The DU Speech https://www.duspeech.com/2022/01/joinalhajari.html

জয়নাল হাজারী, নেতা নাকি গডফাদার!

 

জয়নাল হাজারীর জন্মপরিচয় 

ফেনীর সহদেবপুরে ১৯৪৫ সালের ২৪ আগস্ট জন্মগ্রহণ করে জয়নাল হাজারী।জয়নাল হাজারীর পিতার নাম আব্দুল গণি হাজারী এবং মাতা রিজিয়া বেগম।জয়নাল হাজারীর পরিচয় দিতে গেলে বলতে হয় ১৯৭১ এর রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংসদ সদস্য, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও জয়নাল হাজারীর আরেকটি পরিচয় রয়েছে ফেনীর গডফাদার নামেও তিনি পরিচিত। কয়েকটি আলোচিত বইও জয়নাল হাজারী লিখেছেন ,এছাড়া ফেনীর পত্রিকা হাজারিকা প্রতিদিন পত্রিকার একাধারে প্রতিষ্ঠাতা,প্রকাশক ও সম্পাদকও ছিলেন জয়নাল হাজারী।এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিয়ে করেননি কখনো।কলেজ জীবনে বীজু নামে এক নারীর সাথে প্রণয় সম্পর্কে আবদ্ধ হন জয়নাল হাজারী।তার বিয়ে হয়ে গেলে আর অন্য কোনো নারীর সাথে বিবাহ সম্পর্কে আবদ্ধ হননি জয়নাল হাজারী।




জয়নাল হাজারীর রাজনৈতিক জীবন 


জয়নাল হাজারীর রাজনৈতিক জীবন ছিল বিচিত্র।রাজনৈতিক ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার উভয় দিকেই জয়নাল হাজারী ছিলেন পারদর্শী।ছাত্রাবস্থায় জয়নাল হাজারীর রাজনীতি চর্চা শুরু হয়।ছাত্রাবস্থায় ফেনী কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ছিলেন জয়নাল হাজারী।এরপর বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হন জয়নাল হাজারী।যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পদেও একসময় দায়িত্ব পালন করেছেন জয়নাল হাজারী।১৯৮৪ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন জয়নাল হাজারী। জেলা পর্যায়ের নেতা হয়েও জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে ছিলেন আলোচিত।জাতীয় সংসদনির্বাচনে ফেনী-২ সদর আসন থেকে ১৯৮৬,১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালে তিনবার সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন জয়নাল হাজারী।মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ছিলেন জয়নাল হাজারী। 




আলোচিত-সমালোচিত জয়নাল হাজারী 

রাজনৈতিক জীবনের পুরোটা সময়ই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচিত-সমালোচিত ছিলেন জয়নাল হাজারী।নন্দিত হওয়ার চেয়ে বেশি নিন্দিতই ছিলেন জয়নাল হাজারী। বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জয়নাল হাজারীর প্রথম পরিচয় পাওয়া যায়।১৯৭১ সালে ২ নং সেক্টরের অধীনে রাজনগর এলাকায় সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশমাতৃকা রক্ষায় অবদান রেখেছিলেন জয়নাল হাজারী।১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ফেনীতে সন্ত্রাসের শিকার হয়ে প্রায় ১২০ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর মৃত্যু হয়। এর জন্য প্রতিবারই জয়নাল হাজারীকে সন্দেহ করা হয়।ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক হত্যাকান্ডের পর বিভিন্নভাবে আলোচনায় উঠে আসেন জয়নাল হাজারী।জয়নাল হাজারীর বিরুদ্ধে বিরোধী দল এবং নিজ দলের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগও জানা যায়।এসব নির্যাতন ও হত্যাকান্ডের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকেরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছিল।অনেক মানুষ জয়নাল হাজারীর ভয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। জয়নাল হাজারীর একটি নিজস্ব সন্ত্রাস বাহিনী ছিল 'স্টিয়ারিং কমিটি' নামে।এই কমিটি এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাতো।তবে জয়নাল হাজারী এই স্টিয়ারিং কমিটিকে সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী বলতে অস্বীকার করেছেন।২০১৯ সালে ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়নাল হাজারী বলেন "স্টিয়ারিং কমিটি মানুষের জন্য কাজ করছে।তারা ভালো কাজ করছে।আমার প্রধান শত্রু জামায়াত শীবির।তাদের সঙ্গে লড়াই করে আমাকে বাঁচতে হয়েছে।তারা আমার বিরুদ্ধে অপ-প্রচার করেছে।এর বাইরে আমার আর কিছু জানা নেই।যারা আমাকে বিতর্কিত বলে তারাই বলতে পারবে কেন বলে।"

জয়নাল হাজারী বিভিন্ন সময়ে তোপের মুখেও পড়েছিলেন।২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে ১৬ আগষ্ট রাতে জয়নাল হাজারীর বাসভবনে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। এরপর জয়নাল হাজারী আত্মগোপনে চলে যান।২০০৯ সালে ভারত থেকে দেশে ফেরেন জয়নাল হাজারী কারণ তখন তার নিজ দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আলোচিত বিষয়ে মন্তব্য করে জয়নাল হাজারী সমালোচিত হয়েছেন।২০০০ সালে ঢাকার টিএসসিতে বাঁধন নামে এক নারী লাঞ্চিত হয়।এ ঘটনায় পুরো দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে।এই ঘটনার সাথে জড়িত রাসেল ও তার সঙ্গীদের ফাঁসির দাবি পর্যন্ত করা হয়েছিল।সংসদেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছিল। এসময় জয়নাল হাজারী সবাইকে অবাক করে বলেছিল, তিনি শুধু রাসেল নয়,বাঁধনেরও বিচার চান।এছাড়া জয়নাল হাজারী আলোচিত পরিমনিকান্ড, মেয়র কাদের মির্জার 'সত্যবচন' এবং প্রিন্সেস ডায়নার মৃত্যু নিয়ে এবং মাদার তেরেসার মৃত্যুর ঘটনাকে উপেক্ষা করার বিষয়টি নিয়েও মন্তব্য করেন। এসব বিষয়ে কথা বলার কারণে তিনি অনেক সময় আলোচনায় থাকতেন।


কারাভোগ ও জামিনে মুক্তি 

জয়নাল হাজারীকে ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত ঘোষণা করা হয়।৫টি মামলায় ৬০ বছরের সাজা হয় জয়নাল হাজারীর। ২০০৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করলে ৮ সপ্তাহের জামিন পান।পরে ১৫ এপ্রিল নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে পাঠানো হয় কারাগারে, চার মাস কারাভোগ করার পর ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে জামিনে মুক্তি পান জয়নাল হাজারী। ২০১৯ সালে জয়নাল হাজারীকে আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়। একই বছর জয়নাল হাজারীর চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী ৪০ লাখ টাকা অনুদান দেন।

জয়নাল হাজারী সমালোচিত জীবনের বাইরে লেখকও।জয়নাল হাজারী বলছি, বাধনের বিচার চাই,বাধন আছে বিজু কোথায়?- এই তিনটি গ্রন্থ জয়নাল হাজারীর লেখা।


জয়নাল হাজারীর মৃত্যু 

এই আলোচিত নেতা ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে ৭৬ বছর বয়সে মারা যান।


পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

1 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?