ঈদ উপলক্ষে ট্রেনে নতুন ‘অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস’ চালু— মানব ওয়াল পাড়ি দিয়ে সিটে বসা!



ঢাকা প্রতিনিধি : 

বিকেল ৫টা বাজলেই কমলাপুর স্টেশনে এক অদ্ভুত যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে। আন্তঃনগর চিলাহাটি এক্সপ্রেস প্ল্যাটফর্মে ভেড়ামাত্রই শুরু হয় এক মহাকাব্যিক লড়াই। এই লড়াইয়ে যাত্রীদের মূল লক্ষ্য সিটে বসা নয়, বরং ট্রেনের দরজার ‘দুর্ভেদ্য প্রাচীর’ ভেদ করে কোনোমতে ভেতরে ঢোকা! আর সৌভাগ্যক্রমে যদি ভেতরে ঢোকা যায়, তবে করিডোর পার হয়ে নিজের সিট পর্যন্ত পৌঁছানোটা হয়ে দাঁড়ায় মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের চেয়েও কঠিন।


দরজায় ‘সুইজারল্যান্ডের ভিসা’ পাওয়ার চেয়েও কঠিন লড়াই

যারা অনলাইনে যুদ্ধ করে টিকিট কেটেছেন, তারা বুক ফুলিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন আগে থেকেই বিনা টিকিটের যাত্রীদের এমন এক জমাটবদ্ধ দেয়াল তৈরি হয়ে আছে যে, ভেতরে ঢোকা তো দূরের কথা, একটা সুঁই গলানোরও জায়গা নেই!


দরজার হাতল ধরে ঝুলে থাকা এক ক্লান্ত যাত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানান, "ভাই, ট্রেনের ভেতরে ঢোকার চেয়ে এখন সুইজারল্যান্ডের ভিসা পাওয়া সোজা মনে হচ্ছে! পকেটে থাকা টিকিটটা আমাকে বসার অধিকার দেয়নি, কেবল দরজার হাতল ধরে ঝুলে থাকার ‘আইনি বৈধতা’ দিয়েছে।"


করিডোর নাকি ‘মানব-পাচিল


ধরা যাক, আপনি অসীম শক্তিবলে ধাক্কাধাক্কি করে ট্রেনের বগিতে ঢুকে পড়লেন। ভেবেছিলেন ঈশ্বরদী বা রাজশাহীর দীর্ঘ পথটা অন্তত শোভন চেয়ার বা স্নিগ্ধার সিটে বসে আরাম করে যাবেন। কিন্তু ভেতরে পা রেখেই বুঝবেন, করিডোর বলে কোনো ফাঁকা জায়গা নেই, পুরোটাই এক নিরেট ‘মানব-পাচিল’!


সিট নম্বর ৪৫-এর এক বৈধ যাত্রী বগির একপ্রান্তে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছেন, আর তার সিটটা বগির ঠিক মাঝখানে। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, "আমার আর আমার সিটের মাঝে এখন অন্তত ৫০ জন মানুষের এক দুর্ভেদ্য গ্যালাক্সি। আমি এখান থেকেই করুণ চোখে আমার সিটের দিকে তাকিয়ে আছি, খালি সিটটাও হয়তো আমার দিকে তাকিয়ে কাঁদছে, কিন্তু আমাদের মিলন অসম্ভব! মাঝখানের এই মানব-সমুদ্র পার হওয়ার চেয়ে সাঁতরে বঙ্গোপসাগর পার হওয়া সহজ।"


চিলাহাটি এক্সপ্রেসের নতুন অলিখিত নিয়মাবলি


অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে এই ট্রেনে এখন কিছু নতুন নিয়ম চালু হয়েছে বলে নেটিজেনরা দাবি করছেন:


* **টেলিপ্যাথিক সিটিং: ভিড় ঠেলে সিট পর্যন্ত যেতে না পারলে, দূর থেকেই নিজের সিটের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বসে পড়ার তীব্র অনুভূতি নিতে হবে।

* **লাগেজ রিলে রেস: নিজের ব্যাগ হাতে নিয়ে করিডোর পার হওয়া অসম্ভব। তাই মানুষের মাথার ওপর দিয়ে ব্যাগটাকে ‘রিলে রেস’-এর মতো এক হাত থেকে অন্য হাতে পাস করে সিটের দিকে পাঠাতে হয়।

* **‘স্ট্যান্ডিং বকাসন’ যোগব্যায়াম: করিডোরে দুই পা ফেলার জায়গা নেই। তাই যাত্রীদের বাধ্য হয়ে এক পায়ে দাঁড়িয়ে ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা একে ভ্রমণের পাশাপাশি বিনামূল্যে ‘যোগব্যায়াম’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।


শেষ কথা:  

ট্রেনটি বিপুলসংখ্যক মানুষ, ঘাম ও দীর্ঘশ্বাস নিয়ে গন্তব্যের দিকে ছুটছে। টিকিটধারী যে যাত্রীরা করিডোরের ভিড়ে আটকে আছেন, তারা সান্ত্বনা খুঁজছেন এই ভেবে যে—যাক, অন্তত ট্রেনের ভেতরে তো উঠতে পেরেছি! সিটে বসাটা হয়তো এই জন্মে আর হলো না, তবে এই ‘করিডোর অ্যাডভেঞ্চার’ নিশ্চিতভাবেই তাদের সারাজীবন মনে থাকবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

The DU Speech-এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন, প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url