The DU Speech https://www.duspeech.com/2022/08/jonmastomi-puja-poddhoti.html

জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি ২০২২

 জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি অনেকেই জানতে চান।  জন্মাষ্টমী পুজা পদ্ধতি জানাবো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত ওয়েবসাইটের আজকের আর্টিকেলে। জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি এবং জন্মাষ্টমী নিয়ে বিস্তারিত জানতে আর্টিকেলটি আপনার জন্য সহায়ক হবে বলে আশাবাদী।  

আর্টিকেল সূচীপত্র 

  1. জন্মাষ্টমী ২০২২ কি? 
  2. শুভ জন্মাষ্টমী বাংলা কত তারিখ ২০২২?
  3. জন্মাষ্টমী ২০২২ পূজার উপকরণ কি কি?
  4. শুভ জন্মাষ্টমী পূজা করার পদ্ধতি কেমন?
  5. জন্মাষ্টমী কিভাবে পালন করতে হয়?
  6. শুভ জন্মাষ্টমী পালনের নিয়ম কানুন কি কি?
  7.  জন্মাষ্টমী ২০২২,২০২৩,২০২৪,২০২৫ সালের কত তারিখ?
  8. শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে শোভা যাত্রা 
  9. ১৮ নাকি ১৯ আগস্ট শুভ জন্মাষ্টমী?
  10. লেখকের মন্তব্য 

১. জন্মাষ্টমী কি ২০২২ | জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি 

জন্মাষ্টমী 'কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী' নামে পরিচিত। এছাড়াও জন্মাষ্টমী কৃষ্ণাষ্টমী, গোকুলাষ্টমী, অষ্টমী রোহিণী, শ্রীকৃষ্ণজয়ন্তী ইত্যাদি নামেও পরিচিত।  শ্রী কৃষ্ণের আগমন উপলক্ষে জন্মাষ্টমী পালন করা হয়। জন্মাষ্টমী এর এই দিনে ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার হয়েছিল। তাই হিন্দু ধর্মালম্বীদের নিটক শুভ জন্মাষ্টমী অত্যন্ত আনন্দের ও গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই দিন আনন্দে উৎসবে মেতে উঠেন হিন্দু ধর্মালম্বীরা।
২০২২ সালে জন্মাষ্টমী পালন করা হবে  ধর্মালম্বীদের এই অনুষ্ঠানে বিশেষ বিশেষ আয়োজন থাকে। সকল সনাতন ধর্মপ্রাণ মানুষরা নানা উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালন করে থাকে জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠানটি।
আপনারা পড়ছেন জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি  

২. শুভ জন্মাষ্টমী বাংলা কত তারিখ ২০২২?  জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি 

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বাংলাদেশের সরকারি ছুটি ১৮ তারিখ। তবে অনেকেই 19 তারিখেও শুভ জন্মাষ্টমী পালন করে থাকে। 
হিন্দু পঞ্জিকা মতে সৌর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টম তিথিতে যখন রোহিনী নক্ষত্রের আবির্ভাব হয় ঠিক তখন জন্মাষ্টমী পালিত হয়। উৎসবটি গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে প্রতিবছর মধ্য আগস্ট মাস থেকে মধ্য সেপ্টেম্বরের মাসের মধ্যে কোন এক সময় নির্ধারিত হয়। শ্রীকৃষ্ণের জীবনের যে সকল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন যেমন গান বা কীর্তন ,গীতিনাট্য ,নাট্য যাত্রা ইত্যাদি এর মাধ্যমে রাসলীলা, কংস বধ ইত্যাদি কর্মকাণ্ড উপস্থাপন করা হয়ে থাকে।
শুভ জন্মাষ্টমী নিয়ে পন্ডিতগণ একমত হতে পারেননি। অনেকে মনে করেন 18 আগস্ট শুভ জন্মাষ্টমী পালিত হবে আবার অন্যান্যরা মনে করেন ১৯ আগস্ট শুভ জন্মাষ্টমী পালিত হবে। 
আপনারা পড়ছেন জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি  

৩. জন্মাষ্টমী পূজার উপকরণ  | জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি 

জন্মাষ্টমী পূজার উপকরণ নিয়ে এবার আমরা আপনাদের সাথে সহজ আলোচনা করব। কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ব্রত বাংলার হিন্দু সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্রতগুলির একটি অন্যতম। বাংলার হিন্দু সমাজ বিশেষ করে বৈষ্ণব ধর্মালম্বীরা অর্থাৎ নারী পুরুষ জাগতিক মঙ্গল কামনা এবং অশুভ অকল্যাণ দূর করার জন্য এই ব্রত পালন করে থাকে। সাধারণত জন্মাষ্টমী এর জন্য যে ব্রত পালন করা হয় তা ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষে জন্মাষ্টমী তিথিতে পালন করা হয়ে থাকে।
জন্মাষ্টমী পূজা বা ব্রত করার জন্য যে সকল উপকরণ দরকার তা হল- 
  • ফুল
  • আতপ চাল
  • ফলের নৈবেদ্য
  • তুলসী পাতা
  • দূর্বা
  • ধুপ
  • দ্বীপ
  • পঞ্চগব্য
  • পঞ্চগুঁড়ি
  • পাট
  • বালি
  • পঞ্চবর্ণের গুঁড়ো
  • মধু পর্কের বাটি
  • আসন-আঙ্গুরি
জন্মাষ্টমী পূজার উপকরণ হিসেবে এগুলো যথেষ্ট। জন্মাষ্টমী পূজার এই উপকরণ গুলো সংগ্রহ করে তারপরে ব্রত বা পূজা পালন করা উচিত। জন্মাষ্টমী পূজার সম্পূর্ণ উপকরণ এখানে আমরা আলোচনা করেছি।
আপনারা পড়ছেন জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি  

৪. জন্মাষ্টমী পূজা করার পদ্ধতি 

জন্মাষ্টমী পূজার পদ্ধতি দুইটি ভাগে বিভক্ত। জন্মাষ্টমী পূজার প্রথম ভাগে আপনাকে বেশ কিছু পূজার উপকরণ সংগ্রহ করতে হবে। জন্মাষ্টমী পূজার পদ্ধতি সম্পূর্ণ করতে প্রথম ধাপে আপনাকে জন্মাষ্টমী পূজার যে সকল উপকরণ সংগ্রহ করতে হবে সেগুলো হল- ফুল, আতপ চাল, ফলের নৈবেদ্য, তুলসী পাতা, দুর্বা, ধূপ, দীপ, পঞ্চগব্য, পঞ্চগুড়ি, পাট, বালি, পঞ্চবর্ণের গুঁড়ো, মধুপরকের বাটি ,আসন-অঙ্গুরী ইত্যাদি উপকরণ সংগ্রহ করতে হবে।
জন্মাষ্টমী পূজা করার পদ্ধতি এর দ্বিতীয় অংশে জন্মাষ্টমী ব্রতের সারা দিন উপবাসি থেকে উপকরণগুলো দিয়ে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পূজা করতে হয় ব্রত ভঙ্গের পর বা উপবাস ভঙ্গের পর নিরামিষ আহার গ্রহণ করতে হয়।
আপনারা পড়ছেন জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি  

৫. জন্মাষ্টমী কিভাবে পালন করতে হয়!  | জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি 

জন্মাষ্টমী কিভাবে পালন করতে হয় সম্পর্কে এবার আমরা আপনার সাথে আলোচনা করব। হিন্দু ধর্মালম্বী বিশ্বের শত বৈষ্ণবদের কাছে জন্মাষ্টমী খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎসব বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। জন্মাষ্টমী এর অনুষ্ঠান বা উৎসব বিভিন্নভাবে উদযাপন করা হয়ে থাকে। যেমন- 
  • ভগবত পুরাণ অনুযায়ী নৃত্য । ভগবত  পুরানে যেভাবে বর্ণনা করা আছে সেভাবে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে নৃত্য এর আয়োজন করা হয়।
  • রাসলীলা বা কৃষ্ণলীলা। রাস নীলা বা কৃষ্ণ লীলা কে অনেকে অভিনয়ের মাধ্যমে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে অভিনীত করে থাকে।
  • মধ্যরাত্রে শ্রীকৃষ্ণের জন্মের মুহূর্তে ধর্মীয় গীত গাওয়া। মধ্য রাত্রের ধর্মীয় এই গীতকে অনেকে কীর্তন বলে থাকে। শ্রীকৃষ্ণের জন্ম উপলক্ষে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে এই কীর্তন গাওয়া হয়ে থাকে।
  • উপবাস থাকা। এই দিন ধর্মপ্রাণ হিন্দু ধর্মালম্বীরা বিশেষ করে বৈষ্ণব ধর্মালম্বীরা সারাদিন উপবাস থাকে এবং শ্রীকৃষ্ণের জন্মের মুহূর্তে মিষ্টান্ন বিতরণ করে এবং ওই মিষ্টান্ন এর মাধ্যমে উপবাস ভঙ্গ করে।
  • দহি হান্ডি। দহি হান্ডের এই উৎসব প্রক্রিয়া বেশ রোমাঞ্চকর এবং আনন্দদায়ক। বিশেষ করে তামিলনাড়ুতে এই উৎসব বা জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এই উৎসব পালন করা হয়ে থাকে যা উড়িয়াদি নামে পরিচিত। এই অনুষ্ঠানে অনেক উঁচুতে মাখনের হাড়ি রাখা হয় এবং বেশ কিছু ছেলে মিলে মানুষের মতো মানুষ দিয়ে পিরামিড তৈরি করে এবং একজনের উপরে আরেকজন দাঁড়িয়ে বড় একটা পিরামিড তৈরি করার মাধ্যমে ওই উঁচুতে রাখা মাখন এর হাড়ি ভাঙ্গার চেষ্টা করে।
  • শ্রীকৃষ্ণের যাত্রা। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে অনেক সময় গৃহস্থ মহিলারা বাড়ির বিভিন্ন দরজার বাইরে, রান্নাঘরে শ্রীকৃষ্ণের পদচিহ্ন এঁকে দেন যা শ্রীকৃষ্ণের যাত্রা হিসেবে সবাই মনে করে।
আপনারা পড়ছেন জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি  

৬. জন্মাষ্টমী পালনের নিয়ম কানুন 

 | জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি 

জন্মাষ্টমী পালনের নিয়ম কানুন দুই ভাগে বিভক্ত। জন্মাষ্টমী পূজার পদ্ধতি দুইটি ভাগে বিভক্ত। জন্মাষ্টমী পূজার পালনের নিয়ম কানুনের প্রথম ভাগে আপনাকে বেশ কিছু পূজার উপকরণ সংগ্রহ করতে হবে। জন্মাষ্টমী পূজার পদ্ধতি সম্পূর্ণ করতে প্রথম ধাপে আপনাকে জন্মাষ্টমী পূজার যে সকল উপকরণ সংগ্রহ করতে হবে সেগুলো হল- ফুল, আতপ চাল, ফলের নৈবেদ্য, তুলসী পাতা, দুর্বা, ধূপ, দীপ, পঞ্চগব্য, পঞ্চগুড়ি, পাট, বালি, পঞ্চবর্ণের গুঁড়ো, মধুপরকের বাটি ,আসন-অঙ্গুরী ইত্যাদি উপকরণ সংগ্রহ করতে হবে।
জন্মাষ্টমী পূজা পালনের নিয়ম কানুন এর দ্বিতীয় অংশে জন্মাষ্টমী ব্রতের সারা দিন উপবাসি থেকে উপকরণগুলো দিয়ে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পূজা করতে হয় ব্রত ভঙ্গের পর বা উপবাস ভঙ্গের পর নিরামিষ আহার গ্রহণ করতে হয়।
এছাড়াও বেশ কিছু উৎসবের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী পালন করা হয়ে থাকে।জন্মাষ্টমী এর অনুষ্ঠান বা উৎসব বিভিন্নভাবে উদযাপন করা হয়ে থাকে। যেমন- 
ভগবত পুরাণ অনুযায়ী নৃত্য । ভগবত পুরানে যেভাবে বর্ণনা করা আছে সেভাবে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে নৃত্য এর আয়োজন করা হয়।
রাসলীলা বা কৃষ্ণলীলা। রাস নীলা বা কৃষ্ণ লীলা কে অনেকে অভিনয়ের মাধ্যমে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে অভিনীত করে থাকে।
মধ্যরাত্রে শ্রীকৃষ্ণের জন্মের মুহূর্তে ধর্মীয় গীত গাওয়া। মধ্য রাত্রের ধর্মীয় এই গীতকে অনেকে কীর্তন বলে থাকে। শ্রীকৃষ্ণের জন্ম উপলক্ষে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে এই কীর্তন গাওয়া হয়ে থাকে।
উপবাস থাকা। এই দিন ধর্মপ্রাণ হিন্দু ধর্মালম্বীরা বিশেষ করে বৈষ্ণব ধর্মালম্বীরা সারাদিন উপবাস থাকে এবং শ্রীকৃষ্ণের জন্মের মুহূর্তে মিষ্টান্ন বিতরণ করে এবং ওই মিষ্টান্ন এর মাধ্যমে উপবাস ভঙ্গ করে।
দহি হান্ডি। দহি হান্ডের এই উৎসব প্রক্রিয়া বেশ রোমাঞ্চকর এবং আনন্দদায়ক। বিশেষ করে তামিলনাড়ুতে এই উৎসব বা জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এই উৎসব পালন করা হয়ে থাকে যা উড়িয়াদি নামে পরিচিত। এই অনুষ্ঠানে অনেক উঁচুতে মাখনের হাড়ি রাখা হয় এবং বেশ কিছু ছেলে মিলে মানুষের মতো মানুষ দিয়ে পিরামিড তৈরি করে এবং একজনের উপরে আরেকজন দাঁড়িয়ে বড় একটা পিরামিড তৈরি করার মাধ্যমে ওই উঁচুতে রাখা মাখন এর হাড়ি ভাঙ্গার চেষ্টা করে।
শ্রীকৃষ্ণের যাত্রা। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে অনেক সময় গৃহস্থ মহিলারা বাড়ির বিভিন্ন দরজার বাইরে, রান্নাঘরে শ্রীকৃষ্ণের পদচিহ্ন এঁকে দেন যা শ্রীকৃষ্ণের যাত্রা হিসেবে সবাই মনে করে।
আপনারা পড়ছেন জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি  

৭. জন্মাষ্টমী ২০২২, ২০২৩, ২০২৪, ২০২৫ সালের কত তারিখ?  | জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি 

  • ২০২২ সালে জন্মাষ্টমী পালিত হবে-  ১৯ আগস্ট- শুক্রবারে।
  • ২০২৩ সালে জন্মাষ্টমী পালিত হবে - ৬ সেপ্টেম্বর বুধবারে।
  • ২০২৪ সালে জন্মাষ্টমী পালিত হবে ২৬ আগস্ট সোমবারে।
  • ২০২৫ সালে জন্মাষ্টমী পালিত হবে ১৬ আগস্ট শনিবারে ।
  • ২০২৬ সালের শুভ জন্মাষ্টমী পালিত হবে ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবারে।
আপনারা পড়ছেন জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি  

৮. ঢাকার শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা 

 | জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি 

শোভাযাত্রার একটি ইতিহাস আছে। যেহেতু শ্রাবণ বা ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষীয় অষ্টম তিথিতে শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে পন্ডিতরা মনে করে তাই এই দিনটি জন্মাষ্টমী হিসেবে বাংলা অঞ্চলে পালিত হয়। এবং এই জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বাংলাদেশের ঢাকা শহরে ঐতিহ্যবাহী বর্ণাঢ্য এক সোফা যাত্রা আয়োজিত হয়। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এই জন্মাষ্টমীর মিছিল বা জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা নামে পরিচিত এই শোভাযাত্রা। 
ঢাকারই ঐতিহ্যবাহী মিছিল ৪০০ বছরের বেশি পুরন এবং একসময় এটা ঢাকার অন্যতম প্রধান উৎসব গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল যা অত্যন্ত যাক জমকের সঙ্গে পালন করা হয়ে থাকে। ঢাকার জন্মাষ্টমীর মিছিল শুরু হয় ঢাকার আনুষ্ঠানিক নগরপত্তন এর ও পূর্বে। ধারণা করা হয় ১৯৫৫ সালে রাধাষ্টমীর সময় বংশালের নিকট পিরুম মুন্সির পুকুরের পাশে থাকা এক সন্ন্যাসী প্রথম বালক ভক্তদের হলুদ রঙের বাসনে সাজিয়ে একটি মিছিল বের করে। দশ বছর পর একসময় রাধাষ্টমীর পরিবর্তে কৃষ্ণাষ্টমী বা কৃষ্ণের জন্মতিথিতে জন্মাষ্টমীর উৎসবের সময় তাদের মিছিলের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। ১৫৬৫ সালে সর্বপ্রথম জন্মাষ্টমীর মিছিল বের হয়। কালক্রমে ঢাকার নবাবপুরের ধনী ব্যবসায়ীদের নিকট এই মিছিলের দায়িত্ব অর্পণ করা হয় এবং এটা বরাবর মুসলমানদের কাছে গোপালের মিছিল নামেই পরিচিত ছিল।
একসময় ঢাকার এই জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা এতই জনপ্রিয় ছিল যে কলকাতা সহ সারা বাংলার হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে এই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করত। বুড়িগঙ্গায় বিভিন্ন নৌকার সারি বাধা থাকত যারা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নৌকা যোগে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিত। 
জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠানে হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করতে বলে ইতিহাসবিদরা মনে করেন তবে মহরমের মিছিল এমন ছিল না মহররমের মিছিলে হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে অংশগ্রহণ করত না কিন্তু শোভাযাত্রায় হিন্দু মুসলমান সবাই অংশগ্রহণ করত।
জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা এর বিলুপ্তি ঘটে ভারত পাকিস্তানের দেশ বিভাজনের পর থেকে। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাজনের পর দুবছর অনেক কষ্ট বা বাধা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী মিছিল করা হলেও ১৯৫০ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর এই জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী মিছিলটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি যে সকল ধনী ব্যবসায়ী বা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা এই জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তারা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে ঢাকা ছেড়ে কলকাতায় চলে গেলে স্থায়ীভাবে এই ঐতিহ্যবাহী মিছিলটি বন্ধ হয়ে যায়। অনেকে মনে করেন কিছু কিছু ধর্মান্ধ মুসলিমদের আক্রমণের কারণেও এই মিছিলটি বন্ধ হয়ে যায়। যদিও বর্তমানে এই জন্মাষ্টমীর মিছিল আবার পুনরুদ্ধার করা হয়েছে সর্বপ্রথম ১৯৮৯ সালে ঢাকেরশরী মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে নতুন করে জন্মাষ্টমীর মিছিল আয়োজন করা হয়। 
আপনারা পড়ছেন জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি  

৯. ১৮ নাকি ১৯ আগস্ট শুভ জন্মাষ্টমী? | জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি 

শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ভাদ্র মাসে কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পালন করা হয়। হিন্দু ধর্মের ধর্ম গুরুদের মতামত অনুযায়ী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ভাদ্র মাসে কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথিতে রোহিনী নক্ষত্রের অর্ধ রাত্রিতে মধুরায় হয়েছিল। শ্রীকৃষ্ণের জন্মের উপলক্ষেই এই জন্মাষ্টমী পালন করা হয়ে থাকে। ২০২২ সালে অর্থাৎ এ বছরে জন্মাষ্টমী ১৮ আগস্ট ধ্রুবও এবং বৃদ্ধি যৌগের নির্মাণ করছে। ২০২২ সালে ১৮ আগস্ট রাত ৮ বেজে ৪২ মিনিটে বৃদ্ধি যোগ থাকবে। এরপরে ধ্রুব যোগ শুরু হবে এই যোগ অত্যন্ত শুভ বলে মনে করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং এই সময়ে করা যেকোনো কাজের পরিণাম অত্যন্ত ভালো হয় বলে সবাই বিশ্বাস করে।
এ বছরে অর্থাৎ ২০২২ সালে কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ১৮ আগস্ট পালন করা হবে। অষ্টমী তিথিতে ১৮ আগস্ট রাত ৯ টা বেজে ২০ মিনিটে শুরু হবে এবং ১৯ আগস্ট রাত ১০টা বেজে ৫৯ মিনিটে সমাপ্ত হবে। নিশিত পূজা 12:3 মিনিট থেকে নিয়ে বারোটা বেজে ৪৭ মিনিট পর্যন্ত থাকবে মোট সময় ৪৪ মিনিট। পারন ১৯ আগস্ট সকাল ৫টা ৫২ মিনিট পরে হবে।
জ্যোতিষবিদদের এবছর জন্মাষ্টমী নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ কেউ ১৯ আগস্ট আবার কেউ কেউ ১৮ আগস্ট জন্মাষ্টমী বলে দাবি করেছেন। তবে অধিকাংশ মনে করে ১৯ আগস্ট পালন না করে ১৮ আগস্ট জন্মাষ্টমী পালন করা উচিত।
আপনারা পড়ছেন জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি  

১০. লেখকের মন্তব্য |  | জন্মাষ্টমী পূজা পদ্ধতি 

শুভ জন্মাষ্টমী হিন্দুদের বিশেষ করে বৈষ্ণব ধর্মালম্বীদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মউৎসব। বিশেষ করে জন্মাষ্টমীর একটি আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। বাংলা অঞ্চলে জন্মাষ্টমী দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যের সাথে পালন করা হয়ে আসছে। এমনকি জন্মাষ্টমীর এই দিনে হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে উৎসবে অংশগ্রহণ করে থাকে। ইংরেজদের আগমনের পূর্বে বাংলা অঞ্চলে কোন সম্প্রদায় িক হামলা বা আক্রমণ ঘটেনি। কিন্তু ইংরেজরা বাংলা অঞ্চলে শাসন করার পর থেকে হিন্দু মুসলমান দুইটি সম্প্রদায়কে একে অপরের থেকে দূরে সরিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করানোর মাধ্যমে ব্রিটিশরা আমাদের এই ভারত বর্ষ দীর্ঘদিন শাসন করেছে। তাই জন্মাষ্টমীর এই অনুষ্ঠান অসাম্প্রদায়িক বাংলার একটি উৎকৃষ্ট ইতিহাস। যে সকল সম্প্রদায়িক হামলাগুলো তৈরি হয়েছে সবগুলোই ইংরেজি আমলের পরে ঘটেছে বলে ইতিহাসবিদরা মনে করেন এবং এখন পর্যন্ত ব্রিটিশদের তৈরি করা ডিভাইড অ্যান্ড রুলস নিয়মের কারণে মনস্তাত্ত্বিকভাবে এখনো হিন্দু মুসলমানের মধ্যে সংকট তৈরি হয়। 

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?