১ বছরেই বয়স বাড়ল ৫ বছর! আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল জালিয়াতি! তোলপাড় ক্রীড়াঙ্গন!
ক্রীড়া প্রতিবেদক:
এক বছরে কারও বয়স ৫ বছর, আর মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে বয়স বেড়ে হয়ে গেল ১৯ বছর! কোনো বিজ্ঞানের জাদুতে নয়, এমন অলৌকিক ও বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে— জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ফুটবল দলে! আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের অনূর্ধ্ব-১৪ এবং অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্টে খেলা কিশোরীরা এক লহমায় পরিণত হয়ে গেল বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া নারী অ্যাথলেটে।
সম্প্রতি শেষ হওয়া আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় নারী ফুটবল প্রতিযোগিতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিয়ে উঠে এসেছে জালিয়াতি ও বয়স নিয়ে নজিরবিহীন কারচুপির মারাত্মক অভিযোগ। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ট্রফি জেতার জন্য বয়স ও নথিপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে দল গঠনের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তোপাড় শুরু হয়েছে ক্রীড়ামহলে।
অনুসন্ধানে উঠে আসা খেলোয়াড়দের বয়সের অসংগতির চিত্রগুলো রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো:
- সিমলা খাতুন: ২০২৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৪ জেএফএ (JFA) কাপ খেলা সিমলা মাত্র ৩৬৫ দিনের ব্যবধানে ২০২৬ সালে কীভাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে মাঠে নামেন? এক বছরের ব্যবধানে একজন ১৪ বছরের কিশোরী কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ১৯+ বছরের তরুণী হয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন ক্রীড়াপ্রেমীরা।
- অনিকা সরেন: মাত্র দুই মাস আগেও যে মেয়েটি ‘অনূর্ধ্ব-১৪ নতুন কুঁড়ি ফুটবল প্রতিযোগিতায়’ মাঠ কঁাপাল, মাত্র ৬০ দিনের ব্যবধানে সেই অনিকা কীভাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেল?
- মোছা: ফরিদা খাতুন: ২০২৫ সালের ‘জাতীয় গোল্ডকাপ অনূর্ধ্ব-১৭’ টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ফরিদার বয়স ২০২৬ সালের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টে দেখানো হয়েছে ২২ বছর! অর্থাৎ মাত্র এক বছরেই খাতায়-কলমে তার বয়স বাড়ানো হয়েছে পুরো ৫ বছর!
একই খেলোয়াড় কীভাবে অত্যন্ত কম সময়ের ব্যবধানে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বয়সভিত্তিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিযোগিতায় খেলার বৈধতা পায়— তা এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল টুর্নামেন্টের বাইলজ বা নিয়ম ভাঙার ঘটনা নয়; বরং এটি নিয়ম মেনে কঠোর পরিশ্রম করা অন্যান্য দলগুলোর প্রতি চরম অন্যায় এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ প্রতারণা।
শুধু একটি ট্রফি বা চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার জন্য যদি এভাবে বয়সের হিসাব ও খেলোয়াড়ের পরিচয় বদলে ফেলা হয়, তবে এই অর্জনের নৈতিক মূল্য কোথায়— তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ক্রীড়া সংগঠকরা।
খেলার সততা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দেশের ক্রীড়া অনুরাগী ও সচেতন মহল থেকে অবিলম্বে এই বয়সসংক্রান্ত অসংগতির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের জোরালো দাবি উঠেছে। একইসঙ্গে অনিয়ম ও ভুয়া তথ্য দাখিলের প্রমাণ মিললে জড়িত কোচ, কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

The DU Speech-এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন, প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়
comment url