The DU Speech https://www.duspeech.com/2022/09/national-id-card-collection.html

অনলাইন থেকে আপনার আইডি কার্ড সংগ্রহ করুন

একটি দেশের জনগণের পরিচয় বহন করে থাকে তার ভোটার আইডি কার্ড। অনলাইন থেকে আপনার ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করুন আর্টিকেল টি তে আইডি কার্ড নিয়েই লেখা হয়েছে।ভোটার আইডি কার্ড ছাড়া একটি নির্দিষ্ট বয়সে অবতীর্ণ করার পর কোন নাগরিককে দেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয় না। অনলাইন থেকে আপনার ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করুন আর্টিকেল এ ভোটার আইডি কার্ড,দেশের নাগরিকত্ব ইত্যাদি নিয়ে তথ্য প্রদান করা হয়েছে।অনলাইন থেকে আপনার আইডি কার্ড সংগ্রহ করুন সহজেই।


 অনুচ্ছেদ সুচি (যে অংশ পড়তে চান তার উপর ক্লিক করুন)

  1. আইডি কার্ড চেক করুন অনলাইনে
  2. হারানো আইডি কার্ড বের করার নিয়ম
  3. ভোটার নিবন্ধন ফরমের স্লিপ হারিয়ে গেলে করনীয় 
  4. ভোটার আইডি কার্ড এ জন্মতারিখ সংশোধন 

১.আইডি কার্ড চেক করুন অনলাইনে।অনলাইন থেকে আপনার আইডি কার্ড সংগ্রহ করুন

খুবই সহজ উপায়ে আপনি আপনার আইডি কার্ড অনলাইনে দেখতে পারবেন। এখন আর আইডি কার্ড দেখা বা চেক করার জন্য কোন ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না । এমনকি দোকানে যেতে হচ্ছে না। কোন দোকান কোন নির্বাচন কমিশন অফিসে যাওয়া ছাড়াই ঘরে বসে খুব অল্প সময়ে সহজ কিছু উপায় অবলম্বন করেই আপনার আইডি কার্ড অনলাইনে দেখুন ।আইডি কার্ড অনলাইনে দেখার বেশ কিছু পদ্ধতি রয়েছে সেই পদ্ধতি গুলো সম্পর্কে আমরা আপনাদেরকে জানাবো। আপনারা যদি সহজ পদ্ধতি গুলো অবলম্বন করেন তবে খুব সহজেই আপনার আইডি কার্ড আপনারা অনলাইন থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।আইডি কার্ড চেক করা আমাদের বর্তমানে অনেকের প্রয়োজন হয় ।আইডি কার্ড চেক বা পরিচয় পত্র প্রায় আমাদের প্রত্যেকের দৈনন্দিন জীবনে ই বিভিন্ন কাজে বিভিন্ন সময় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আপনাদের আইডি কার্ড চেক করার প্রয়োজন পড়ে যখন আপনারা ভোটার আইডি কার্ডের জন্য নতুন আবেদন করে থাকেন এবং আইডি কার্ডের জন্য ছবি এবং আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার পর দেখে থাকেন যে আপনাদের জাতীয় পরিচয় পত্র অনলাইনে এখনো এসেছে কি না।এছাড়া আর ও বিভিন্ন প্রয়োজনে আপনার আইডি কার্ড অনলাইনে চেক করার প্রয়োজন পড়তে পারে ।এছাড়া ও দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন সময় অনলাইনে আইডি কার্ড দেখার প্রয়োজন পড়ে। পাসপোর্ট বানানোর সময় ,কোন অফিসিয়াল কাজ করার সময় ,নিজের পরিচয় কাউকে দেয়ার সময়, নিজের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সঠিক ভাবে জানার সময় অনলাইনে আইডি কার্ড চেক করার দরকার হয়। এই আরটিকেল টিতে জানানো হবে কিভাবে খুব সহজেই আইডি কার্ড চেক করবেন যেখানে আপনার ছবিসহ বিভিন্ন ভোটার তথ্য থাকবে ।বর্তমানে আইডি কার্ড চেক করা যায় প্রায় অনেক ভাবে ,তবে এই আর্টিকেল টিতে কিভাবে সহজ এবং নতুন পদ্ধতি তে ভোটার আইডি কার্ড চেক করবেন সেই সম্পর্কে বলা হবে।

আপনার আইডি কার্ড চেক করুন অনলাইনে ।আপনার আইডি কার্ড সংগ্রহ করুন অনলাইনে ।আপনার আইডি কার্ড অনলাইনে সংগ্রহ করার জন্য প্রথম ধাপ হল, আপনাকে আপনার মোবাইলের যেকোনো একটি ব্রাউজার ওপেন করতে হবে এবং ব্রাউজার ওপেন করার পর গুগল এ আপনাকে সার্চ করতে হবে একটি লিংক । লিংক টি হলো land.gov.bd.তারপর আপনাদের সামনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিসের ওয়েবসাইট চলে আসবে ।আপনারা আপনাদের আইডি কার্ড অনলাইনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই সরকারি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কিভাবে চেক করবেন সেটি এই অংশে জানানো হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পরে আপনারা এক পেজে একটু নিচের দিকে যাবেন এবং দেখবেন সেখানে নাগরিক কর্নার নামে একটি অপশন রয়েছে আপনারা সেই নাগরিক কর্নার নামের অপশনটিতে ক্লিক করবেন। আপনার আইডি কার্ড অনলাইনে দেখার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পরে নিচের দিকে নাগরিক কর্নারে ক্লিক করার পর আপনারা ভূমি উন্নয়ন কর নামে আরেকটি অপশন দেখতে পাবেন এবং আপনাদের সেই ভূমি উন্নয়নকর নামের অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে।

ভুমি উন্নয়ন করের অপশনে ক্লিক করার পর আপনারা দেখবেন আরেকটি পেইজ চলে আসছে যেই পেজের আরেকটি অপশন হল নাগরিক কর্নার আপনারা সেই নাগরিক কর্নার অপশনে ক্লিক করবেন। নাগরিক কর্নার অপশনে ক্লিক করার পরে আপনাদের সামনে আইডি কার্ড চেক করার একটি ফরম আসবে এরপর আপনাকে নাগরিক নিবন্ধন অপশন নামে একটি অপশন সিলেক্ট করতে হবে। নাগরিক নিবন্ধন নামের অপশনটি সিলেক্ট করার পরে আপনি দেখতে পারবেন আপনার মোবাইল নাম্বার জন্ম তারিখ জাতীয় পরিচয় নম্বর দেয়ার জন্য অপশন থাকবে। পর আপনি যে কোন একটি মোবাইল নাম্বার এবং আপনার আইডি কার্ডের নাম্বার যেই ১৭ বা ৯ ডিজিটের নাম্বার রয়েছে সেই নাম্বার দেবেন এবং তার ঠিক নিজেই আপনার জন্ম তারিখ আপনার ভোটার আইডি কার্ডে যেভাবে দিয়েছিলেন ঠিক সেই ভাবেই দিবেন। তার নিচে আপনার জন্ম তারিখ আপনার ভোটার আইডি কার্ড এ যেভাবে রয়েছে সেভাবে দিবেন এবং তার নিচে আপনি পরবর্তী পদক্ষেপ লেখা একটি আপনারা দেখতে পারবেন এবং সে পরবর্তী পথে আপনি ক্লিক করবেন। এরপরে দেখবেন আপনার আইডি কার্ডের তথ্য চলে এসেছে। আইডি কার্ডে আপনি আপনার আইডি কার্ডের ছবিটি অনেক ভালোভাবে দেখতে পারবেন আপনার যদি কোথাও আপনার ছবি সহ তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন হয় তখন আপনি আপনার এই আইডি কার্ড টি অনলাইনের মাধ্যমে সংগ্রহ করে তথ্য দিতে পারবেন।

২.হারানো আইডি কার্ড বের করার নিয়ম ।অনলাইন থেকে আপনার আইডি কার্ড সংগ্রহ করুন

অনেক সময় অনেক ভাবে আপনাদের এন আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র হারিয়ে যেতে পারে , কিংবা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে তা উত্তোলন করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ।কারণ এনআইডি কার্ড একজন নাগরিকের পরিচয় বহন করে এবং তা সংগ্রহে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।আইডি কার্ড উত্তোলনের বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে। এই অংশে আপনাদের জানাবো নষ্ট হয়ে যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়া আইডি কার্ড কি করে বের করবেন। হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়া আইডি কার্ড বের করার জন্য আপনাদের বেশ কিছু ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হবে। এই ডকুমেন্টস গুলো কাজে লাগিয়ে আপনারা খুব সহজে ই আপনাদের হারানো বা নষ্ট হয়ে যাওয়া আইডি কার্ড বের করে ,ডাউনলোড করে নিজের সংগ্রহে রাখতে পারবেন। তবে প্রথমেই আপনাদের জেনে নেয়া প্রয়োজন এনআইডি কার্ড বের করার জন্য আপনাদের কি কি ডকুমেন্টস এর দরকার হবে। 

আইডি কার্ড বের করার জন্য আপনাদের যে সকল ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হবে তা হল-

>আপনার আইডি কার্ডের পরিচয় ।

>পত্রের নাম্বার আপনার আইডি কার্ডের যে স্লিপটি রয়েছে সেই স্লিপ এর নাম্বার ।

>আপনার ভোটার নাম্বার।

>এবং আপনার বর্তমান ঠিকানার নির্দিষ্ট থানায় একটি জিডি করতে হবে।

ওপরে ডকুমেন্টস এর মধ্যে যে কোনো একটি এবং থানায় জিডি কপি এর সাথে আপনাকে অবশ্য ই আপনার জন্ম তারিখের প্রয়োজন হবে।মোবাইলের সিম নাম্বার দিয়ে ও আইডি কার্ডের তথ্য বের করা সম্ভব তবে এটি তুলনা মূলক একটু জটিল প্রক্রিয়া।আপনার আইডি কার্ড হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে গেলে আপনাকে প্রথমে ই আপনার নিকটস্থ থানায় একটি জিডি করতে হবে তারপরে আপনাকে সেই সাধারণ ডায়েরি রিসিভ কপি টা সংগ্রহ করে সাথে নিয়ে নিজে অথবা অন্য কারো সাহায্য নিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

কিভাবে থানায় আপনি জিডি করবেন সে সম্পর্কেও আমরা আপনাকে জানাবো।

প্রথমে আপনারা একটি সাদা কাগজে জিডি করবেন তারপর সেই জিডি তে আপনার স্বাক্ষর যুক্ত দুই টা কপি নিয়ে আপনার নিকটস্থ থানায় যাবেন এবং ডিউটি অফিসার কে সেটি দিবেন।এবং একটি কপি আপনার সাথে নিয়ে আসবেন ।সেই সাধারণ ডায়েরির ফরম টি তে যেন অবশ্য ই আপনার জিডি নম্বর শীল স্বাক্ষর ডিউটি রত অফিসারের নাম এবং জিডি করার তারিখ উল্লেখ থাকে।আপনার আইডি কার্ড টির জন্য কোন তথ্য প্রয়োজন নেই শুধুমাত্র আপনার জিডির কপি দিলে ই হবে । আপনার স্থানীয় নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে আপনার জিডির ফরম টি সত্যায়িত করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। তবে সত্যায়িত করতে না পারলে ও কোন সমস্যা হবে না।

আপনার আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে আপনাকে জিডি করার পর আপনাকে অনলাইনে আবেদন করে সেটি‌ রি ইস্যু করতে হবে।অনলাইনে নির্দিষ্ট লিংকে প্রবেশ করার পরে আপনাদের সামনে একটি পেজ আসবে।সেই পেজে আপনাকে আপনার জাতীয় পরিচয় নম্বর এবং জন্ম তারিখ সঠিক ভাবে এন্ট্রি করে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে।আপনার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পরে আপনার এন আইডি কার্ড পাওয়ার জন্য আপনাকে কিছু টাকা পেমেন্ট করতে হবে।আপনাকে ২৩০ টাকা পেমেন্ট করতে হবে।

এবারে জেনে নেয়া যাক আপনারা কিভাবে পেমেন্ট করবেন।

পেমেন্ট করার জন্য আপনার মোবাইল থেকে রকেট অ্যাপ টি আপনার চালু করতে হবে।তারপর বিল পে অপশনে ক্লিক করতে হবে।তারপর বিলের আইডি হিসেবে এক হাজার টাইপ করতে হবে তারপর আপনার এনআইডি নাম্বার লিখতে হবে।এবং কি কারনে আপনি পরিশোধ করছেন সেটি সিলেক্ট করে দিতে হবে ড্রপ ডাউন মেনু থেকে। তারপর আপনার মোবাইল নাম্বার লিখতে হবে।এরপর আপনি বিল পে সম্পূর্ণ করতে পারবেন।বিল পে সম্পূর্ণ হওয়ার পর আপনার নির্বাচন কমিশনের রেজিস্ট্রিকৃত একাউন্টে টাকা জমা হয়ে যাবে, এরপর আপনি আবেদন শুরু করতে পারবেন।

অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়ে গেলে রি ইস্যু অপশনের উপর ক্লিক করতে হবে।তারপরে যে পেজ টি আসবে সেই পেইজের ডান পাশে ওপরে একটি এডিট অপশন থাকবে। এবং আপনাকে সেই এডিট অপশনে ক্লিক করতে হবে। এবার স্থানীয় থানা থেকে ডায়েরী করা ফর্ম টির নাম্বার, থানার নাম, জিডি এর কপি এর তারিখ ,পুলিশ অফিসারের নাম, কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারের পদবী লিখে আপনাকে পেমেন্ট পরিশোধ করতে হবে ওপরে উল্লেখিত নিয়ম অনুযায়ী।সব তথ্য দেয়া শেষ হয়ে গেলে পরবর্তী নামক এক টি বাটন আসবে এবং আপনাকে সেই বাটন টি তে ক্লিক করতে হবে ।এরপরে যে টাকা ডিপোজিট করেছেন সেটা দেখাবে এবং অপশন রেগুলার রেখে পরবর্তী বাটনে আপনাকে ক্লিক করতে হবে। তারপর আপনার সাধারণ ডায়েরির কপি টি আপলোড করতে হবে।তারপর আপনাকে ফাইনাল সাজেশন দিতে হবে। তারপর স্বয়ংক্রিয় ভাবে এক টি ডাউনলোড ফাইল আপনার সামনে চলে আসবে ।সেখানে আপনাকে ক্লিক করে আপনার রিসিভ টা ডাউনলোড করতে হবে ।এখন আপনার শেষ  কাজ হবে অফিসের জন্য।

এখন আপনাদের মনে একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে আপনাদের কতদিন সময় লাগবে?

অনলাইন থেকে আপনার আইডি কার্ড সংগ্রহ করার এই  সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া টি কমপ্লিট করার পরে আপনার কার্ড টি সাধারণ পিরিয়ডের জন্য আবেদন করলে তিন থেকে দশ কার্য দিবসের মধ্যে ই সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। এবং আপনার মোবাইলে একটি মেসেজ যাবে।যখন আপনার মোবাইলে এক টি মেসেজ যাবে তখন বুঝতে পারবেন আপনার কাজ টি সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

আপনার মোবাইলে যখন কনফারমেশন মেসেজ টি যাবে তখন আপনি আপনার ইউজার নেম এবং আপনার পাসওয়ার্ড টি দিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট টি তে লগইন করে আপনার আইডি কার্ড টি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।এই কাজটি মোটামুটি জটিল এবং সেনসিটিভ, তাই এই কাজ টি করার পূর্বে অবশ্যই আপনাকে ভালো ভাবে সব অপশন এবং সেকশন বুঝে নিতে হবে।

৩.ভোটার নিবন্ধন ফরম এর স্লিপ হারিয়ে গেলে করনীয়। অনলাইন‌ থেকে আপনার আইডি কার্ড সংগ্রহ করুন

আপনাদের কাছ থেকে প্রায় অনেক সময়ই কারণে অকারণে বা নিজের ইচ্ছায় অনুচ্ছায় আপনা দের ভোটার হওয়ার ভোটার নিবন্ধন স্লিপ টি হারিয়ে যায়।যেহেতু ভোটার নিবন্ধন স্লিপ টি একটি কাগজ সেহেতু এটি সহজে ই হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।স্লিপ টি হারিয়ে গেলে আপনারা আইডি নম্বর বা আইডি কার্ড পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। প্রায় আপনাদের মধ্যে অনেকের ই প্রশ্ন থাকে ভোটার নিবন্ধন স্লিপ হারিয়ে ফেলেছি এখন কি করব?নিবন্ধন স্লিপ হারিয়ে এখন কিভাবে এনআইডি নম্বর ও কার্ড পাবো? ভোটার স্লিপ ছাড়া আপনারা আপনাদের আইডি নম্বর পাবেন তবে এর জন্য অবশ্য ই বাড়তি কিছু ঝামেলা আপনাদের পোহাতে হতে হবে সে সম্পর্কে এই আর্টিকেলের এই অংশে আপনাদের জানাবো।

ভোটার হওয়ার সময় আপনারা যখন আবেদন করেন তখন ২ নং নিবন্ধন ফরম টি নিচের অংশ টি আপনাদের কে ছিড়ে দেয়া হয় যাকে বলা হয় দুই নং ভোটার নিবন্ধন স্লিপ। এই স্লিপের ডান পাশে 8 থেকে 9 সংখ্যার একটি ইউনিক নম্বর দেয়া থাকে যেটি কে আপনার স্লিপ নম্বর বলা হয়। কার্ড নাম্বার ,ভোটার নম্বর দিয়ে একজন ভোটারের বিস্তারিত তথ্য দেখতে পাওয়া যায়।

নতুন ভোটারের বিস্তারিত তথ্য যদি দেখতে চাওয়া হয় তবে এন আই ডি নম্বর পাওয়ার জন্য ফর্ম নম্বর ছাড়া আর কোন ভাবে ই তা দেখা সম্ভব নয়। আর দেখা গেলে ও তা অনেক বেশি ঝামেলা পূর্ন একটি বিষয় হয়ে যাবে। সুতরাং ,বোঝা ই যাচ্ছে নিবন্ধন স্লিপ নম্বর টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। দেখা যায় এই গুরুত্বপূর্ণ স্লিপ নম্বর টি হারিয়ে ফেলে এবং প্রয়োজনে সময় ভোগান্তি তে পড়ে যায়। যদি আঠারো বছরের বেশি বয়স হয়েছে কিন্তু এখন এন আইডি কার্ড পান নি তারা আপনার নাম ,পিতা মাতার নাম ,জন্ম তারিখ সহ ১২ সঙ্গার একটি ভোট নম্বর আছে তা দেখতে পারবেন। সেখান থেকে ভোটার নম্বর টি লিখে নিবেন এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে ওই ভোটার নম্বর এর মাধ্যমে এন আই ডি নম্বর বা এন অনলাইন থেকে আপনার আইডি কার্ড সংগ্রহ করুন এভাবেই।

আপনাদের মধ্যে যাদের বয়স ১৮ এর কম যাদের এখনো ভোটার তালিকায় নাম আসে নি যারা এনআইডি কার্ড কিছুই এখনো পান‌ নি এবং নিবন্ধন স্লিপ টি হারিয়ে ফেলেছেন এখন কোন জরুরী কাজে আপনার এ নয় টি নম্বর টি প্রয়োজন সেক্ষেত্রে এই ভোটার দের ক্ষেত্রে এন আইডি নম্বর পাওয়া বিষয় টা একটু জটিল।কারণ এনআইডি নম্বর পাওয়ার জন্য ফর্ম নম্বর বা ভোটার নম্বর কোনটা ই আপনি দিতে পারছেন না সে ক্ষেত্রে আপনাকে আপনার নির্দিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করতে অবশ্যই হবে ।তাদের বলবেন আপনার ভোটার নিবন্ধন স্লিপ হারিয়ে গেছে এবং আপনার তথ্য খুঁজে বের করা করে দেয়ার জন্য অনুরোধ করবেন তাদের কে। কর্মকর্তারা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সার্ভার থেকে আপনার যাবতীয় তথ্য খুঁজে বের করে দেবে তবে প্রসেস টা অনেক টা ই সময় সাপেক্ষ এবং ঝামেলা পোহাতে হতে পারে। যদি ভোটার আইডি তে দেয়া আপনার নামের বানান পিতা-মাতার নামের বানান এবং জন্ম তারিখ সঠিক ভাবে দিতে না পারেন তবে আপনি আপনার ভোটার স্লিপ নম্বর টি খুঁজে নাও পেতে পারেন। এজন্য সকল তথ্য আপনি সঠিক ভাবে বলার চেষ্টা করবেন। যদি উপজেলা থেকে তথ্য গুলো খুঁজে না পান তবে পরবর্তী ভোটার তালিকা আসা পর্যন্ত আপনাকে অবশ্য ই অপেক্ষা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিসে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে আপনি বিস্তারিত আপনার সমস্যা খুলে বলবেন তারা আপনার হাতের ছাপ নিয়ে আপনার আইডেন্টিটি যাচাই করবে তারপর আপনার তথ্য যদি সার্ভারে থেকে থাকে তাহলে আপনার এন আইডি নম্বর লিখে দেবে । সে টি নিয়ে চলে আসবেন সার্ভার থেকে বাকি কাজ উপজেলা থেকে করিয়ে নিতে পারবেন।

নির্বাচন অফিস থেকে যদি আপনার কোন তথ্য তারা দিতে না পারে তাহলে আপনাকে আবার পুনরায় ভোটার হতে হবে।

৪.ভোটার আইডি কার্ড এ জন্মতারিখ সংশোধন। অনলাইন থেকে আপনার আইডি কার্ড সংগ্রহ করুন

ভোটার আইডি কার্ডে অনেক সময় অনেক ভুল তথ্য চলে আসে ।দেখা যায় কখনো কারো নাম ভুল আছে বা কখনো জন্ম তারিখ ভুল আছে ।বাবা মায়ের নাম ভুল আছে ,এছাড়া ও আরো অনেক ভুল হয়। ভোটার আইডি কার্ডে এই ভুল গুলো সংশোধনের জন্য আগে অনেক বেশি ঝামেলা পোহাতে হতো। এখন ভোটার আইডি কার্ডের এই ভুল গুলো কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে তবে কিছু টা জটিল প্রক্রিয়া অবলম্বন করে অনলাইনের মাধ্যমে অনেক টাই সংশোধন করা যায়। আর্টিকেলের এই অংশে আমরা আপনাদের জানাবো ভোটার আইডি কার্ডের জন্ম তারিখ কিভাবে আপনারা সংশোধন করবেন ।ভোটার আইডি কার্ডের জন্ম তারিখ অনলাইন এর মাধ্যমে ও সংশোধন করা সম্ভব।আইডি কার্ডের সকল তথ্যের মধ্যে সাধারণত জন্ম তারিখ সংশোধন করা একটু ঝামেলা পূর্ণ কাজ ।সংশোধন করার জন্য আপনাদের কিছু করণীয় রয়েছে এবং আপনাদের কিছু কাগজপত্রের ও প্রয়োজন হবে।আপনার আইডি কার্ডের জন্ম তারিখ সংশোধন করার জন্য কিছু পদ্ধতি অবলম্বন এবং প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র জমা দিলে ই আপনার আইডি কার্ডের ভুল জন্ম তারিখ সংশোধন দ্রুত করা সম্ভব হতে পারে।যদি আপনার আইডি কার্ডে দেয়া জন্ম তারিখ প্রকৃত পক্ষেই আপনার ভুল তথ্য হয়ে থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে আবেদন করলে সেটি সংশোধন হয়ে আসার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু কেউ যদি স্বার্থ পূরণের জন্য কিংবা কোন অসৎ পথে ব্যবহারের জন্য কোন তথ্য সংশোধন করতে চায় তবে সেই আবেদন বিবেচনা করার পর ও সংশোধন নাও হতে পারে। এমন অনেকে আছেন যারা অসৎ উপায়ে কোন সুযোগ সুবিধা পাওয়ার জন্য ভোটার আইডি কার্ডের জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে বাড়ানো বা কমানোর জন্য আবেদন করে থাকেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা ছাড়াই শুধু আইডি কার্ডের নিবন্ধন সনদ ,কাউন্সিলর এর প্রত্যয়ন পত্র ,কোন স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পাশের সনদ তৈরি করে দাখিল করে দেয় এবং কিছু বছরের পরিবর্তন চেয়ে থাকেন। এই ধরনের আবেদন গুলো সাধারণত সংশোধন হয় না বা অনুমোদন পায় না ।কারণ ,ওই ব্যক্তির দাখিল কৃত কাগজ পত্রের তার জন্ম তারিখ পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ প্রমাণ বহন করে থাকে না।

এনআইডি কার্ড এর সংশোধনের আবেদন দু ভাবে করা যায়।

প্রথমত, উপজেলা নির্বাচন অফিসের দুই নং সংশোধনী ফর্ম টি গ্রহণ করে তা পূরণ করে জমা দানের রশিদ এবং অন্যান্য যে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে সেগুলো আবেদনের পেছনে পিন নাপ করে অফিসে জমা দিতে হয়। দ্বিতীয়ত আপনি ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট রয়েছে সেই ওয়েবসাইট টি তে গিয়ে আপনাদের কে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে রেজিস্ট্রেশন করতে ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড এর প্রয়োজন হবে ।রেজিস্ট্রেশন করা হয়ে গেলে লগইন করে নিতে হবে। লগইন করার পর আপনার প্রোফাইল অপশনে গেলে জন্ম তারিখ সহ যাবতীয় সকল তথ্য দেখা যাবে এবং এই তথ্য গুলো এডিট করা যাবে ।জন্ম তারিখ টি এডিট করে সঠিক জন্ম তারিখ টি লিখে দেবেন এবং আপনি তারপর পরবর্তী ধাপ লেখা অপশনে ক্লিক করবেন ।তারপরের ধাপে যে আপনারা পেমেন্ট সম্পর্কিত তথ্য দেখতে পারবেন। এরপরে ধাপে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে বলা হবে এভাবে সকল ধাপ পার করে আবেদন সাবমিট করতে হবে। আপনার আবেদন টি সাবমিট করা হয়ে গেলে আবেদনের জন্য একটি পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করা যাবে। এবং আপনি সেটা ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিজের কাছে রেখে দিবেন। কখনো অফিসে গিয়ে খোঁজ নিতে হলে আপনারা ওই ডাউনলোড করা ফাইল টি সাথে নিয়ে যেতে পারবেন ।কার্ড সংশোধনের পূর্বে সরকারি কত টাকা ফি প্রদান করতে হবে তা হিসেব করে নেয়া ভালো কারণ সংশোধন ফি সকলের জন্য সবসময় একই হয় না।আইডি কার্ডের ভুল সংশোধন করতে যে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দরকার হয় সেই সকল কাগজপত্র গুলো হল আপনার এস এস সি পরীক্ষার সনদ, আপনার অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের সনদ, বিয়ে হয়ে থাকলে কাবিননামা, স্বামী স্ত্রীর এন আই ডি কার্ড,  সকল ভাই-বোন থেকে থাকলে তাদের এনআইডি কার্ড,পিতা-মাতার উত্তরাধিকারের সনদ, পাসপোর্ট এর কপি যদিও এটি বাধ্যতামূলক নয়, লাইসেন্সের কপি, অবসর ভাতা পেয়ে থাকলে অবসর ভাতা বইয়ের কপি ।আপনার আইডি কার্ডে যদি আপনার জন্ম তারিখে সাধারণ বা সামান্য ভুল হয়ে থাকে তাহলে এসএসসি সনদ অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং সরকারি চাকরিজীবী হলে সার্ভিস বইয়ের কপি দিয়ে আবেদন করলেই হয়ে যাবে। পরবর্তীতে যদি আরো কোন কাগজপত্র চাওয়া হয় তাহলে সে কাগজপত্র গুলো জমা দিয়ে দিতে হবে। এত কাগজপত্র এবং আবেদন করার পরও দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তারা আপনার আবেদনটি সুপারিশ করার আগে তদন্ত করতে পারে তদন্তের রিপোর্ট এবং দাখিলকৃত কাগজপত্র গুলো পুনরায় পর্যালোচনা করার পরে আপনার আইডি কার্ডের ভুল টি সংশোধন করা হবে কিনা সেজন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।আবেদন টি অনুমোদন বা বা তিল বা আরো কাগজপত্র চেয়ে আবেদনের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তন করা হয় সে ক্ষেত্রে আবেদনের সাথে আপনি যে মোবাইল নম্বরটি দেবেন আপনার সেই মোবাইল নম্বর টি তে মেসেজের মাধ্যমে আপনাকে সকল তথ্য জানিয়ে দেয়া হবে।

আর্টিকেল সম্পর্কিত প্রশ্ন - উওর

১.প্রশ্নঃ আইডি কার্ড কি অনলাইনে দেখা সম্ভব?

উত্তরঃ হ্যাঁ সম্ভব।

২.প্রশ্নঃ ভোটার স্লিপ হারিয়ে গেলে পাওয়া সম্ভব?

উত্তরঃ কিছু ঝামেলা হতে পারে তবে পাওয়া সম্ভব।

৩. প্রশ্নঃ ভোটার আইডি কার্ড এর জন্মতারিখ সংশোধন করা সহজ?

উত্তরঃ জন্মতারিখ সংশোধন করা তুলনামূলক জটিল।

৪. প্রশ্নঃ পুনরায় ভোটার আইডি কার্ড এর জন্য আবেদন করা সম্ভব? 

উত্তরঃ হ্যাঁ সম্ভব।

লেখকের মন্তব্য

অনলাইন থেকে আপনার আইডি কার্ড সংগ্রহ করুন এই আর্টিকেল টি লেখা হয়েছে ভোটার আইডি কার্ড সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য নিয়ে। ভোটার আইডি কার্ড একজন নাগরিকের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ডকুমেন্ট। কোন দেশে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য বা নিজের তথ্য প্রমাণের জন্য ভোটার আইডি কার্ড ছাড়া আর কোন কিছু সেভাবে সত্যতা যাচাই করতে পারে না। এই আর্টিকেল টি তে আইডি কার্ড কিভাবে অনলাইনে চেক করবেন থেকে শুরু করে কিভাবে সংশোধন করবেন সেই সম্পর্কে বলা হয়েছে। বর্তমানে অনলাইন এর মাধ্যমে আমরা ভোটার আইডি কার্ড সম্পর্কিত সকল কাজ কোন ঝামেলা পোহানো ছাড়া ই সম্পাদন করতে পারি। তবে এমন অনেক কাজ আছে তা অনলাইনে করতে গেলে ও কিছু টা জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। তাই আপনারা যখন অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সম্পর্কিত কোন কাজ সম্পাদন করবেন তখন আপনারা খুব ভালো ভাবে এবং সতর্কতার সাথে পদ্ধতি গুলো জেনে নিবেন তাহলে আপনাদের ঝামেলা কম পোহাতে হতে পারে। এছাড়াও অনলাইনে টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে অনেক সময় বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করতে দেরি হয় কিংবা ঝামেলা হয় এজন্য ধৈর্য ধারণ করে ভালোভাবে সকল তথ্য দেখে শুনে এবং নিজের তথ্য সঠিক ভাবে প্রদান করে আপনারা অনলাইনে আইডি কার্ড সম্পর্কিত কাজগুলো সম্পাদন করবেন।

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?