সুস্থ, ভদ্র, মেধাবী, এসএসসি পাশ পাত্রী চাই!—ঢাবি শিক্ষার্থীর বিজ্ঞাপনে ঘটকেরা বেকার হওয়ার পথে!
ঢাবি প্রতিনিধি :
দেশে যখন চাকরির বাজারে মন্দা, তখন নতুন করে বিপদে পড়েছেন ঘটক সমাজ। কারণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিজের বিয়ের বিজ্ঞাপন নিজেই ছাপিয়ে ফেলেছেন!
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি বিজ্ঞাপনে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী নিজের পরিচয় দিয়ে জানিয়েছেন তিনি “সুস্থ দেহের অধিকারী, সুশ্রী, ভদ্র ও মেধাবী ছাত্র”। এরপর সরাসরি ঘোষণা—“সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের পাত্রী চাই।”
বিজ্ঞাপনের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো শেষ লাইন। সেখানে বলা হয়েছে, “সদ্য এসএসসি পাশ দ্বীনদার পাত্রী অগ্রাধিকার পাবে।”
এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
এক শিক্ষার্থী বলেন,
“আমরা যেখানে সেমিস্টার ফাইনালের নোট খুঁজে পাই না, সেখানে ভাই সরাসরি জীবনসঙ্গী খুঁজে পেয়েছেন পত্রিকার বিজ্ঞাপনে!”
আরেকজনের মন্তব্য,
“দর্শন বিভাগের ছাত্র বলে কথা! অন্যরা জীবনের অর্থ খোঁজে, উনি জীবনের সঙ্গী খুঁজছেন।”
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের ফটোকপির দোকানগুলো নাকি নতুন ব্যবসার সম্ভাবনা দেখছে। একজন দোকানি বলেন,
“আগে থিসিস বাঁধাই করতাম, এখন মনে হচ্ছে ‘বিয়ে আবেদনপত্র’ প্রিন্ট করার আলাদা প্যাকেজ চালু করতে হবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে হাস্যরস। কেউ লিখেছেন,
“ঢাবিতে ভর্তি হওয়ার পর সবাই বিসিএসের স্বপ্ন দেখে, ভাইয়া দেখছেন বাসর ঘরের স্বপ্ন।”
আরেকজনের মন্তব্য,
“সিভি জমা দিয়ে চাকরি পাওয়া কঠিন, কিন্তু বিজ্ঞাপন দিয়ে পাত্রী পাওয়ার এই আত্মবিশ্বাস কোথা থেকে আসে?”
ঘটক সমিতির এক কাল্পনিক প্রতিনিধি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“এভাবে যদি সবাই নিজের বিজ্ঞাপন নিজেই দেয়, তাহলে আমাদের পেশার ভবিষ্যৎ কোথায়?”
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, দেশে যখন অনলাইন শপিং, অনলাইন ক্লাস, অনলাইন ব্যাংকিং চলছে, তখন “অনলাইন বিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি” আসাটা সময়ের দাবি ছিল।
তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিজ্ঞাপনের জবাবে কতটি বায়োডাটা জমা পড়েছে, তা জানা যায়নি। তবে ক্যাম্পাসের অনেকেই দাবি করছেন—এখন শুধু পাত্রী নয়, বিজ্ঞাপনদাতার আত্মবিশ্বাস নিয়েও গবেষণা হওয়া উচিত!

The DU Speech-এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন, প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়
comment url