ফেসবুক থেকে নিখোঁজ ঢাবি শিক্ষক তাশরিক, স্বস্তির নিঃশ্বাস নেটিজেনদের!



বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাবিপাড়া

ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ যদি আপনার ফিডে শান্তি নেমে আসে, চোখের কোণে স্বস্তির জল জমা হয়, তবে বুঝবেন—প্রকৃতি অবশেষে শান্ত হয়েছে। একসময় যার কনটেন্ট দেখে পাবলিক হাসবে না কাঁদবে বুঝতে না পেরে ‘হাহাপগ’ রিঅ্যাক্টের বন্যা বইয়ে দিত, সেই বিখ্যাত (নাকি কুখ্যাত?) ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তাশরিক-ই-হাবিব অবশেষে ফেসবুক থেকে ‘উধাও’ হয়ে গেছেন!

হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। শুধু তার নতুন ভিডিও আসা বন্ধ হয়নি, মহাকাশ গবেষকদের মতো দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজলেও ফেসবুকে এখন আর তার আইডির কোনো চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছে না।

কী ঘটেছিল সেই ‘ডিজিটাল ট্র্যাজেডিতে’?

যারা গত কয়েক বছর মঙ্গলে ছিলেন, তাদের জন্য একটু ফ্ল্যাশব্যাকে যাওয়া যাক। ড. তাশরিক-ই-হাবিব ছিলেন সেই বিরল প্রজাতির ক্রিয়েটর, যিনি একাধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে লেকচার দিতেন, আবার রাতে ক্যামেরার সামনে এসে ‘দুর্নীতি ও সমাজ সংস্কারের’ নামে এমন সব অদ্ভুত ও হাস্যকর অঙ্গভঙ্গি করে ভিডিও বানাতেন যে, তা দেখে খোদ দুর্নীতিবাজরাও লজ্জায় দুর্নীতি করা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবত!

তার এই ‘মহাকাব্যিক’ অভিনয়ের ঠেলায় সারা দেশজুড়ে ট্রোলের বন্যা বয়ে যায়। তিনি ভাইরাল তো হলেন, কিন্তু সেই ভাইরালের ঠেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মান-সম্মানের ইজ্জতের ফালুদা তৈরি হয়ে যায়।

কর্তৃপক্ষের অ্যাকশন: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শেষমেশ বুঝতে পারে যে, ক্লাসের চেয়ে ক্যামেরার সামনে স্যারের ‘পারফরম্যান্স’ একটু বেশিই রঙিন হয়ে যাচ্ছে। ফলস্বরূপ, তার এই হাস্যকর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কর্মকাণ্ডের জন্য কর্তৃপক্ষ তাকে বড়সড় শাস্তিও দেয়। অনেকে বলছেন, ঢাবি প্রশাসন মূলত তাকে বুঝিয়ে দিয়েছে—"স্যার, ক্লাসরুমটা টিকটক স্টুডিও না!"

আইডি উধাও: নেটিজেনদের নানা থিওরি

বর্তমানে ফেসবুকে সার্চ বারে ‘Tashrik’ লিখলে ফেসবুক জানাচ্ছে—"এই নামে দুনিয়ায় কেউ নাই!" স্যারের এই আকস্মিক ডিজিটাল অন্তর্ধান নিয়ে এলাকায় নানা মুখরোচক গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে:

থিওরি ১ (ডিজিটাল রিহ্যাব): শাস্তি পাওয়ার পর স্যার হয়তো বুঝতে পেরেছেন, ক্যামেরার সামনে চোখ-মুখ বাঁকানোর চেয়ে ক্লাসরুমে গম্ভীর মুখে খাতা কাটাই অনেক বেশি নিরাপদ।

থিওরি ২ (ফেসবুকের অ্যালগরিদমের কান্না): শোনা যাচ্ছে, তার ভিডিওর মান সহ্য করতে না পেরে ফেসবুকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিজেই নাকি কান্নাকাটি করে তার আইডি চিরতরে হাইড করে দিয়েছে।

থিওরি ৩ (গোপন সাধনা): কেউ কেউ বলছেন, স্যার হয়তো আরও ‘উন্নতমানের’ (পড়ুন: আরও মারাত্মক) কোনো কমেডি স্ক্রিপ্ট লিখছেন, যা দিয়ে ভবিষ্যতে আবার কোনো বড় ধামাকা দেওয়া যায়!

ট্রোল পাড়ায় শোকের ছায়া (নাকি আনন্দ?)

স্যারের আইডি খুঁজে না পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দেশের ট্রোলার ও মিমাররা। এক মিমার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, *"তাশরিক স্যার চলে যাওয়ায় আমাদের কনটেন্টের কাঁচামালের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এখন আমাদের কষ্ট করে বুদ্ধি খাটিয়ে মিম বানাতে হচ্ছে, যা আগে স্যারের ভিডিও দেখেই ফ্রিতে পাওয়া যেত!"

তবে সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারীরা বলছেন অন্য কথা। এক পথচারী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, *"যাক বাবা, ফেসবুক স্ক্রল করার সময় হঠাৎ করে স্যারের ওই অদ্ভুত এক্সপ্রেশন দেখে আর চমকে উঠতে হয় না। হার্টের রোগীরা এখন শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন।"

 ড. তাশরিক এখন শুধুই ক্লাসরুমের চার দেয়ালে বন্দি নাকি পর্দার আড়ালে নতুন কোনো ‘ডিজিটাল বোম’ তৈরি করছেন, তা সময়ই বলে দেবে। তবে আপাতত, ফেসবুকের দুনিয়ায় শান্তি বজায় রাখার জন্য নেটিজেনরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এক বালতি ধন্যবাদ দিতেই পারেন!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

The DU Speech-এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন, প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url