‘সুইমিং পুল শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য?’ ঢাবি শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সুইমিং পুলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছে। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের পরিচালক এস. এম. জাকারিয়ার দায়িত্বকালীন সময়ে সুইমিং পুলের ব্যবহারবিধি, সময় বণ্টন এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।


সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুইমিং পুলের কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাধিক মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা এবং সুযোগ-সুবিধা বাস্তব প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অবকাঠামো হয়েও এটি শিক্ষার্থীদের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত ও শিক্ষার্থীবান্ধব হয়ে উঠতে পারেনি।

একজন শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে লিখেছেন, “১০:০০-১১:০০ এক স্লট, ১১:০০-১২:০০ আরেক স্লট। ৪৫ মিনিট পার হলেই মাইকিং করে সবাইকে বের করে দেওয়া হয়।” তার অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের আগেই ব্যবহারকারীদের পুল ত্যাগ করতে বলা হয়, ফলে তারা পূর্ণ সময় সাঁতার কাটার সুযোগ পান না।

আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, “সময় দুই ঘণ্টা বলা হলেও যদি কোনো শিক্ষার্থী ২টায় যায়, তাকে ৩টায় উঠিয়ে দেওয়া হয়। একজন শিক্ষার্থী পুরো দুই ঘণ্টাও পায় না; বাস্তবে মাত্র এক ঘণ্টার মতো সময় ব্যবহার করতে পারে।” তার মতে, প্রচারিত সময়সূচি ও বাস্তব ব্যবহারের সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

এদিকে আরেকজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, “সুইমিং পুল শিক্ষার্থীদের জন্য নয়। এটা সবার জানা উচিত।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে বিরাজমান হতাশা ও বঞ্চনার অনুভূতির প্রতিফলন দেখা যায়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় থাকা সত্ত্বেও সুইমিং পুল ব্যবহারে নানা বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হয়। অনেকের মতে, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অন্যান্য সদস্যদের সুবিধা নিশ্চিত করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয়তা যথাযথ গুরুত্ব পায় না। ফলে এটি ধীরে ধীরে একটি ‘কর্পোরেট ধাঁচের’ সুবিধাকেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করেন, সীমিত অবকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের কারণে কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। তাদের মতে, সকল ব্যবহারকারীর জন্য সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

এ বিষয়ে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের পরিচালক এস. এম. জাকারিয়ার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে শিক্ষার্থীরা সুইমিং পুলের সময়সূচি, ব্যবহারবিধি ও সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত এই অবকাঠামোতে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও প্রয়োজনকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

শিক্ষার্থীদের একটি অংশের দাবি, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক মো. শাজাহান আলীর দায়িত্বকালীন সময়ে সুইমিং পুল ব্যবহারে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক বেশি সুযোগ-সুবিধা পেতেন। তাদের মতে, সে সময় সাঁতারের সময়সূচি ও প্রবেশাধিকার আরও নমনীয় ছিল এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও বেশি দেখা যেত। বর্তমান ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তুলনা করে অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন, এখন সুইমিং পুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা বেড়েছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ সুযোগ সংকুচিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া সুবিধা হিসেবে সুইমিং পুলকে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব, স্বচ্ছ ও সহজপ্রাপ্য করে তুলতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা করছেন শিক্ষার্থীরা।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

The DU Speech-এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন, প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url