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

The DU Speech-এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন, প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url