পরীক্ষার হলে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট: ঢাবি মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষককে ঘিরে প্রশ্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মার্কেটিং বিভাগের একটি পরীক্ষার হলে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে পরীক্ষা পরিচালনার নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলা নিয়ে।
সম্প্রতি মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক রিয়াজ হাফিজ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি জানান, শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর প্রথমবারের মতো পরীক্ষার হলে পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময় পরীক্ষার হলের ভেতরে দাঁড়িয়ে তোলা নিজের একাধিক ছবিও তিনি পোস্ট করেন। ছবিগুলোতে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে দেখা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের একাংশের দাবি, পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং ছবি তোলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত পরীক্ষানীতির পরিপন্থী। তাদের মতে, পরীক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এমন কর্মকাণ্ড নিরুৎসাহিত করা হয়। ফলে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্তৃক পরীক্ষার হলের ভেতরে ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা কতটা বিধিসম্মত, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে রিয়াজ হাফিজ পরীক্ষার স্মৃতিচারণ করে সহপাঠী ও বন্ধুদের কথা উল্লেখ করেন এবং শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন। তবে পোস্টে ব্যবহৃত ছবিগুলো পরীক্ষা চলাকালে তোলা হওয়ায় সেটি সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সংক্রান্ত বিধিমালায় পরীক্ষা চলাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কী ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও তা সমানভাবে প্রযোজ্য কি না—সে প্রশ্ন সামনে এসেছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশের বক্তব্য, যদি পরীক্ষার্থীদের জন্য মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ থাকে, তাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বা পরিদর্শকদের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা উচিত।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক কিংবা মার্কেটিং বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
শিক্ষাঙ্গনে পরীক্ষা পরিচালনার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিদ্যমান নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে পরীক্ষার হলে ছবি তোলা ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

The DU Speech-এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন, প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়
comment url