নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য: ঢাবির অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা
ঢাবি প্রতিনিধি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি গ্রুপ চ্যাটে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। সম্প্রতি তাঁদের কথোপকথনের কিছু স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও শাস্তির দাবি ওঠার প্রেক্ষিতে তাঁরা এ ক্ষমাপ্রার্থনা করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের নাকিব মুন্সীফ, বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের আশরাফুল ইসলাম শিমুল, ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের আজরাফ রাফিদ এবং ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের জারিফ হাসান। তাঁরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষের (১০৪তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ ক্ষমাপ্রার্থনা বার্তায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের অনাকাঙ্ক্ষিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, নিজেদের অ্যাকাডেমিক জীবন, ক্যারিয়ার ও দৈনন্দিন আলোচনা নিয়ে সহপাঠীদের একটি গ্রুপ চ্যাট চালু করেছিলেন। তবে সেখানে আলোচনার একপর্যায়ে নারী সংক্রান্ত বিষয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, অসংবেদনশীল ভাষা ও জঘন্য আলোচনা করা হয়েছে, যা তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।
কিছু স্ক্রিনশট নিম্নরূপ:
বিবৃতিতে তাঁরা উল্লেখ করেন, তাঁদের এই আচরণে যেসকল নারী শিক্ষার্থী ও সহপাঠী আঘাতপ্রাপ্ত ও অপমানিত বোধ করেছেন, তাঁদের সকলের কাছে এবং সামগ্রিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁরা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কখনো জড়াবেন না বলে অঙ্গীকার করে নিজেদের সংশোধনের একটি সুযোগ চেয়েছেন তাঁরা।
এর আগে গ্রুপ চ্যাটের স্ক্রিনশটগুলো সামনে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন। এ ঘটনায় ক্যাম্পাস অঙ্গনে নৈতিক মূল্যবোধ ও সহনশীল পরিবেশ রক্ষা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।



The DU Speech-এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন, প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়
comment url