‎দরজায় ঢাউস তালা, জানালায় 'স্বাগতম': ঢাবি রসায়ন বিভাগের নতুন 'নিরাপত্তা ফর্মুলা' আবিষ্কার!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্পেশাল প্রতিনিধি
‎রসায়ন মানেই নতুন নতুন উপাদানের মিশ্রণ আর যুগান্তকারী সব আবিষ্কার। তবে এবার কোনো ল্যাবরেটরিতে নয়, বরং ভবনের নিরাপত্তায় এক অভাবনীয় 'ফর্মুলা' আবিষ্কার করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ! তাদের এই নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে— "ওপেন উইন্ডো পলিসি উইথ কলাপসিবল গেট প্রটেকশন"



‎ঘটনার বিস্তারিত:
‎সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রসায়ন বিভাগের ঐতিহ্যবাহী লাল ইটের ভবনের প্রবেশদ্বারে কলাপসিবল গেট টেনে এমনভাবে তালা মারা হয়েছে, যেন ভেতরে কোহিনূর হীরা লুকানো আছে। অথচ ঠিক তার পাশেই খিলান আকৃতির বিশাল জানালাটি একেবারে হাঁ করে খোলা!

‎দূর থেকে দেখলে মনে হবে, দরজাটি যেন কড়া গলায় ধমক দিয়ে বলছে, "নো এন্ট্রি!" আর পাশের জানালাটি মিষ্টি হেসে বলছে, "আরে ভাই, দরজা দিয়ে ঢুকে কষ্ট করার কী দরকার, আসুন এই দিক দিয়ে সোজা ভেতরে ঢুকে পড়ুন!"

‎বিশেষজ্ঞদের মতামত:
‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বঘোষিত নিরাপত্তা বিশ্লেষক (যিনি মূলত কার্জন হলের বারান্দায় বসে চা খান) এই ছবি দেখে বলেন, "এটি আসলে একটি সাইকোলজিক্যাল গেম। চোর যখন দেখবে দরজায় এত বড় কলাপসিবল গেট আর তালা, সে ভাববে ভেতরে ঢোকা অসম্ভব। এরপর সে হতাশ হয়ে ফিরে যাবে। খোলা জানালাটি যে আসলে ভেতরে যাওয়ার রাস্তা, তা চোরের মাথাতেই আসবে না! চোরদের বোকা বানানোর এর চেয়ে বৈজ্ঞানিক উপায় আর হতেই পারে না।"

‎শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া:
‎এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। এক শিক্ষার্থী হেসে কুটিকুটি হয়ে বলেন, "স্যাররা আমাদের ক্লাসের পড়া বাস্তবে শেখাচ্ছেন। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যেমন 'অ্যাক্টিভেশন এনার্জি' বেশি হলে অনুঘটক (Catalyst) দিয়ে বিকল্প সহজ রাস্তা তৈরি করতে হয়, এখানেও তা-ই। দরজার তালা হলো হাই এনার্জি ব্যারিয়ার, আর খোলা জানালা হলো বিক্রিয়া ঘটার সহজ শর্টকাট! রসায়নের এমন বাস্তব প্রয়োগ আমি জীবনেও দেখিনি!"

‎চোর সমিতির আনন্দ মিছিল
‎এদিকে, জানালা খোলা রেখে দরজায় তালা দেওয়ার এই ছবি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় 'রাতের অতিথি' বা চোর সমিতির পক্ষ থেকে রসায়ন বিভাগকে বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। তাদের এক কাল্পনিক মুখপাত্র জানান, "আগে তালা ভাঙতে গিয়ে আমাদের অনেক ঘাম ঝরাতে হতো, কখনো কখনো হাতুড়িপেটা করে শব্দদূষণও হতো। রসায়ন বিভাগ পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। এখন আমরা বিনা বাধায়, সসম্মানে জানালা দিয়ে ঢুকতে পারব।"

‎সব মিলিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের এই অভিনব 'নিরাপত্তা বিক্রিয়া' এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসির খোরাক জোগাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, এমন রসিক রসায়নবিদদের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার না দেওয়াটা হবে চরম অন্যায়!


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

The DU Speech-এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন, প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url